শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কতটা এগোল ‘রাজরাজেশ্বরী’র শহর

১৮৮৯-৯০ সালে তৎকালীন জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী ময়মনসিংহে গড়ে তুলেছিলেন খাওয়ার পানি সরবরাহব্যবস্থা। এরপর পেরিয়ে গেছে বহু সময়। কিন্তু সেই ব্রিটিশ আমলে পরিকল্পিত পানি সরবরাহব্যবস্থার আওতায় আসা ময়মনসিংহ কতটা এগোল?

নগরবাসী বলছেন, ১৩০ বছর আগে যে শহর সুন্দর ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছিল, সেই শহরে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নয়ন হয়নি। নানা নাগরিক সুবিধার অভাব এবং যানজট, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় নিত্যদিন নাকাল হতে হয় তাঁদের। মহানগরের তিন ভাগের এক ভাগে এখনো পৌঁছেনি সিটি করপোরেশনের সেবা। পুরোনো হলেও ময়মনসিংহ দেশের অনেক শহরের চেয়ে পিছিয়ে আছে।

ময়মনসিংহ বহু পুরোনো পৌরসভা। যাত্রা শুরু ১৮৬৯ সালে। শহরটি সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয় আড়াই বছর আগে। পৌরসভায় ওয়ার্ড ছিল ২১, এখন ৩৩টি। ২২ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভা এখন ৯১ বর্গকিলোমিটারের মহানগর। জনসংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ থেকে হয়েছে সাড়ে ৮ লাখ।

‘লাভ কী হলো’

‘সিটি করপোরেশন হওয়ার পর বেশ খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই আনন্দ ম্লান হতে শুরু করল। ভাঙা রাস্তা ভাঙাই রয়ে গেছে। নগর উন্নয়নের কোনো ছোঁয়াই লাগেনি। তাহলে সিটি করপোরেশন হয়ে লাভ কী হলো!’ এমন খেদোক্তি শহরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভোলানাথ সরকারের।

সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত এলাকাগুলো ঘুরে ভোলানাথের কথার সত্যতা পাওয়া গেল। ওই সব এলাকায় এখনো গ্রামীণ আবহ। কিছু কিছু ওয়ার্ডে নতুন নালা তৈরি ও সড়ক সংস্কার করা হলেও সিটি করপোরেশনের সব নাগরিক সেবা পৌঁছেনি। খোদ সিটি করপোরেশনের হিসাবেই, প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তারা এখনো সেবা পৌঁছে দিতে পারেনি।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বললেন, ময়মনসিংহ বিভাগ হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরও সিটি করপোরেশন হয়েছে। কিন্তু নাগরিক সেবায় এই উত্তরণের ছাপ নেই।

কবে নাগাদ নতুন যুক্ত এলাকায় নাগরিক সুবিধা পৌঁছাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিটি করপোরেশনের নগর-পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস বলেন, নতুন ওয়ার্ডগুলোতে করহার নির্ধারণের কাজ চলছে। কর নির্ধারণ করে এসব এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করা হবে।

‘রাজরাজেশ্বরী’র শহরে পানি সরবরাহ

জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ শহরের মানুষের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে গড়ে তুলেছিলেন রাজরাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস। এটি ছিল ময়মনসিংহ শহরে সুপেয় পানির প্রথম যান্ত্রিক উপায়ের সরবরাহকেন্দ্র। ১৮৯৩ সালে এর দায়িত্ব দেওয়া হয় ময়মনসিংহ পৌরসভাকে। প্রায় ৮০ বছর ধরে ময়মনসিংহ শহরে খাওয়ার পানির প্রধান সরবরাহকেন্দ্র ছিল রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস।

স্বাধীনতার পর শহরে পানি সরবরাহের দায়িত্ব পড়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের ওপর। বর্তমানে ১৬৩ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপের মাধ্যমে নগরের ৫৭ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানির সংযোগ আছে ৭ হাজার ৮৫৫টি।

উঁচু হচ্ছে ভবন, বাড়ছে জমির দাম

বছর বিশেক আগেও ময়মনসিংহ শহরে ছয়তলার বেশি উঁচু ভবন চোখে পড়ত না। সেখানে এখন এদিক-ওদিক তাকালেই চোখে পড়বে ১০, ১২ কিংবা ১৪ তলা ভবন। শুধু তা-ই নয়, ১৮-২০ তলা ভবনও নির্মিত হচ্ছে। বললেন আলোকচিত্র শিল্পী সংসদের (আশিস) সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম মোতালেব।

সিটি করপোরেশনের ২০১৯ সালের হিসাবে, শহরে আটতলা বা ততোধিক উচ্চতার ভবন আছে ৭০টি। তবে বাসিন্দারা বলছেন, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

নগরে নতুন যুক্ত এলাকা কল্পা। সেখানে রয়েছে সীমানাপ্রাচীর ঘেরা ছোট ছোট প্লট। এলাকার বাসিন্দা রাজীব আহমেদ জানালেন, এগুলো ছিল কৃষিজমি। ফল-ফসলের চাষ হতো। কিন্তু সিটি করপোরেশন হওয়ার পর এসব কৃষিজমি প্লট আকারে বিক্রির ধুম পড়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্লট বিক্রি হচ্ছে বেশ চড়া দামে। পাঁচ-সাত বছর আগেও যে জমি প্রতি কাঠা বিক্রি হতো ৩-৪ লাখ টাকায়, তা এখন বিকোচ্ছে ১৮ থেকে ২০ লাখে।

যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট

শহরবাসীকে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট করতে হচ্ছে যানজটে বসে থেকে। গাঙ্গিনারপাড়, নতুনবাজার ও চরপাড়া এলাকায় সকাল থেকে রাত অবধি যানজট লেগে থাকে। পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, বাতিরকল, বদরের মোড়, স্টেশন রোডের যানজট তো আছেই!

যানজটের জন্য নগরবাসী দুষছেন পাটগুদাম, ত্রিশাল ও টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডকে। এ ছাড়া বড়বাজার, ছোটবাজার ও ট্রাঙ্কপট্টি এলাকায় দিনেও ট্রাক থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো চলে। এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। তা ছাড়া শহরের ভেতরের ২২টি রেলক্রসিংকে যানজটের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হয়। দিনে ৫৪টি ট্রেন যাওয়া-আসার ফলে প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়।

যানজট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না কেন? ট্রাফিক পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য, সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান শর্ত পরিকল্পিত সড়ক। কিন্তু শহরের সড়কগুলো অনেক সরু। তার ওপর যানবাহনের চাপ অনেক। তাই যানজট সামাল দেওয়া অনেক কঠিন।

শহরের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। কিন্তু কতটা প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারছে নগরবাসী? সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কেই ওড়ে ধুলাবালু। ধুলায় বিবর্ণ গাছপালার সবুজ পাতা। এমন বায়ুদূষণে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ কোথায়?

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে দূষণের বিষয়টি। বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১০ মার্চ শহরের বায়ুর মান ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’। সিটি করপোরেশন বলছে, ধুলাদূষণ রোধে পাঁচটি গাড়ি দিয়ে প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দিনে দুবার পানি ছিটানো হয়। কিন্তু নগরবাসী বলছেন, এতে ধুলাদূষণ থেকে সুরক্ষা মিলছে না তাঁদের।

বিভাগীয় সদর দপ্তরের কাজ কত দূর

ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর প্রান্তে নতুন বিভাগীয় সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ ছিল ২০১৫ সালের। পরিকল্পনা ছিল, ৪ হাজার ৩৬৬ একর জমিতে অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেই পরিকল্পনা হোঁচট খায়। পরে পরিকল্পনায় কিছুটা রদবদল আনতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণ করা হবে ৯৫০ একর।

মান পড়ছে ঐতিহ্যবাহী স্কুলের

সারা দেশের মানুষের কাছে ময়মনসিংহের পরিচিতি ‘শিক্ষানগরী’ হিসেবে। এ শহরে আছে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী স্কুল। তবে স্থানীয় শিক্ষাবিদেরা বলছেন, কয়েকটি স্কুল তাদের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। আনন্দ মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, আশির দশকের পর থেকেই স্কুলগুলোর মান পড়তে থাকে। শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিদ্যালয়ের জায়গা বাণিজ্যিক ভাড়া দেওয়ায় বেশি মনোযোগ এর অন্যতম কারণ।

গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত গণপরিবহনব্যবস্থা

বহু পুরোনো এই শহরে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো পরিকল্পিত গণপরিবহনব্যবস্থা। রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশাই নগরবাসীর ভরসা। সাড়ে আট লাখ মানুষের এই শহরে টাউন সার্ভিস বাস নেই। ২০০৯ সালে একবার অবশ্য এই সেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু বেশি দিন টেকেনি। ২০১৯ সালে বিআরটিসির দোতলা বাস শহর থেকে পাশের উপজেলাগুলোতে চলাচল শুরু করে। তবে কিছুদিন যেতে না যেতে তা-ও মুখ থুবড়ে পড়ে। বর্তমানে তিন-চারটি দোতলা বাস চলাচল করছে।

বেহাল খাল, ভরাট হচ্ছে জলাশয়

‘জেলখানা খালে শৈশবে মাছ ধরেছি। নৌকায় করে ঘুরেছি। খালের টলটলে পানিতে অনেকে ধোয়ামোছার কাজ করতেন’—বলছিলেন কাশর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা বাহারাম চিশতী। কিন্তু এখন দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির কারণে খালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াই কঠিন। শহরের কাঠগোলা এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাশর, পুলিশ লাইনস, জেলখানা, উত্তরা হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মেশা এই খাল দখলে-দূষণে বিপর্যস্ত। একই অবস্থা শহরের অন্য খালগুলোও।

দখলে দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে নগরের খালগুলো। সরেজমিনে দেখা যায়, মাকড়জানি খাল, গোহাইলকান্দি খাল, মাসকান্দা খালের রুগ্ণ দশা। দুর্গন্ধে খালের পাশে দাঁড়ানোই কঠিন। ক্রমেই ভরাট হয়ে যাওয়া খালের দূষণের প্রভাব পড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদেও।

নগরায়ণের ধাক্কা লাগছে শহরের পুকুরগুলোতেও। সেগুলো ভরাট করে তৈরি হচ্ছে স্থাপনা। ঠিক কয়টি পুকুর ভরাট হয়েছে, এমন পরিসংখ্যান কারও কাছে পাওয়া যায়নি। তবে আমলাপাড়া, ট্রাঙ্কপট্টি, পাটগুদাম ধোপাদিঘি, সেনবাড়ি, টাউন হল, কাঠগোলা, নওমহল, বলাশপুর, গোলপুকুর, আউটার স্টেডিয়াম, খাগডহরসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পুকুর ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে স্থাপনা।

নামকাওয়াস্তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

শহরের ব্যস্ত এলাকা রামবাবু রোড। নতুন বাজার ফলের আড়ত ও ইনডেক্স প্লাজার পাশে জমে থাকে ময়লার স্তূপ। এর পাশ দিয়ে নাক চেপে পথ চলেন পথচারীরা। শুধু এখানে নয়, এমন দৃশ্য চোখে পড়বে শহরের আরও অনেক জায়গায়। শুধু কি তা-ই! প্রায়ই দিনের বেলায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে ছুটে যেতে দেখা যায় বর্জ্যবাহী গাড়ি।

সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা বললেন, ২৪টি আবর্জনাবাহী ট্রাক এবং নিয়মিত ও অনিয়মিত ৭৪৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু শহরে প্রতিদিন যে পরিমাণে বর্জ্য জমা হয়, সে তুলনায় তা নিতান্তই কম।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিনোদন

শহরে সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে অর্ধশতাধিক। কিন্তু নগরে তেমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না। বহুরূপী নাট্য সংস্থার পরিচালক এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহাদাৎ হোসেন খান বললেন, শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দিন দিন ভাটা পড়েছে। সাধারণ মানুষের বিনোদনের সুযোগও কমে আসছে দিন দিন। শহরের ছয়টি সিনেমা হলের মধ্যে তিনটিই বন্ধ হয়ে গেছে।

ত্যাগ স্বীকার করতে বললেন মেয়র

নগরের নানা সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র ইকরামুল হক প্রথমেই বলেন জনবলসংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার কথা। পাশাপাশি নাগরিক সেবার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতেও বললেন নগরবাসীকে। মেয়র বলেন, সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে ভূমিমালিক জায়গা ছাড়তে চান না। ডাস্টবিন কিংবা গণশৌচাগার করতে গেলে বাড়ির মালিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা আপত্তি জানান। এ ছাড়া লোকজন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলেন।

নগর গড়তে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন মেয়র। এর মধ্যে আছে, নতুন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, গণপরিবহন চালু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গণশৌচাগার স্থাপন, খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা, আধুনিক নগর ভবন।

কেরোসিন গিয়েছিল ভুল গন্তব্যে, শহরও কি তাই?

মোগল আমলে মোমেন শাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর ছেলে সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহর জন্য নতুন রাজ্য গড়েন। সেখান থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। একটি ভুলের কারণে নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে যায় ময়মনসিংহ। তখনকার প্রতিষ্ঠান বর্জনলাল অ্যান্ড কোম্পানি নাসিরাবাদ রেলস্টেশনে ২০ টিন কেরোসিনের ফরমাশ দিয়েছিল। তবে সেই কেরোসিন চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেলস্টেশনে। পরে ঘটে আরও কিছু বিভ্রান্তি। এসব বিভ্রান্তি রোধে রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ময়মনসিংহ।

জেলা তথ্য বাতায়নে থাকা এমন তথ্যের কথা উল্লেখ করে শহরের বাসিন্দা কলেজশিক্ষক রাসেল আহমেদ বললেন, ভুল থেকে ময়মনসিংহ নামের জন্ম। তাঁর প্রশ্ন, কেরোসিনের টিনের মতো এখনো ভুল গন্তব্যে ছুটছে না তো নগর-পরিকল্পনা? তা না হলে সোয়া শ বছর আগে যে শহরে রাজরাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস পানি সরবরাহ করত, সেই শহরের বাসিন্দাদের কেন এখনো নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে?

admin

Read Previous

পোড়া বই নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল স্মৃতি

Read Next

ভর্তুকি পাবেন শুধু পুরোনো কর্মীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *