শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অবহেলায় জাতির স্মৃতির আকর

জাতীয় আর্কাইভসে জমা থাকে দেশের সব সরকারি সংস্থা, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তির ঐতিহাসিক তথ্যের রেকর্ড বা নথি। এগুলোকে বলা যায় জাতির স্মৃতির আকর। একটি দেশ বা জাতির অস্তিত্বের বেড়ে ওঠার বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে জাতীয় আর্কাইভস।

তবে বাংলাদেশের জাতীয় আর্কাইভস এ বিষয়টিতে কতটা পারদর্শিতা দেখাতে পারছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন এ–বিষয়ক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, নথি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিতে যতটুকু মনোযোগ দেওয়ার দরকার ছিল, তা হচ্ছে না। এ কারণে পরিস্থিতিটা নাজুক রয়ে গেছে সেখানে। এ ছাড়া সারা দেশের নথির ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ জাতীয় আর্কাইভসের নেই।

আলাপকালে অনেকেই নথি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিষয়টিকে মূলধারার শিক্ষা ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন। আর্কাইভসকে বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও এসেছে।

এমন একটি প্রেক্ষাপটে আজ ৯ জুন দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। আর্কাইভস ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভস বা আইসিএ ২০০৭ সাল থেকে দিবসটি উদ্‌যাপন করে আসছে। এ দিবসের মূল লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আর্কাইভস ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো।

সরেজমিন

করোনা অতিমারির গত দেড় বছরে এই দপ্তরের বিবর্ণ রূপ কেবল বেড়েছে। কখনো বন্ধ, কখনো সীমিত সময়ের জন্য খোলা রেখে চলেছে এখানকার কার্যক্রম। রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এই ভবনটিতে গেলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানালেন করোনাকালে তাঁদের কাজকর্মের তথ্য।

গবেষণাকক্ষটিতে ঢুকে দেখা গেল, একদম ফাঁকা। একটি লোকও নেই। পাঁচতলা যে ভবনটিতে নথি সংরক্ষিত রয়েছে, সেখানে কারও প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। গবেষণা বিভাগের এক কর্মকর্তার কথা, ‘কেউ চাইলে আমরা ফটোকপির ব্যবস্থা করি। পেনড্রাইভে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ওই সময়ে সেখানে উপস্থিত হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

বেরিয়ে এল অন্দর

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি অধিদপ্তরের দুই শরিকের একটি জাতীয় আর্কাইভস। গত কয়েক দিনে একাধিক আর্কাইভস বিশেষজ্ঞ, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাঁদের ভাষ্যে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে জাতীয় আর্কাইভসের অন্দরের ছবি।

তাঁদের ভাষ্য, জাতীয় আর্কাইভসের পাঁচতলা ভবনে প্রচুর নথি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর অনেকগুলোই ফাইল করার ব্যবস্থা হয়নি। আর্কাইভসে মজুত দলিলপত্রের ক্যাটালগ দীর্ঘদিনেও হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। নতুন কোনো নথি এখানে আসার পর ফিউমিগেশন বা জীবাণুমুক্ত

করে সংরক্ষণের নিয়ম। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা করা হয় না।

দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করার জন্য নথি সংরক্ষণের বিকল্প নেই। একজন আর্কিভিস্টই পারেন সচেতনভাবে এ বিষয়ে কাজ করতে।

মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলাম, অধ্যাপক, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এখানকার গবেষণা বিভাগটি গবেষণাবান্ধব নয়। কোনো একটি নথি চাইলে সংশ্লিষ্ট পুরো ফাইল এনে হাজির করা হয়। এ কারণে সেখানে বসে কাজ করার বিষয়ে গবেষকদের আগ্রহ কম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আর্কাইভস ভবন যে বিশেষ নকশায় করা হয়, আমাদের ভবনটিও তেমন নয়। জনবলের সংকট প্রকট। যে কজন আছেন, তাদের প্রশিক্ষণের উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেই। আর্কাইভস–বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সভা নিয়মিত হয় না।

নথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন লেখক, গবেষক মুহাম্মদ লুৎফুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অন্যান্য বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশ নথি ব্যবস্থাপনায় অনেক পিছিয়ে আছে। গবেষকদের চাহিদা মেটানোও সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় আর্কাইভসে তাঁর একাধিকবার প্রবেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় আর্কাইভসের মজুত মূলত কাগজনির্ভর দলিলপত্রের। কিন্তু আমাদের জোর দিতে হবে ফটোগ্রাফিক, ম্যাগনেটিক, ডিজিটাল তথ্য, অডিও-ভিডিওর দলিলপত্র সংগ্রহের দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দলিল ডিজিটালাইজড করা হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় কাজটি মানসম্মত হচ্ছে বলা যাবে না।’

গবেষকদের সব কটি প্রশ্ন নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. সুজায়েত উল্যা সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, নথি সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। সব সরকারি ও বিধিবদ্ধ সংস্থার দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল শেষে নথিটি জাতীয় আর্কাইভসে হস্তান্তর করা। কিন্তু নথি সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার অভাব আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করি, চিঠি লেখি। তারপরও এ ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।’

বিশেষজ্ঞ, গবেষক, অধ্যাপকদের তোলা প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় আর্কাইভস যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য এখানে দরকার আর্কাইভ–বিষয়ক নিজস্ব লোক। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজটি একভাবে চলবে, আর আর্কিভিস্টদের দিয়ে অন্যভাবে। এ বিষয়টা নিয়ে ভাবা জরুরি। আর স্পর্শকাতর বিবেচনায় আর্কাইভস ভবনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না বলে তাঁর ভাষ্য।

যা আছে জাতীয় আর্কাইভসে

ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুসারে জাতীয় আর্কাইভসে থাকা নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে ১৮৫৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালের পূর্ব বাংলা সরকার, পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নথিপত্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার নথিপত্র, জেলা রেকর্ডস, কালেক্টরেট রেকর্ড, ঢাকা সিটি করপোরেশন রেকর্ডস, জেলা পরিষদ রেকর্ডস, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা রেকর্ডস, সিলেট প্রসিডিংস (১৭৪০-১৯৬৭), ঢাকা জেলার পুরোনো ম্যাপ, গুরুত্বপূর্ণ নদীর ম্যাপ, বিভিন্ন অঞ্চলের চরের ম্যাপসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ম্যাপ, সরকারি প্রকাশনা, গেজেট, এস্টেট রেকর্ডস, ১৯৪৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র, রেডিও মনিটরিং রিপোর্ট, প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি।

ব্যক্তিগত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী, মুসলিম লীগ নেতা খান বাহাদুর নওয়াব আলী চৌধুরীর কিছু ব্যক্তিগত নথিপত্র, বিশিষ্ট ঐতিহাসিক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসহাক, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক শরিফুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কে এম মোহসিন, অধ্যাপক আবদুল করিম, অধ্যাপক ইফতেখারুল আউয়াল এবং সাবেক সচিব লতিফুল বারীর নথিপত্র। এখানে আরও রয়েছে দুষ্প্রাপ্য পুস্তকের একটি গ্রন্থাগার। সেখানে আছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পুস্তক।

দরকার বেসরকারি আর্কাইভসও

আর্কাইভ–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় আর্কাইভের পাশাপাশি দরকার বেসরকারি আর্কাইভও। কারণ, বেসরকারি আর্কাইভ গড়ে উঠলে সরকারের ব্যয়ভার লাঘব পায়। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার বেসরকারি আর্কাইভ প্রতিষ্ঠায় উত্সাহ জোগায়। নেদারল্যান্ডস, লাটভিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ওমানসহ বিশ্বের অনেক দেশে আর্কাইভ–বিষয়ক আইনে বেসরকারি আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব, সরকারি আর্কাইভের সঙ্গে বেসরকারি আর্কাইভের সম্পর্ক এবং সহযোগিতার কথা উল্লেখ আছে।

আমাদের দেশেও একাধিক বেসরকারি আর্কাইভ আছে, যা স্থানীয় বা সামাজিক পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যসংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করছে। যেমন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, রাজশাহী হেরিটেজ আর্কাইভস ইত্যাদি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে

বেশ কিছু বেসরকারি আর্কাইভ গড়ে উঠেছে; সেগুলোয় স্বল্প হলেও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা স্মারকের সন্ধান পাওয়া যায়।

চুরি করলে ৩ বছরের জেল

একটি পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভস আইন প্রণয়নের দাবি গবেষকদের প্রায় আড়াই দশকের। এখনো এ বিষয়ে আইন পাস হয়নি। জাতীয় আর্কাইভস পরিচালনা করা হয় ১৯৮৩ সালের একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে। গত রোববার জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভস বিল-২০২১ উত্থাপন করেছেন। বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের কাছে এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো নথি ধ্বংস করা যাবে না এবং প্রতিটি নথি সংরক্ষণ (আর্কাইভ) করতে হবে। সরকারি রেকর্ড আর্কাইভে রাখতে হলে তা ২৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি পুরোনো হতে হবে। ব্যক্তিগত রেকর্ডও আর্কাইভে রাখা যাবে। ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে, এমন ৩০ বছর বা তার বেশি পুরোনো ব্যক্তিগত রেকর্ডও আর্কাইভে সংরক্ষণ করা যাবে।

এতে বলা হয়েছে, আর্কাইভে রাখা রেকর্ড চুরি, নষ্ট বা হ্যাক করলে তিন বছরের জেল ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। রেকর্ড পাচার করলে পাঁচ বছরের জেল এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় রেকর্ডের সফট কপি সংরক্ষণেরও বিধান রাখা হয়েছে, যা অধ্যাদেশে ছিল না। এ ছাড়া অধ্যাদেশে জাতীয় আর্কাইভসে মহাপরিচালকের কোনো পদ ছিল না। খসড়ায় একটি উপদেষ্টা পরিষদ ও মহাপরিচালকের পদ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গবেষক ও তথ্যসেবাগ্রহীতাদের অনলাইন ডিজিটাল সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। গোপন কোনো দলিল না হলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তা পাওয়া যাবে। আর্কিভিস্ট তৈরির জন্য শর্ট কোর্স, ডিপ্লোমা (উচ্চতর ডিগ্রি) পড়ানোর বিষয়টিও এতে স্থান পেয়েছে।

দরকার রেকর্ডস অ্যান্ড আর্কাইভ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের বয়স ৫০ বছর। দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করার জন্য নথি সংরক্ষণের বিকল্প নেই। একজন আর্কিভিস্টই পারেন সচেতনভাবে এ বিষয়ে কাজ করতে।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলো, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিভাগ চালু হয়েছে। কিন্তু একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও রেকর্ডস অ্যান্ড আর্কাইভ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালু করা যায়নি। অথচ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, নোয়াখালী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি ১০০ মার্কসের কোর্স হিসেবে চালু আছে। কোর্সটি যেমন চালু রাখতে হবে, তেমনি এ বিষয়ে নতুন বিভাগ খোলা এখন সময়ের দাবি। ন্যাশনাল আর্কাইভসকেই এ বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।

admin

Read Previous

পৌরসভায় সিইও নিয়োগ, ‘অস্বস্তিতে’ মেয়ররা

Read Next

পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলবে আগামী জুনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *