শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‘নিয়তি’ : ইব্রাহিম হোসেন মুন

প্রতিক্রিয়া

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই মহান পেশা শুরু করতে এখন আর কোনো যোগ্যতা লাগেনা। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে একটা স্মার্ট ফোন হলেই হয়। আমি যখন ছাত্র রাজনীতি করতাম, প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে বেশ কয়েকটি পত্রিকা পড়তাম। পত্রিকা না পড়লে, সেদিন নিজেকে অসমাপ্ত লাগতো। প্রতিদিন নতুন নতুন আপডেট নিজে জানতাম এবং সহযোদ্ধাদের অবহিত করতাম। একজন সাংবাদিক আসলে আগ্রহ নিয়ে ছুটে যেতাম, ছালাম বিনিময় করতাম এবং মনযোগ সহকারে তাদের মুল্যবান কথা শুনতাম। এসব আজ কেন যেন অতীত মনে হয়। স্বনামধন্য সাংবাদিক সমাজ আজ বড়ই অসহায়।

বাংলাদেশে ভূইফোড় সংবাদ কর্মী কত? তা নির্নয় করা আদৌও যাবে কি? এ থেকে পরিত্রানের উপায় কি? আমার জানা নেই। গত ০২.০৬.২০২১ তারিখ আমাকে জড়িয়ে দু,একটি পত্রিকা রিপোর্ট করছেন। প্রকাশিত নিউজের শুধু তথ্যের গড়মিল নয়, হুবহু মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক। প্রতিবাদ আর মামলা দিয়ে কি করব? ইতোপূর্বের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।

ছাত্রজীবন শেষ করে ২০১০ সালে ঠিকাদারি শুরু করেছিলাম। দু,চারটি কাজও করলাম। একদিন সকালে দেখলাম আমার ফার্মের নাম এম এস এন্টারপ্রাইজ কে জড়িয়ে নিউজ হয়েছে। সেই সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত জীবন দর্শন আলোকপাত করেছেন। প্রকাশিত নিউজে লিখেছিলেন আমি এমবিএ পাশ না করেই আইবিএস এ ভর্তি হয়েছি। এমবিএ বিভাগের বাসা দখল করেছি। বিজ্ঞান ভবনের কাজ করেছি নিম্নমানের, ছাত্রলীগের সভাপতি মুনের করা মতিহার হল ভেঙ্গে পড়ছে। আরো অনেক কিছু।

আসল সত্য হল, উল্লেখিত কোনো কাজ আমি করি নাই। যে কাজ করেছি, নিউজে তা প্রকাশ করেন নাই। তখন বুঝি নাই, তাই মামলা করলাম। লেঠেলা, এবার দেখি মানববন্ধন হয়। আন্দোলন হয়, আবার রাতের আধারে হাত ধরে বলে, ভাই ভুল হয়েছে। অকাট্র সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা। মানবিক দিক বিবেচনায় মামলা তুলে নিলাম। এবার দেখি নিউজ হল, আন্দোলনের মুখে মামলা তুলে নিতে বাধ্য হলেন ইব্রাহিম হোসেন মুন। আমি নিজেও বাধ্য হয়ে মহোদয়কে গোপনে ডেকে আমার সি সি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও এবং আমার সাথে তাঁর আকুতি মনতির সকল কল রেকর্ড শুনালাম। রেকর্ডের ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলাম।

তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি আর ঠিকাদারি করব না। আল্লাহর রহমতে, আর ঠিকাদারি করতে হয় নাই। কেমনে যেন অদৃশ্য শক্তি জানতে পেরেছে, সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান স্যার আমার ফার্মের নামে কোটি কোটি টাকার কাজ দিয়েছেন। সাংবাদিক মহোদয় একবারও খোঁজ নিলেন না। অদৌও আমার ফার্মের নামে কোনো কাজ হয়েছে কিনা? যদি খোঁজ নিতেন, তাহলে বোধহয় এমন নিউজ করতেন না। যদি জেনে বুঝে করেন তবে তা ভিন্নকথা। এবারেও প্রকাশিত নিউজে আমার ব্যক্তিগত কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যারা এই বিভ্রান্তি মূলক নিউজটি দেখেছেন আমার এ লেখার পর আপনারাই মূল্যায়ন করবেন।

১। মহোদয় লিখেছেন, আমার ছাত্রজীবন শেষে রেস্টুরেন্ট, ঠিকাদারি এবং জমির ব্যবসা করি? মহাশয় সাহেব এসব ব্যবসা কি বাংলাদেশে অবৈধ?

২। তিনি আরো লিখেছেন, আমি নাকি রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম ২০০৬ সালে, আজগুবি এ তথ্য কোথায় পেলেন? আরে ভাই আমি সভাপতি ছিলাম ২০০৪ থেকে ২০১০ পর্যন্ত।

৩। তিনি আরো লিখেছেন, আমি নাকি যোগ্যতা ছাড়াই আইবিএস এ ভর্তি হয়েছিলাম? তাও নাকি সে সময়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান স্যার এর সুপারিশ নিয়ে; পরবর্তী উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিন স্যার ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার পি.এইচডি প্রোগ্রামের ভর্তি বাতিল করেছিলেন। ডিজিটাল যুগেও নির্বোধরা বুঝেন না সুপারিশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না?। এর পর কি হয়, সে খবর সাংবাদিক মহোদয় জানেন না। এটা বললে ভুল হবে। তিনি আগের খবর জানেন আর বর্তমান টা নয়। জেনে বুঝেই এমন নিউজ করা হয়েছে, কারণ আমি যে ছাত্রলীগ করেছি।

সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিন অন্যায়ভাবে তদন্ত রিপোর্টকে পাশ কাটিয়ে আমার পি.এইচডি প্রোগ্রাম বাতিল করার পর আমি মহামান্য আদালতে রিট করলাম এবং আমার পক্ষে রায় পেলাম। রাবির সে সময়ের মহোদয়গণ তিনবার আপীল করে হেরে গেলেন। এবার বলেন তো, আমার পি.এইচডি প্রোগ্রাম কি বাতিল? নাকি অন্যায়কারিদের মুখোশ উম্মোচিত হয়েছে। আমার ছাত্র জীবনের চারটি বসন্ত নষ্ট করলো মামলা জেতার পর এনিয়ে মানহানি মামলা করলাম। এসব বোধহয় সাংবাদিক মহোদয় জানেন না।

জানা থাকা প্রয়োজন, ঐ সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিন স্যার অত্যন্ত দুর্দিনে, আমরা যখন রাজপথে প্রফেসর এম সাইদুর রহমান খান স্য্রা, প্রফেসর আব্দুস সোবহান স্যার আমার সম্পাদক আয়েন উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন ছাত্র/শিক্ষক গ্রেফতার হলেন, সেই সময়ে মিজান উদ্দিন স্যার নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সব চাইতে দূর্বল আন্দোলন বিবৃতিতে স্বাক্ষর পর্যন্ত করেন নাই। বরং কিংস পাটিতে নাম লিখেছিলেন। আমরা হতাশ হই, কিভাবে এরা উপাচার্য হন। সাম্প্রতিক সময়ে জানা যাচ্ছে, ঐ গ্রুপ থেকে আবার নাকি রাবির উপাচার্য হওয়ার জন্য জোর লবিং করে যাচ্ছেন।

৪। তিনি আরো লিখেছেন, আমি নাকি রাবির বরাদ্দক্তৃ আইবিএস এর বাসার ভাড়া পরিশোধ করিনি! এই অপরাধে আমার বাসা বাতিল করা হয়েছিলো। অবশ্য এর পুর্বে কোনো এক সাংবাদিক লিখেছিলেন আমি নাকি আইবিএস নয় আইবিএ ভবনের বাসা দখল করেছিলাম। যার কোনো অস্তিত্ব রাবিতে নাই। পুর্বেই জেনেছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরধরে আমার পি.এইচডি বাতিল করা হয়েছিলো। সঙ্গত কারণেই আমার ভর্তি বাতিল হওয়ার সাথে সাথেই বরাদ্দক্তৃ বাসাও বাতিল হয়ে যায়। যে কারণে আমি ঐ বাসা থেকে চলে আসি।

৫। তিনি আরো লিখেছেন, আমি নাকি আইবিএস এর সাবেক ওয়ার্ডেন কামরুজ্জামানকে হুমকি দিয়েছিলাম, এনিয়ে থানায় জিডি হয়েছিলো। জিডির ব্যাপার একদম রাইট। তবে সেদিন কি হয়েছিল; মনেপড়ে গেলো সেদিনের ঘটনা, ভর্তি বাতিলের পর রাবির বরাদ্দকৃত বাসায় আনুমানিক রাত ৮টার সময় যাচ্ছিলাম, চাঁদের মিটি মিটি আলোর সাহায্যে দেখতে পেলাম প্রায় ৫০/৬০ গজ দূর থেকে কোনো এক ভদ্রলোক দৌড় দিয়ে পালালেন। আমি আরো দেখতে পেলাম দু’জন লোক ঐ খানেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। আমি ভাবলাম দৌড় দেওয়া ভদ্রলোক হয়তোবা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন, তাই আমি দৌড় দিয়ে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জনের সামনে গেলাম। দেখি দু’জনই আইবিএস এর ফেলো। জানতে চাইলাম, কি হয়েছে? তারা উত্তর দিলো, কামরুজ্জামান স্যার আপনার আসা দেখে দৌড় দিয়ে পালালেন। আমি হাসুম না কান্দুম। পরে জানতে পেলাম, এক দৌড়ে সাবেক উপাচার্য মিজান উদ্দিন স্যার এর বাসায়। অতঃপর থানায় জিডি। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আপনারাই বলেন, কি লিখবে? ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে। তদন্ত প্রতিবেদন হাসবে না কাঁদবে? জিডিতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হলাম। এটাও সাংবাদিক জানেন না। দৌড় দেওয়া ভদ্রলোক নাকি ভর্তি বাতিলের চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। দৌড় দিয়ে পালানো, ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাই না।

৬।তিনি আরো লিখেছেন, আমার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল জরিমানা করেছিল। এটি ছিলো একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। হাস্যকর ব্যাপার, পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে তিনি বললেন, আপনার রান্নাঘরে দেখলাম রক্ষিত পেয়াজের আবরণ মরা তাই ১০ হাজার টাকা জরিমানা। আমি উত্তরে বলেছিলাম, আপনি হয়তবা জানেন না। ভাবিকে ফোন দেন, তিনি জানেন পেয়াজের আবরণ মরা না শুকনা থাকে। ভাবির কাছে কেন জানতে বললাম? এই অপরাধে তিন মাসের জেল দিয়েদিলো। এনিয়ে ব্যাপক আলোড়ন হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমাকে আদালত কর্তৃক সসম্মানে খালাস দেওয়া হয়। মাননীয়রা ভুল স্বীকার করেন। এটাও বোধহয় সাংবাদিক মহোদয় জানেন না।

৭। সর্বোশেষ তিনি আরো লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাবির নিয়োগ প্রক্রিয়ার সহিত আমি নাকি জড়িত! প্রশ্ন জাগে আমি কি রাবির কোনো কর্মকর্তা, শিক্ষক না অন্য কিছু? ভাই আমি কিছুই না। এখানে আমাকে জড়ানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় কি? আমি রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে পারি। অনুরোধ রাখা না রাখা যথাযথ কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। যাদের চাকরি হয়েছে আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নেতাকর্মী বা সমর্থক এবং শিবির-বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত। এদের মধ্যে কেউ কেউ শিবিরের আঘাতে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। নিয়োগকৃতদের মধ্যে অনেকেই আমার সহযোদ্ধা ছাত্রলীগের নেতা কর্মী ছিলেন। এই কারণে হয়তোবা অনেকেই ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে আমার বিপক্ষে প্রোপাকান্ড ছড়াচ্ছে। যেটা মোটেও কাম্য নয়।

লেখক:
ইব্রাহিম হোসেন মুন,
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

admin

Read Previous

Tourism booming most Dubai is international tourist

Read Next

তিন আসনে উপনির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন যাঁরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *