শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সোনালি স্মৃতির ঈদ

পবিত্র রমজানের রোজার শেষে আসা খুশির ঈদ আমাদের ৩০-৪০-৫০–এর দশকের কবি, লেখক ও শিল্পীদের লেখায় উঠে এসেছে নিরুপম ছবির মতো। তাঁদের ফেলে আসা জীবনের ঈদ-আনন্দের বর্ণনা ব্যক্তিগত স্মৃতিমঞ্জরি ছাপিয়ে হয়ে ওঠে সমাজ-সংস্কৃতির বিশ্বস্ত চলচ্ছবিও। এমনই কিছু আত্মজীবনীর পাতা ঘুরে সুদূর অতীতের ঈদকে ফিরে পাই নতুন করে, এখনকার ঈদে।

২.কথাশিল্পী আবু রুশদের (১৯১৯-২০১০) আত্মজীবনী জীবন ক্রমশ থেকে জানা যাচ্ছে ৪০–এর দশকে কলকাতায় ‘ঈদসংখ্যা’ প্রকাশ এবং বিতরণ উপলক্ষে ইফতার পার্টির রীতির কথা:

‘সেই সময় আজাদ কর্তৃপক্ষ ঈদের আগের দিন বেশ সমারোহ করে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করত, যাতে প্রধানত লেখকেরাই আমন্ত্রিত হতেন। সেই উপলক্ষে আজাদ–এর ঈদসংখ্যাও লেখকদের মধ্যে বিতরিত হতো।’

এই তথ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আজকের দিনেও ঈদসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ঈদসংখ্যা এবং একে কেন্দ্র করে পত্রপত্রিকার ইফতার পার্টির রেওয়াজ।

ঈদের আনন্দের শুরু চাঁদ দেখার পর্ব দিয়ে। আত্মজীবনী কাল নিরবধিতে সোনালি শৈশবে ঈদের চাঁদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলার স্মৃতিঘন বিবরণ দিয়েছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (১৯৩৭-২০২০): ‘ঈদটা সত্যি ছিল আনন্দের। প্রথমেই মনে পড়ে ঈদের চাঁদ দেখার প্রতিযোগিতা। সূর্য অস্ত যেতে না যেতেই তৃষিত দৃষ্টি নিয়ে সবাই আকাশের দিকে চেয়ে থাকতাম। মনে হতো, ছাদে উঠে দেখতে পারলে আকাশের একটু কাছে পৌঁছানো যেত এবং তাতে দৃষ্টিসীমার মধ্যে চাঁদের এসে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বাড়ির সামনের ফুটপাথ থেকে চাঁদ দেখা না গেলে ভাবতাম, বাড়ির পেছন দিকে রান্নাঘর বা তার কাছ থেকে তাকালে হয়তো চাঁদ দেখা যাবে।’

ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলামের (১৯২৭-২০১৮) নিবেদন ইতি বইতে আছে কলকাতার ঈদ জামাতে প্রবাদপ্রতিম রাজনীতিবিদ, লেখক আবুল কালাম আজাদের ইমামতির দুর্লভ তথ্য: ‘গড়ের মাঠে তখন ঈদে নামাজ পড়াতেন, ওয়াজ করতেন মওলানা আবুল কালাম আজাদ। অতীব বিরলই বটে, মওলানা আজাদের এমামতিতে ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। পরে একসময় মুসলিম লীগঅলারা তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল। কুৎসিত রাজনীতির কী স্থূল গণ্ডমূর্খামি!’

কলকাতার ঈদের নামাজ থেকে আসা যাক ঢাকার ঈদ নামাজে। কবি শামসুর রাহমানের (১৯২৯-২০০৬) কালের ধুলোয় লেখা বইটি ধারণ করে আছে আরমানিটোলার সিতারা মসজিদে ঈদের নামাজের অমলিন স্মৃতি: ‘সৌন্দর্যের দিক থেকে সিতারা মসজিদ ঢাকার মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। আমার ছেলেবেলার কিছু স্মৃতি এই মসজিদের সঙ্গে জড়িত। এর পাথরের সৌকর্য, ভেতরের ঈষৎ শীতলতা, হৌজের রঙিন মাছের চাঞ্চল্য, আব্বার হাত ধরে জুমা ও ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া কখনো ভোলার নয়।’

admin

Read Previous

‘এত দিন ভয়ে মুখ খুলিনি, জানতে চাই মুসা কোথায়?’

Read Next

টিকে থাকার কিছুটা রসদ পেলেন ব্যবসায়ীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *