শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ননসেন্স ও সুকুমার

যে কথার কোনো মানে নেই, সে আবার কেমন কথা? লোকে বলে, সব কথা ও কাজেরই একটা মানে থাকা চাই। পুরো পৃথিবী ও সভ্যতা নাকি দাঁড়িয়ে আছে কার্যকারণ সূত্রের ওপর। কারণ ছাড়া অনর্থক কোনো কিছুই ঘটে না।

মানুষ ভাষা আবিষ্কার করলই তো অর্থপূর্ণ ভাব আদান–প্রদানের জন্য। মানুষ কেন এই পৃথিবীতে, তার অস্তিত্বের কারণ, তথা মানে কী—সেটার উত্তর কেউ খোঁজে বিজ্ঞানে, কেউ দর্শনে, কেউবা আবার ধর্মশাস্ত্রে। কোপারনিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন, সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল তো জনমভর এ করেই গেলেন!

এর মধ্যে ‘মানে নেই’ কথাটা এল কী করে? কিন্তু প্রায় দেড় শ বছর আগেই এসেছিল কথাটা। তখন ইউরোপের সাহিত্যে ঘোষণা করা হয়েছিল, সব কথার ‘সেন্স’ থাকতে হবে, এরই বরং কোনো মানে নেই। ননসেন্স বা অসম্ভবের সাহিত্য শুরু হলো তখন থেকে।

অবশ্য তার আগে ননসেন্স যে একেবারেই ছিল না, তা নয়। বিশেষ করে, লোকসাহিত্য, রূপকথা আর পৌরাণিক কথায়। লোককথায় গল্পের গরু আকাশে উড়তে পারে, বিশাল হাতিকে টেনে নিতে পারে একদল পরিশ্রমী পিঁপড়া। রূপকথায় জিয়নকাঠি-মরণকাঠি ছুঁইয়ে রাজকন্যাকে জীবিত-মৃত করা যায়, কিংবা ভোমরার প্রাণ বধে মারা যায় ইয়া বড় রাক্ষস আর তার ভাই খোক্ষসকে। রামায়ণে আছে, হনুমান গন্ধমাদন নামের এক বিশাল পর্বত বয়ে উড়েছিল কয়েক শ মাইল। এ সবই মজাদার, তবে উদ্ভট, অসম্ভব, ননসেন্স।

আধুনিক সাহিত্যে ননসেন্সের কোনো স্থান ছিল না। আধুনিক সাহিত্য মানে বড়দের সাহিত্য। মূলত রহস্য, রোমাঞ্চ আর রোমান্স—বড়দের সাহিত্যভাবনায় এই তিন অনেক বড় জায়গাজুড়ে আছে। তবে এ–ও ঠিক, ছোটদের জন্যও বড়রা লিখেছেন। তবে ঈশপকেই তাঁরা গুরু ধরেছিলেন। তাঁদের লেখায় কল্পনার বিস্তার আছে, কিন্তু সেগুলো ভরপুর নীতিকথা আর হিতোপদেশের।

ব্রিটিশ সাহিত্যিক এডওয়ার্ড লিয়র উনিশ শতকের চল্লিশের দশকে লিখলেন বুক অব ননসেন্স বইটি। এই প্রথম শিশুরা সাহিত্যে পেল এক নিয়মছাড়া দেশের খোঁজ। এমন মোহিনী শিশুসাহিত্য শিশুদের মুক্ত পৃথিবীর ধারণা দেয়। কল্পনায় এমন একটি দেশেই তো আমরা যেতে চাই। আমরা তার নামও দিয়ে দিয়েছি—ইউটোপিয়া।

ননসেন্সকে দুনিয়াভর জনপ্রিয় করার পেছনে সবচেয়ে বড় হাত সম্ভবত লুই ক্যারলের। ১৮৬৫ সালে তিনি অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড নামের যে অদ্ভুত ও উদ্ভট উপন্যাসটি লিখেছিলেন, তা আজও ছেলে-বুড়ো সবার কাছে জনপ্রিয়। নানা কমিকস, কার্টুন আর সিনেমার কল্যাণে সেটার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

ইংরেজিতে যেমন ক্যারল, বাংলায় তেমন সুকুমার রায়। তিনি বাংলা ননসেন্স সাহিত্যের রাজকুমার। তবে শুধু ননসেন্স নয়, সুকুমার তাঁর সাহিত্যে ছোটদের জন্য এমন এক বিচিত্র জগৎ গড়ে গেছেন, তার আনন্দ থেকে যে বঙ্গশিশু বঞ্চিত হয়েছে, দুর্ভাগাই বলতে ভবে তাকে।

পরশু রাতে পষ্ট চোখে দেখনু বিনা চশমাতে,
পান্তভূতের জ্যান্ত ছানা করছে খেলা জোছনাতে।
কচ্ছে খেলা মায়ের কোলে হাত-পা নেড়ে উল্লাসে,
আহ্লাদেতে ধুপধুপিয়ে কচ্ছে কেমন হল্লা সে।

admin

Read Previous

‘ব্যবসায়ীদের এক হাতে দেয়, অন্য হাতে তাদের থেকে নেয়’

Read Next

ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠতে পারে তালেবান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *