শুক্রবার ১৫ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রুয়েট বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদের উপহার সামগ্রী বিতরণ রাবির ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী রাবির সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশনা ছয় সপ্তাহ স্থগিত ২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলের তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী রাসিকের সিমলা মার্কেট, বৈশাখী বাজার ও স্বপ্নচূড়া প্লাজার শেয়ার হস্তান্তর রামেক হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষার টাকা জমার কাউন্টারে রোগি ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে রাজশাহীতে মাদক অপরাধ দমনে করণীয় নির্ধারণ সভা গরুর দাম বহুত বেশি ভাইয়া খবর যায় হোক এখানে ছবি আপলোড হবে বুঝছেন মিয়া ভাই মুশফিকের পর সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পরীমনি

ক্ষীণদৃষ্টির ঝুঁকিতে ঘরবন্দী শিশুরা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

করোনাকালে ঘরে থাকা শিশুদের ক্ষীণদৃষ্টি অথবা দূরে দেখার ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশের শিশু চক্ষুবিশেষজ্ঞেরা। সমস্যাটির নাম মায়োপিয়া।

শিশু চক্ষুবিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালে কয়েকটি কারণে শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বাড়তে পারে—১. স্কুল বন্ধ থাকায় ঘরে থাকা। ২. দিনের আলো চোখে কম পড়া। ৩. অনলাইনে বিরতিহীনভাবে দীর্ঘ সময় ক্লাস করা। ৪. মুঠোফোনের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দায় (স্ক্রিনে) সময় বেশি দেওয়া।

চীনে পরিচালিত এক গবেষণায় করোনাকালে শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা উঠে এসেছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মেডিকেল জার্নাল জ্যামা অফথালমোলজিতে গত ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘২০২০-এ ইয়ার অব কোয়ারেন্টিন মায়োপিয়া’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে ছয় থেকে আট বছর বয়সী শিশুদের মায়োপিয়ার হার আগের চেয়ে ১ দশমিক ৪ থেকে ৩ গুণ বেড়েছে।

চীনের শ্যানডং প্রদেশের ফেইচাং এলাকার ১০টি এলিমেন্টারি (প্রাথমিক) স্কুলের ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৫টি শিশুর ওপর তিয়ানজিন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে গবেষণাটি হয়। গবেষকেরা মহামারির সময়ের সঙ্গে আগের পাঁচ বছরের তুলনা করে মায়োপিয়া বাড়ার হার তুলে ধরেন। এতে আরও বলা হয়, ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুরা অনলাইনে বেশি সময় ধরে ক্লাস করলেও তাদের মায়োপিয়া বাড়ার হার কম।

বাংলাদেশে করোনাকালে মায়োপিয়া পরিস্থিতি জানতে একটি গবেষণা শুরু করেছে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু বিভাগ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া গবেষণাটির শিরোনাম ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী থাকার কারণে স্কুলের শিশুদের মায়োপিয়া’।

অনলাইন ক্লাস যেহেতু বন্ধ করা যাবে না, তাই ক্লাসের পর যথাসম্ভব ডিজিটাল ডিভাইস বর্জন করতে হবে। এ ছাড়া ডিভাইস থেকে দূরে শরীর সোজা রেখে যথাযথভাবে বসতে হবে।

ডা. মো. মোস্তফা হোসেন, শিশু চক্ষুরোগ বিভাগের প্রধান, ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডিভাইসের ব্যবহার চোখের দৃষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গত এক বছরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া শিশুদের মধ্যে যারা চশমা ব্যবহার করত, তাদের অনেকের চশমার ‘পাওয়ার’ পরিবর্তন হয়েছে বলে দেখা গেছে। তাঁর মতে, অনলাইন ক্লাস চলার সময় ৩০ মিনিট পরপর ১০ মিনিটের জন্য চোখের বিশ্রাম দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

করোনাকালে শিশুদের চোখের সমস্যা বাড়ার প্রবণতার বিষয়টি জানা যায় হাসপাতালে ঘুরে। অনেক অভিভাবক চোখের সমস্যায় আক্রান্ত সন্তানদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। ৮ মে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে আট বছরের সায়মাকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মা শামীমা আক্তার। সায়মা অনলাইনে ক্লাস করে। তার মা প্রথম আলোকে বলেন, সায়মা মাথাব্যথা ও চোখব্যথায় ভুগছে।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা শিশু রোগীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি দৃষ্টিত্রুটি নিয়ে আসে বলে জানান হাসপাতালের উপপরিচালক ডা.কাজী সাযযাদ ইফতেখার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই শিশুদের মধ্যে শহরের শিশুরাই বেশি। বাইরে কম যাওয়ার কারণে তাদের দূরে দেখার দৃষ্টির ক্ষমতা কমে যায়।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল জানিয়েছে, সেখানকার বহির্বিভাগে এ বছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ২১ হাজার শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২৩৩টি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। ২০২০ সালে সংখ্যাটি ছিল ৬১ হাজার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৫ হাজার কম।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেকর্ড বই ঘেঁটে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম ৪ মাসে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার শিশুর চোখের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে সংখ্যাটি সাড়ে ৪৪ হাজার ছিল, যা আগের বছরের চেয়ে কম। চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনাকালে খুব জরুরি না হলে কেউ হাসপাতালে আসেনি। এটাই রোগী কমার কারণ।

চিকিৎসকেরা বলছেন, মায়োপিয়ার সমস্যাটি চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। তবে শিশুরা যাতে এ সমস্যায় না পড়ে সেজন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা। ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের শিশু চক্ষুরোগ ও স্কুইন্ট (ট্যারা) বিভাগের প্রধান ডা. মো. মোস্তফা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই সময়ে অনলাইন ক্লাস যেহেতু বন্ধ করা যাবে না, তাই ক্লাসের পর যথাসম্ভব ডিজিটাল ডিভাইস বর্জন করতে হবে। এ ছাড়া ডিভাইস থেকে দূরে শরীর সোজা রেখে যথাযথভাবে বসতে হবে। তিনি বলেন, একনাগাড়ে ডিভাইস ব্যবহারে মাথাব্যথা হয় ও চোখে চাপ পড়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রুয়েট বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদের উপহার সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ মঙ্গলবার ফযলভঠ ৫টায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (রুয়েট) শাখা বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শতাধিক দরিদ্র

রাবির ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী

১. ট্রাফিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত ক) সকল প্রকার যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা ও বিনোদপুর গেট দিয়ে প্রবেশ করবে এবং মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে যাবে। শারীরিক প্রতিবন্ধীরা যানবাহন

রাবির সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশনা ছয় সপ্তাহ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কিনা? তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, দুর্নীতি

২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলের তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

রাজশাহী ডেস্ক: অনিয়মিত পত্রিকা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘২১০টি পত্রিকা, যেগুলো আসলে ছাপা হয় না। মাঝে মাঝে

রাসিকের সিমলা মার্কেট, বৈশাখী বাজার ও স্বপ্নচূড়া প্লাজার শেয়ার হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় নির্মিত সিমলা মার্কেটের সম্পূর্ণ এবং বৈশাখী বাজার ও স্বপ্নচূড়া প্লাজার শেয়ার আংশিক হস্তান্তর করা

রামেক হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষার টাকা জমার কাউন্টারে রোগি ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষার টাকা জমা দেয়ার কাউন্টারে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগি ও স্বজনদের। রক্ত পরীক্ষার জন্য একটিমাত্র