শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কোন পথে হেফাজত

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধকালে হেফাজতের কর্মীদের তাণ্ডব। ফাইল ছবি

আট বছর আগে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ-সহিংসতায় ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এবার আরেক সহিংসতায় আলোচনায় এল সংগঠনটি। তবে এবার সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে কঠিন সংকটে পড়েছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই সংগঠন।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ করছিল ১৩ দফা দাবিতে। সারা দেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা যোগ দিয়েছিলেন। ওই দিন রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে হেফাজত ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে সরকার আর তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতা দেখায়নি। বরং হেফাজতের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, তাদের বিভিন্ন দাবিও মেনে নিয়েছিল। তবে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ১৭ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির পর সরকার শক্ত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে মামলা, গ্রেপ্তার এবং সরকারি মহলের নানামুখী চাপে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে হেফাজতে ইসলাম। কমিটি বিলুপ্তির পর কার্যত সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ। কিন্তু হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির (বর্তমানে আহ্বায়ক) জুনায়েদ বাবুনগরী ও প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত শাহ আহমদ শফীর সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি ক্রমেই দানা বাঁধছে। দুই পক্ষই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে হেফাজতের নেতৃত্ব এবং এর ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে নানা রকম আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে বিভিন্ন মহলে।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট চিন্তাশীল ব্যক্তিরা বলছেন, নানামুখী বিতর্ক ও চাপে কোণঠাসা অবস্থায় পড়া হেফাজত অদূর ভবিষ্যতে আরও দুর্বল বা এর কার্যক্রম থেমেও যেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর তৎপরতা থেমে যাবে। তাঁদের ধারণা, হেফাজত থেমে গেলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো ইস্যুতে অন্য নামে সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে গবেষণা আছে, এমন চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অনেকে হেফাজতে ইসলামের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মনে করেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রথম আলোকে বলেন, হেফাজতে ইসলাম হচ্ছে একটি প্রতিক্রিয়াশীল অক্ষম ভাবাদর্শ। তাদের ১৩টি দাবির একটি ছাড়া অন্যগুলোর যৌক্তিকতা নেই।

হেফাজতের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন ঘটে। তাঁরা বলছেন, আহমদ শফী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তাঁকে সবাই মান্য করতেন। কোনো বিষয়ে তাঁর কথা অপছন্দ হলেও কেউ মুখ খুলে বলতেন না। কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই।

হেফাজতের কার্যক্রমকে নিবিড়ভাবে দেখছেন—এমন ব্যক্তিদের কারও কারও মূল্যায়ন হচ্ছে, এই পরিবর্তনটা শুরু হয় শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকে। এর প্রকাশ ঘটে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে তাঁর অব্যাহতি নেওয়ার মধ্য দিয়ে।

admin

Read Previous

টিকা পেতে এখনো সরবরাহ চুক্তি করেনি বাংলাদেশ

Read Next

মাতৃমৃত্যু এখন আর স্বাভাবিক ঘটনা নয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *