শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি, যানজটে চরম ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকার ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে ওই স্থানের উভয় পাশে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ।

বিশেষ করে বর্ষায় এ ভোগান্তি বেড়ে যায়। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহনে বসে থাকতে হয়। গতকাল শুক্রবার দিনভর ওই স্থানে যানজট ছিল। আজ শনিবারও সেখানে যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৬ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। চারটি প্যাকেজে এ প্রকল্পের কাজ চলছে। গোড়াই এলাকার কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেন লিমিটেড।

মূল প্রকল্পে মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা থাকলেও গোড়াইয়ে ছিল না। কাজ শুরুর পর জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় টাঙ্গাইলের শিল্পাঞ্চল হিসেবে মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় তিন বছর আগে গোড়াইয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে মহাসড়কের ওপর প্রাচীর (ভার্টিক্যাল ওয়াল) নির্মাণ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করে গত ১৩ জানুয়ারি ফ্লাইওভারটির মূল কাজ শুরু হয় বলে সূত্রটি উল্লেখ করে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের ওই অংশে জনযান চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার দুপুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের ওই স্থানে যানবাহনের স্থবিরতা। রাস্তার দুই পাশে এক লেন ধরে যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা খোলা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশের উত্তরাঞ্চলের রাস্তা দীর্ঘ সময় ফাঁকা ছিল। কারণ, পূর্ব পাশে যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকলেও এক লেনে রাস্তার ওপর রিকশা, অটোরিকশা ও শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা রাস্তার পারাপারের কারণে পশ্চিম দিকে তা সামনে এগিয়ে যেতে পারছিল না। রাস্তার ভাঙাচোরার কারণে ঢাকার দিকে যানবাহন আধা মিনিট চললেও তিন থেকে পাঁচ মিনিট করে থেমে থাকতে দেখা গেছে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় মুহূর্তের মধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থবির হয়ে পড়ে জনযান চলাচল।

মহাসড়কের পাশের একটি ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অবস্তা এমন অইছে রাস্তায় ১০ সেকেন্ট গাড়ি চললে ১০ মিনিট বন্ধ থাকে। কষ্ট করে মানুষ।’

কুরবান আলী নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, ‘রাস্তায় তিন-চার দিন ধইর‍্যা খুব জাম। বৃষ্টি-বাদলার দিনে যে পর্যন্ত অভারব্রিজের কাম শেষ না অইব হে পর্যন্ত জাম থাকবই।’
গাজীপুরের চন্দ্রাগামী বাসচালক মো. সোহেল রানা বলেন, ‘জামে যে ভাই কী কষ্ট লাইগে। গোড়াই থেকে চান্দরা যাইতে ২০ মিনিটও সময় লাগে না। হেনে যানজটের কারণে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে। সরকার এনে কোনো কামই করতাছে না।’

মহাসড়কে কর্তব্যরত গোড়াই হাইওয়ে থানার নায়েক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা সচল রাখার জন্য কালকে (শুক্রবার) সারা দিন আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। যার কারণে আজকে নতুন পদক্ষেপ নিয়া কাজ করছি। যাতে উল্টো পথে কোনো গাড়ি না যেতে পারে, একের পর এক গাড়ি যেতে পারে সেইভাবে কাজ করছি।’

হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘যানজট ঢাকামুখী কিছুটা আছে। ওভারব্রিজের কাজের কারণে সিঙ্গেল লাইনে গাড়ি চলে। লাইনের রাস্তাও ভাঙাচোরা। আমরা আর রোডসে থেকে রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জন্য ইট ফেলে দিয়েছি। অন্য জায়গায় গাড়িগুলা ৭০ কিলোমিটার গতিতে চললেও এখানে এসে গতি কমে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার হয়ে যায়। এ জন্য পেছনে গাড়ি জমে যানজটের সৃষ্টি হয়।’

মির্জাপুরের কুর্ণী থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বরকত মো. খুরশিদ আলম বলেন, ‘মূল প্রকল্পে গোড়াই ফ্লাইওভার ছিল না, যা রিভাইজড হয়েছে। এ জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে সময় লেগেছে। আর কাজের স্কোপ পাওয়ায় রাস্তার ওপর দুই পাশে ভার্টিক্যাল ওয়াল আগেই করা হয়েছিল। যা করে কাজ এগিয়ে রেখেছি। মূল ফ্লাইওভারের কাজ গত ১৩ জানুয়ারি শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৫৬টি পাইলের মধ্যে ১৪৯টি পাইল শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে অন্যান্য কাজসহ ফ্লাইওভারের ২৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এর পুরো কাজ শেষ হবে।

admin

Read Previous

উইন্ডোজ ১০-ই কি শেষ নাকি উইন্ডোজ ১১ আসছে?

Read Next

মুজিবনগরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন ও গণপিটুনিতে নেশাখোর নিহত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *