শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠতে পারে তালেবান

পাকিস্তানের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রয়াত প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদ গুল এ কথা গর্বের সঙ্গে বলতেন, যখন আফগানিস্তানের ইতিহাস লেখা হবে, তখন এ কথাও নথিভুক্ত থাকবে যে আইএসআই আমেরিকার সহায়তা নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করেছিল। এরপরই তিনি চাতুরী করে বলতেন, পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিকেরা এটিও লিখে রাখবেন যে একদিন এই আইএসআই আমেরিকার মদদ নিয়ে আমেরিকাকেই হারিয়ে দিয়েছিল।

গুলের এমন গর্ব অনুভব করা অমূলক নয়। কারণ, সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে কুখ্যাতি আছে যে উর্দি খুলে ফেলার পর তাঁরা তাঁদের অতীতকে আরও বেশি মহিমান্বিত করে স্মরণ করেন। আফগানিস্তানে মোতায়েন করা সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ও পয়সাকড়িতে সমৃদ্ধ করা এবং এর মাধ্যমে ক্রেমলিনকে আফগানিস্তানের মাটি থেকে তার বাহিনীকে গুটিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া আইএসআইয়ের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি যে দাবি করেছিলেন, তা সর্বান্তঃকরণে সঠিক।

পরবর্তী সময়ে একই প্রক্রিয়ায় এবং একই ব্যক্তিদের কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান আফগানিস্তানে একটি মুজাহিদিন গোষ্ঠী সৃষ্টি করে ও তাদের অর্থায়ন করে। সেই মুজাহিদিন গোষ্ঠীই হচ্ছে তালেবান, যারা খুব দ্রুতই আফগানিস্তান দখল করে এবং আইএসআইএর সহযোগী শক্তি হিসেবে গোটা দেশ শাসন করতে শুরু করে।

তবে গুল ও তাঁর লোকদের সেই সুখকর অনুভূতি বেশি দিন টিকল না। যখন ওসামা বিন লাদেন তালেবানের নতুন ‘ইসলামি সাম্রাজ্যে’ গেড়ে বসলেন এবং সেখান থেকে আমেরিকায় নাইন–ইলেভেনের হামলার নির্দেশ দিলেন। পরে আমেরিকার তীব্র অভিযানে তালেবানের পতন হয় এবং ওসামা বিন লাদেন নির্বাসিত হন পাকিস্তানে। সেখানে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা স্থাপনায় আইএসআইয়ের অধীন ছিলেন তিনি। অ্যাবোটাবাদে সেই নিরাপত্তা স্থাপনাতেই লাদেনকে শনাক্ত করে আমেরিকা এবং ২০১১ সালে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাঁকে হত্যা করে, যা নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করেনি আইএসআই। কিন্তু আফগানিস্তানে দীর্ঘ অভিযানে ক্লান্ত হয়ে পড়ল আমেরিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে পুনর্গঠিত হতে তালেবানকে সহযোগিতা করল আইএসআই। তখন ঘটনা আবার পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাটির পক্ষেই চলে এল। নাইন-ইলেভেন হামলার ২০ বছর পূর্তির মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীকে পুরোপুরিভাবে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আমেরিকা সন্ত্রাসীদের মূলে আঘাত হানতে সংকল্পবদ্ধ, এটি বোঝাতেই ওই তারিখ দিয়ে আমেরিকা প্রতীকী বার্তা দিলেও এ কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তাদের যে ইচ্ছার অভাব রয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে।

আমেরিকা তার আত্মসমর্পণের বিষয়টি ঢাকতে আফগানিস্তানে নিজের উত্তরসূরি বসানোর ব্যবস্থা তৈরি করে যেতে পারে। তবে কোনো অর্জন ছাড়াই দেশটি ছেড়ে আসতে হচ্ছে, এটা তার পরাজয়। তালেবান এখন আরও শক্তিশালী হয়ে আবার কাবুলের ক্ষমতা নিতে প্রস্তুত। হামিদ গুলের ভাষ্য হিসেবে, এটাই হচ্ছে আমেরিকার সহায়তায় আমেরিকাকেই পরাজিত করা। কারণ, পাকিস্তান দুই দশক ধরে মার্কিন সামরিক সহায়তা পেয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলার।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আইএসআইয়ের। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে মোকাবিলা করতে আফগানিস্তানে তার কৌশলগত অবস্থান তৈরি করা জরুরি। ফলে কাবুলে তালেবান শাসন (বা তালেবান প্রভাবিত জোট সরকার) হচ্ছে আইএসআইয়ের জন্য সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। তবে কাবুলে অর্জন নিয়ে উদ্‌যাপন সংবরণ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে হামিদ গুলের উত্তরসূরিদের। কারণ, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কারণে ওয়াশিংটন থেকে বড় সুবিধা গ্রহণের সুযোগ হারাবে পাকিস্তান। আইএসআই জানে, তাদের সহায়তায় তৈরি সশস্ত্র যোদ্ধাদের ওপর সব সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না। ম্যারি শেলির ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে সেটা।

মার্কিন সেনা ফিরে যাবে আর তালেবান নিরাপদে কাবুলের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে, আইএসআই এটাই আশা করে আছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংস্থাটি মনে করতে পারে, কাবুলে সাফল্যের কারণে সংস্থাটির পূর্ববর্তী অপরাধ ক্ষমা করে দেবে পাকিস্তানি তালেবান। তাহলে তো শান্তি ফিরল। মানে, আফগানিস্তান আইএসআইয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে গেল আর পাকিস্তানি তালেবানও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা বন্ধ করে দিল, তারাও আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ দিল ‘প্রকৃত শত্রু’ ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই তীব্রতর করতে।

admin

Read Previous

ননসেন্স ও সুকুমার

Read Next

বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিলেন আব্দুল হান্নান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *