শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনা সন্দেহভাজন অনেক রোগী সাধারণ ওয়ার্ডে

২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে রোগী ও স্বজনেরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও ওয়ার্ডের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। আর সাধারণ ওয়ার্ডে সন্দেহভাজন অনেক করোনা রোগী ভর্তি আছেন, যা নিয়ে উদ্বেগে প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় করোনা ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, বাবা এখন ভালো আছেন, অক্সিজেন লাগছে না। মঙ্গলবার নমুনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার ফল আসেনি। কথা হয় রোগীদের স্বজন মমিনুল ইসলাম, মো. অনিক, মনিরাসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁরাও চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মুনজেরি বেগম নামের এক নারী জানান, তাঁর স্বামী করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন কয়েক দিন থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর মাথার ওপর কোনো ফ্যান নেই। এই গরমে তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন। ওই সময় সাব্বির আহমেদ (২৭) নামের এক রোগী ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে শৌচাগারে যাচ্ছিলেন। তিনি করোনা ওয়ার্ডের পরিবেশ জানাতে গিয়ে বলেন, রোগীর স্বজনদের আনাগোনা বেশি। এক রোগীর একাধিক স্বজন থাকছেন। বিছানায় বসছেন। বাড়ি থেকে আনা খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন। অবস্থা দেখে মনে হয়, এটা কোনো সাধারণ ওয়ার্ড।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা ওয়ার্ডের দৃশ্য। আজ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা ওয়ার্ডের দৃশ্য। আজ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে

রোগীর একাধিক স্বজনের উপস্থিতি সম্পর্কে করোনা ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা নাহিদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা তাঁদের থাকতে নিষেধ করি। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা মানেন না। আমরা তো তাঁদের ওপর জোর করতে পারছি না।’ তিনি আরও জানান, এ ওয়ার্ডে কয়েকজন রোগীর অবস্থা জটিল। একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের দোতলায় বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দেখা যায় রোগীদের লম্বা সারি। তাঁদের মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। পুরুষ রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা (স্যাকমো) শামসুল গণি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন (দুপুর ১২টা) পর্যন্ত আমি ৬৫ জন রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভোগা রোগী।’ পাশের কক্ষে নারীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন স্যাকমো মনিরা খাতুন। তিনি ৫০ জন রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন বলে জানান। তাঁদের বেশির ভাগই ঠান্ডা-জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত।

হাসপাতালের পুরোনো ভবনের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের পাশে বসে আছেন স্বজনেরা। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। দায়িত্বরত সেবিকা পাপিয়া খাতুন বলেন, এ ওয়ার্ডে এখন রোগী আছেন ২৬ জন। অধিকাংশই সন্দেহভাজন করোনা রোগী। তাঁরা করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার মতো। কিন্তু সেখানে শয্যা না থাকায় তাঁদের পাঠানো যাচ্ছে না।

শিশু ওয়ার্ডে শিশুবিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান জানান, শিশু ওয়ার্ড, নবজাতক ওয়ার্ড ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এখন ভর্তি আছে ৫০ শিশু। গত বুধবার এর চেয়ে কম ছিল। করোনা সন্দেহভাজন রোগী আছে, কিন্তু কম। অভিভাবকদের করোনা পরীক্ষা করাতে বলছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁরা করাচ্ছেন না।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপিত হওয়ায় অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা মোটামুটি উন্নত হয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে এটি কার্যকর হবে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের অনেকেই সন্দেহভাজন। তাঁদের করোনার উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে যাঁদের অবস্থা বেশি খারাপ, তাঁদের করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। করোনা ওয়ার্ডে স্বজনদের আনাগোনা বেশি থাকা প্রসঙ্গে আরএমও বলেন, ‘বুধবার আমি নিজে ওয়ার্ডের ভেতরে গিয়ে পাঁচজনকে বের করে নিয়ে এসেছি। লোকজন খুবই অসচেতন। স্বাস্থ্যবিধি কিছুতেই মানতে চায় না।’

admin

Read Previous

উদ্যোক্তাদের চেষ্টায় বড় অর্জন

Read Next

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেওয়া হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *