শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

উদ্যোক্তাদের চেষ্টায় বড় অর্জন

এক দশক আগেও দেশে চায়ের উৎপাদন আটকে ছিল প্রায় ছয় কোটি কেজিতে। এই উৎপাদন দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত চা আমদানি শুরু হয়। বছরে প্রায় এক কোটি কেজি চা আমদানি করতে হতো।

সেই অবস্থা এখন অনেকটাই পাল্টেছে। দেশীয় উৎপাদন দিয়ে যেমন চাহিদা মেটানো হচ্ছে, তেমনি চা আমদানিও কমেছে। আবার পরিমাণে কম হলেও বাড়তে শুরু করেছে রপ্তানি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে চায়ের চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভরতা দেখা যায়। তবে সরকারের তৃতীয় মেয়াদে এসে অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। এমন একটা প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে চা দিবস পালিত হতে যাচ্ছে আজ ৪ জুন। দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, চা শিল্পের প্রসার’।

যেভাবে পরিবর্তন

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে চায়ের উৎপাদন ছিল প্রায় ছয় কোটি কেজি। পরের বছরও উৎপাদন আটকে ছিল ছয় কোটিতে। কিন্তু চাহিদা বাড়তে থাকায় কোম্পানিগুলো চা আমদানি শুরু করে। ২০১০ সালে ৪৩ লাখ কেজি চা আমদানি হয়। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন না বাড়ায় ২০১৫ সালে আমদানি কোটি কেজি ছাড়িয়ে যায়।
চা পানের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেন দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। কেউ বাগান লিজ নিয়ে, কেউবা বিপণনে যুক্ত হন। দেশের ১৮টি বড় শিল্প গ্রুপ যুক্ত হয় চা চাষে। আর বিপণনে যুক্ত হয় চারটি। তাদের সিংহভাগই গত এক যুগে যুক্ত হয়েছে এ খাতে।

আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চা বোর্ডও নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। চা চাষের আওতা বাড়াতে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। ক্ষুদ্র চাষি ও উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে নেওয়া নানা পদক্ষেপ কাজে লাগে। একই সঙ্গে নতুন নতুন জেলায় চা চাষ সম্প্রসারণেও মনোযোগী হয় চা বোর্ড। এর সুফলও পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ছয় কোটি কেজি, ২০১৯ সালে এসে উৎপাদন বেড়ে হয় ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি। আবার একসময় যেখানে চাহিদা মেটাতে কোটি কেজি চা আমদানি হতো, গত বছর তা নেমে এসেছে ছয় লাখ কেজিতে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে চা চাষের এলাকা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২ একর। সে সময় একরপ্রতি ফলন ছিল ৫০১ কেজি। আর ২০২০ সালে চা চাষের এলাকা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার একরে। অনুকূল আবহাওয়ায় ২০১৯ সালে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের মাইলফলক ছুঁয়েছে।

চট্টগ্রামের হালদা ভ্যালী বাগানের মালিকানা পেডরোলো গ্রুপের। এই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদের খান প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভাবনা দেখে উদ্যোক্তারা চা চাষে বিনিয়োগ করেছেন। এখন চায়ের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য চোরাচালান বন্ধসহ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে এই শিল্প প্রসার ঘটবে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা-বাগান।  ছবি: সৌরভ দাশ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা-বাগান। ছবি: সৌরভ দাশ

সমতলে চা–বিপ্লব

গত শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বিশ্বে ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ শুরু হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাবে, এখন বিশ্বের মোট উৎপাদিত চায়ের ৬০ শতাংশ আসছে ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ থেকে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ শুরুই হয়েছে ২০০০ সাল থেকে।

২০০৮ সালেও উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় জেলায় চা চাষ হতো ২ হাজার ১৪৪ একর জমিতে। তখন জেলায় উৎপাদিত হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ ৩৭ হাজার কেজি চা। এক যুগে সেটি আরও চার জেলায় (ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট) বিস্তৃত হয়েছে। উৎপাদনও এখন এক কোটি কেজি ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর উত্তরাঞ্চলে ১ কোটি ৩ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অর্থাৎ ১৯ গুণ বেড়েছে উৎপাদন। আর আবাদি এলাকা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ১৭০ একর। ক্ষুদ্রায়তন উদ্যোক্তা হয়েছেন ৭ হাজার ৩১০ জন। এখন দেশে মোট উৎপাদিত চায়ের প্রায় ১২ শতাংশ আসছে উত্তরাঞ্চল থেকে, এক যুগ আগে যা ছিল ১ শতাংশের কম।

চা–বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, চায়ের চাহিদা বাড়তে থাকায় চা–বাগানে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। এখন চা–শিল্পের প্রসার ঘটাতে হলে বিনা সুদে বা স্বল্প সুদে ঋণ দরকার। তিনি বলেন, চা বিক্রির সময় সরকার ১৫ শতাংশ কর পাচ্ছে, আবার বাগানের বাইরে চা বেচাকেনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। খেলাপি ঋণও কার্যত নেই এই খাতে।

admin

Read Previous

১০টি এসির ৯টিই নষ্ট, গরমে রোগীদের কষ্ট

Read Next

করোনা সন্দেহভাজন অনেক রোগী সাধারণ ওয়ার্ডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *