শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুই ডজন তদন্ত কমিটি, সুপারিশ বাস্তবায়ন নেই

প্রায় প্রতিবছরই আগুনে পুড়ছে সুন্দরবন। গেল দুই দশকে এ বনে অন্তত ২৪ বার আগুন লেগেছে। এতে পুড়ে গেছে বনের কিছু অংশের গাছপালা। সর্বশেষ গত সোমবার লাগা আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় আড়াই একর বনভূমি। আগুন লাগার পর প্রতিবারই ঘটনা তদন্তে করা হয়েছে কমিটি। সেসব কমিটি আগুন লাগার কারণ তুলে ধরে তা বন্ধে কী কী করতে হবে, তার তালিকাও দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও সেসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

বন বিভাগের তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের আগের ২৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুন্দরবনের অন্তত ৮২ একর বনভূমির নানা গাছ, গুল্ম-লতা পুড়ে যায়। ওই সব অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে মাছ শিকারের জন্য আগুন দেওয়া, নাশকতা, অসচেতনতা ও অবহেলায় ফেলে দেওয়া বিড়ি বা সিগারেটের আগুনকে দায়ী করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকে সুরক্ষা দিতে বন ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকালয়–সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বেড়া, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ এবং বনসংলগ্ন মরে যাওয়া নদী-খাল খননের সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এসব সুপারিশের কোনোটিই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

# মাছ ধরার জন্য জায়গা তৈরি করাই আগুন দেওয়ার অন্যতম কারণ।
# আগুন নেভাতে প্রশিক্ষিত জনবল ও যন্ত্রপাতি বন বিভাগের নেই।

সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জ নিয়ে ২০০১ সালে গঠিত হয় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ। তাদের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২০০৬ ও ২০১৬ সালে। এ দুই বছরেই সুন্দরবনে ৯ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে পুড়ে যায় প্রায় ১৭ একর বনভূমি। এ ছাড়া ২০০২ সাল থেকে অধিকাংশ বছরেই এক বা একাধিকবার আগুন লেগেছে।

সুন্দরবনের সব কটি আগুনের ঘটনাই শুষ্ক মৌসুমে। এর মধ্যে ২১ বার আগুন লেগেছে মার্চ, এপ্রিল ও মে—এ তিন মাসে। আর ২৪টি অগ্নিকাণ্ডের অধিকাংশই ঘটেছে বনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকায়। এর সংলগ্ন লোকালয় হলো বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলা। সেখানকার স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগুন দেওয়ার অন্যতম কারণ মাছ ধরা। বনের এ অঞ্চল অপেক্ষাকৃত উঁচু। বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে সেভাবে পানি প্লাবিত হয় না। এ মৌসুমে আগুন দেওয়ার ফলে বনের মধ্যে পড়ে থাকা পাতা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একই সঙ্গে গাছের গোড়া পুড়ে গর্ত তৈরি হয়। বর্ষায় পানিতে ভরে গেলে সেখানে প্রচুর মাগুর, শিং, গজার, শোল ও কৈ মাছ পাওয়া যায়। স্থানীয় অন্তত ৩২ জন এই কথা বলেন।

প্রতিবারই আগুন লাগার পর নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে এগিয়ে আসেন আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, বছর বছর একটি চক্র এখানে আগুন লাগায়। প্রভাবশালী এ চক্র এ প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে। উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। বনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের মো. ফিরোজ হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌয়াল বা বনজীবীরা কখনোই বনে আগুন দেয় না। বনে মাছ ধরে আমাদের জীবন চলে। ঝড়–ঝঞ্ঝায় এই বন বাঁচায় রাখে, এখান থেকেই খাবার আসে। আগুন লাগলে সবচেয়ে ক্ষতি হয় আমাদের। বিভিন্ন সময় বনে পাস-পারমিট (প্রবেশ অনুমতি) বন্ধ করে দেয়। তখন না খেয়ে মরা লাগে আমাদের। কিন্তু যারা আগুন দেয়, তাদের সেভাবে কিছু হয় না।’

admin

Read Previous

দেশে এবার ২০ হাজার পরিযায়ী পাখি কম এসেছে

Read Next

বিজেপির জেতার নেপথ্যে কংগ্রেসের ভুল কৌশল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *