শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তবুও অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প

করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, এমন প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার ব্যাপারে সরকার যে কঠোর অবস্থানে ছিল, তাতে ছেদ পড়েছে। চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে এখনই প্রয়োজন নেই, এ রকম অনেক প্রকল্পও এডিপিতে রাখা হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাপে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এ ধরনের অনেক প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে, যেগুলো অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখবে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাবে না এবং বৃহৎ আকারে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করবে না। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প অনুমোদনে ওপর জোর দেওয়া হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাপে অনুৎপাদনশীল নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে নতুন এডিপিতে।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট ৫৯৬টি নতুন প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব প্রকল্প তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রকল্পগুলোর নাম শুনলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। যেমন কারাগার স্থাপন; সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলো ও সার্কিট হাউস নির্মাণ; বাঘ সংরক্ষণ; কর্মসংস্থান ব্যাংকের জন্য নতুন ভবন তৈরি করা ইত্যাদি। এমনকি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের মতো বিলাসী প্রকল্পও রয়েছে এই তালিকায়। যদিও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে তাঁরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প পেয়েছেন। এসব প্রকল্প এডিপিতে ঢোকানোর চাপ ছিল। সেখান থেকে বাছাই করে ৫৯৬টি ঢোকানো হয়েছে। বাছাইয়ের পরও বর্তমান অবস্থায় কর্মসংস্থানহীন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো ঢুকল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কেউ দিচ্ছেন না।

এই করোনাকালে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও নতুন নতুন ভবন নির্মাণ কতটা জরুরি, জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মনজুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এক দুঃসময় পার করছি। অথচ এ রকম অবস্থায়ও স্বাভাবিক সময়ের মতোই এডিপিতে প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে। এখন সারা দেশে কী ধরনের কাজ করা উচিত, সে সম্পর্কে কোনো চর্চাই করা হয়নি বলে মনে হয়। সবকিছু গতানুগতিক ধারায় চলছে।’

মনজুর হোসেন আরও বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে, এমন সব প্রকল্পই এখন এডিপিতে বেশি বেশি করে নেওয়া উচিত। তাহলে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে, প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে এবং কাজ হারিয়ে যাঁরা বেকার ঘুরছেন, তাঁদের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু উন্নয়ন বাজেটে তেমন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কিছু দেখা যাচ্ছে না।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রশাসনিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প ঢুকিয়েছে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে। অথচ বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) রয়েছে, যেখানে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ঢাকার মতো চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগেও এ রকম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুরে বিভাগীয় কমিশনার অফিস কমপ্লেক্স, বিভাগীয় কমিশনারের বাংলো ও সার্কিট হাউস; বাগেরহাটে কালেক্টরেটের নতুন ভবন এবং ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস নির্মাণ ইত্যাদি।

করোনার কারণে সরকারের আয় কমে গেছে। মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট), আয়কর ও শুল্ক আদায় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে যে হারে টাকা দেওয়া দরকার, তা দিতে পারছে না সরকার। সে কারণে যানবাহন ক্রয় ও বিদেশ সফরের মতো ব্যয়ে লাগাম টানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খরচ কমাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মধ্যম অগ্রাধিকার ও নিম্ন অগ্রাধিকার—এই তিন শ্রেণিতে সরকারি কাজ ভাগ করে গত বছরের এপ্রিলে পরিপত্রও জারি করা হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। পরিপত্রে বলা হয়েছিল, অগ্রাধিকার প্রকল্প ছাড়া অন্য প্রকল্পে টাকা খরচ করা যাবে না। তবে কৃষি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প এই পরিপত্রের বাইরে থাকবে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেই সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না। কম অগ্রাধিকারের প্রকল্পও ঢুকে যাচ্ছে।

সরকারি খাতের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান ব্যাংক। যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে ব্যাংকটি গঠন করা হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। অথচ ২৩১ কোটি টাকা খরচ করে এই ব্যাংকের জন্যই কিনা নতুন একটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব আগামী অর্থবছরের এডিপিতে ঢোকানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা অফিস ভবন নির্মাণেও একটি প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, করোনাকালে এসব ভবন নির্মাণ কতটা জরুরি?

এদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক জরিপে উঠে এসেছে, করোনার সময়ে দেশে নতুন করে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। কাজ হারিয়ে অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন। এমন দুঃসময়ে কক্সবাজারে দুটি পাঁচ তারকা হোটেল এবং বরিশালে একটি পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণসহ পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি প্রকল্প রাখা হয়েছে এডিপিতে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আগামী ২০২১–২২ অর্থবছরের এডিপিতে চট্টগ্রামে ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকার একটিসহ অন্তত দশটি প্রকল্প ঢুকিয়েছে।

admin

Read Previous

ট্যানারিমালিকদের সহায়তা দরকার

Read Next

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে এবারও মুক্তি নেই চট্টগ্রামবাসীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *