শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষা খাতে ক্ষতি পোষানো কীভাবে, নেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

করোনায় প্রায় ১৪ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন তছনছ। বড় ধরনের ক্ষতির মুখে শিক্ষা। কিন্তু এই ক্ষতি পোষাতে দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের হাতে।

ক্ষতিগুলো মোটা দাগে জানা। তবে সুনির্দিষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের কতটুকু ক্ষতি হলো, তা এক বছরেও মূল্যায়ন করা যায়নি। কত শিক্ষার্থী পড়াশোনার বাইরে চলে গেল, তারও হিসাব নেই। অস্থায়ীভাবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও পরীক্ষা ঘিরে। সেগুলোও বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, শিক্ষার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দু-তিন বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। না হলে ক্ষতির প্রভাব পড়বে দীর্ঘ মেয়াদে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষতি কতটুকু হলো, তা পর্যালোচনা করতে হবে আগে। এরপর তার ভিত্তিতে ক্ষতি পোষানোর জন্য মহাপরিকল্পনা করে এগোতে হবে। তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া বা সামান্য কিছু পড়িয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠালে দীর্ঘ মেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ক্ষেত্রে হয়তো এক বছরের জায়গায় ৯ মাসে শিক্ষাবর্ষ শেষ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বন্ধের ১৪ মাস

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা হলো, আগামী ২৩ মে স্কুল-কলেজ এবং ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় ঘোষিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

অবশ্য এ সংকট শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের গত মার্চে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ লকডাউনের কারণে বিশ্বব্যাপী ১৬ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুর জন্য স্কুল প্রায় এক বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বেশি দিন স্কুল বন্ধ থাকা ১৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ক্ষতি বহুমাত্রিক। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ভুলে যাচ্ছে। বড় ঘাটতি নিয়ে ওপরের ক্লাসে উঠছে। পরীক্ষা নিতে না পারায় শেখার দক্ষতা যাচাই হচ্ছে না।

সরাসরি শিক্ষার ক্ষতির বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝরে পড়া বাড়ছে। কিশোরীদের অনেকে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ে কর্মজীবনে প্রবেশে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

নতুন বছরের চার মাস হয়ে গেলেও কত শিক্ষার্থী এবার প্রাথমিকে ভর্তি হলো, কত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ল—এসব তথ্য সরকারের হাতে নেই। একই চিত্র মাধ্যমিকেও। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির তথ্য চাওয়া হয়েছে। পেলে বোঝা যাবে।

উদ্যোগে ফল কম, পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে

বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। করোনাকালে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের রেকর্ড করা ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর হচ্ছে না।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০২০-২১ সমীক্ষার অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে’ গত জানুয়ারিতে বলা হয়, দূরশিক্ষণের (সংসদ টিভি, রেডিও, অনলাইন ও মোবাইল) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল সাড়ে ৩১ শতাংশ।

admin

Read Previous

১৪ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ টিকার কী হবে?

Read Next

টিকা পেতে এখনো সরবরাহ চুক্তি করেনি বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *