শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার

বন বিভাগের পটুয়াখালীর গলাচিপায় শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) ৬টি বনের কমপক্ষে ২০টি খালে বাঁধ দিয়ে অবাধে মাছ শিকার চলছে। দ্রুত মাছ ধরতে অনেকে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। মাছ ব্যবসায়ীদের এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে চরনজীরের বনে চারটি খালে মাটির তৈরি একাধিক বাঁধ দেখেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিনিধি। তবে বাঁধের এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁরা বলছেন, নদী ও খালের সংযোগস্থলে বাঁধগুলো দিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। এক মাস ধরে এভাবে বাঁধ দেওয়া ও মাছ ধরা চলছে।

এভাবে অবাধে মাছ ধরায় ক্ষতির মুখে পড়ছে শ্বাসমূলীয় বন। ঝুঁকিতে পড়ছে বনের পশুপাখি ও জীববৈচিত্র্য। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও বনায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শ্বাসমূলীয় বনের ভেতরের খালগুলোতে জোয়ার-ভাটার প্রয়োজন রয়েছে। খালগুলোতে বাঁধ দিলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হবে। সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেললে গাছের শ্বাসমূল পানি পাবে না। বনের গাছও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। তাই কোনোভাবেই বনের খালে বাঁধ দেওয়া যাবে না।

গলাচিপা রেঞ্জের চর আগস্তি বিটের আওতায় চরনজীর, চরবাংলা, মাইয়ার চর, দক্ষিণ চরবিশ্বাস, মাছের চর ও আমড়াগাছিয়া—এই ছয় দ্বীপচরে বন বিভাগের শ্বাসমূলীয় বন রয়েছে। তেঁতুলিয়া ও রাবনাবাদ নদ ও নদের মোহনায় এই দ্বীপচরগুলো জেগে উঠেছে। এখানে সংরক্ষিত বনও আছে। ছয়টি চরের বনের আয়তন প্রায় ১৫ হাজার একর।

গত শুক্রবার সরেজমিনে চরনজীরের বনের পূর্ব দিকে খালের উপর আড়াআড়িভাবে মাটির তৈরি একটি বাঁধ দেখা গেল। বনেরই কাটা গাছ পুঁতে বাঁধটি মজবুত করা হয়েছে। দৈর্ঘ্যে বাঁধটি ২০ থেকে ২৫ ফুট, আর চওড়ায় ৩ থেকে ৪ ফুট। খালের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, এই খালের নাম খাসির খাল। এটি এক থেকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ। এলাকার কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী বাঁধটি দিয়েছেন এবং পরে কীটনাশক ছিটিয়ে মাছও ধরেছেন। বাঁধ দেওয়ার কারণে খালটিতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

খাসির খাল থেকে পশ্চিম দিকে এগোলে বনের ভেতর চোখে পড়বে চতলার খাল, সাপের খাল, প্রেমের খাল। এই খালগুলোর নামকরণ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। প্রতিটি খাল এবং শাখাখালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পানি সেচে ও কীটনাশক ছিটিয়ে মাছ ধরা হবে। বন বিভাগের চর আগস্তি বিটের কমপক্ষে ২০টি খালে এভাবে বাঁধ দেওয়া ও মাছ ধরার কাজ চলছে বলে জেলেরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ আছে সোহরাফ মাল নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকার সোহরাফ মাল খালে বাঁধ দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা পাঁচ-ছয়জন মিলে বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করে আসছি।’ বাঁধ দিতে গেলে বন বিভাগ বাধা দেয় কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে বাধা দিলে তো আর বাঁধ দেওয়া যায় না। আমরা মাছ ধরে চলি। তাই বন বিভাগ থেকে কিছু বলে না।’ বন বিভাগকে টাকা দিতে হয় কি না, জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মধ্য চরবিশ্বাস এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর চৌধুরী চরনজীরের বনে আটটি খালের সব কটিতেই বাঁধ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, চুরি কইরা বনের খালে মাছ ধরি। বনের ভেতরে বাঁধ দিলেও সেচ দিয়ে মাছ ধরি। আমরা বিষ দিয়া মাছ ধরি না।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাজেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মাছ সব সময় নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা পছন্দ করে। বিশেষ করে নিরাপদ প্রজননের সময় মাছ নিরাপদে আশ্রয় নেয়। এসব স্থানে কীটনাশক প্রয়োগ করলে ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছ মারা যায়। কীটনাশকমিশ্রিত পানি ভাটার টানে যখন নদীর দিকে যায়, তখন সেই এলাকার মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কীটনাশক দিয়ে কিংবা খাল শুকিয়ে মাছ ধরা হলে মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান, প্রতিটি বনে মাছ ধরার জন্য বন বিভাগকে প্রতিবছর এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিতে হয়। সেচ দিয়ে মাছ ধরতে সময় ও অনেক টাকা খরচ হয়। মাছ ধরার জন্য জেলেরা কীটনাশক ব্যবহার করে কম খরচে দ্রুত সময়ে খাল থেকে মাছ ধরে নেন।

বন বিভাগের লোকজন টাকা নিয়ে মাছ ধরার সুযোগ করে দিচ্ছেন, এমন অভিযোগ অস্বীকার করে গলাচিপা রেঞ্জের চর আগস্তির বিট কর্মকর্তা ওহাব শেখ প্রথম আলোকে বলেন, বন বিভাগ থেকে এ বছর মাছ ধরার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। করোনার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা এই কাজ করতে পারে।

বন বিভাগ পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জোয়ার-ভাটায় খাল দিয়ে পানি ওঠানামা করে। শ্বাসমূলীয় বনের মূল প্রাণ পানি। কাজেই বনের খালে কোনোভাবেই বাঁধ দেওয়া যাবে না। আর খালে কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরার প্রশ্নই ওঠে না। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে খালের বাঁধ কেটে দিতে বলা হয়েছে। এ কাজে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

admin

Read Previous

ঝুপড়িঘর থেকে ফ্ল্যাট বাড়ির সুখ নলকূপে ম্লান

Read Next

প্রশিক্ষণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *