শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হারিয়েছে ছায়া, হারিয়েছে মায়া

‘কুমিল্লা ছিল একটি আবাসিক শহর। ছায়াময়, মায়াময়।’

বলছিলেন এই শহরে জীবনের আট দশক কাটানো অধ্যাপক আমীর আলী চৌধুরী, যিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। ছায়া আর মায়ার কথা বলার পরক্ষণেই তিনি বললেন, কুমিল্লা এখন বহুতল ভবনে ঠাসা। প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

বহু বছর ধরে যাঁরা কুমিল্লায় বাস করেন, শহর নিয়ে তাঁদের মূল্যায়ন মোটামুটি আমীর আলী চৌধুরীর মতোই। এই শহরে গত দুই দশকে শুধু বহুতল ভবন হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে—হারিয়েছে ছায়া, হারিয়েছে মায়া।

ধুলাবালি, ময়লা–আবর্জনা, ভাঙা রাস্তা, যানজট, সুপেয় পানির অভাব, বর্ষায় জলাবদ্ধতা—কুমিল্লার বহু মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর পরিবেশ ঘিঞ্জি হয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হওয়ার পর মানুষের ওপর কর বেড়েছে। কিন্তু নাগরিক সেবা বাড়েনি।

শহরটিকে কি বাঁচানোর সুযোগ আছে, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ কী, স্থানীয় লোকজন কী বলছেন—জানা যাবে এই লেখায়। তার আগে জেনে নিন কুমিল্লার ইতিহাস।

গোমতী নদীর তীরে কুমিল্লা শহরের গোড়াপত্তন প্রায় ৭০০ বছর আগে। ১৮৭৫ সালে মুদ্রিত ভগবতচন্দ্র বিশারদ রচিত ত্রিপুরা সংবাদ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে হোসেন শাহ গৌড়ের অধিপতি থাকাকালীন কোমিল্লা নামক এক মুসলিম সেনানায়ক এখানে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নামানুসারে কুমিল্লা নামকরণ করা হয়। আবার জনশ্রুতি আছে, কমলাংক থেকে কুমিল্লা নামটি এসেছে। কুমিল্লা ছিল ত্রিপুরার অংশ। ১৪৫৮ সালে কুমিল্লা শহরে ভারতের ত্রিপুরা

কুমিল্লা নগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদী
কুমিল্লা নগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদী

রাজ্যের রাজপরিবারের সদস্যরা ধর্মসাগর ও নানুয়ার দিঘি খনন করেন। তখন দিঘির পাড়কে ঘিরে কিছু স্থাপনা গড়ে ওঠে।

১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০১ সালে ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য নবদ্বীপ কুমার বর্মণ কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, যিনি উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মনের বাবা। ১৯৬০ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কুমিল্লা নামে এই জেলা শহরের স্বীকৃতি মেলে। লালমাই পাহাড়, শালবন বৌদ্ধবিহার, খাদি কাপড়, রসমালাই ও কুটিরশিল্পের জন্য এ শহর বিখ্যাত।

কুমিল্লার তৎকালীন জেলা সার্ভেয়ার জে জে কামিন্স উল্লেখ করেছেন, ১৮৬৫ সালে কুমিল্লা শহরে ২৪টি বাড়ি ছিল। ১৮৮১ সালে শহরের লোকসংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের কিছু বেশি। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় সাত লাখ। বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার ৮৩২টি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১১ সাল। করপোরেশনের আয়তন ৫৩ বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি। সিটি করপোরেশন হওয়ার আগে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুই পৌরসভায় বিভক্ত ছিল। এখন পুরোনো ১৮টি ওয়ার্ডের ঘিঞ্জি দশা। নতুন ৯টি ওয়ার্ডে শহরায়ন সেভাবে হয়নি।

প্রতিষ্ঠার পর এক দশক পেরিয়ে গেলেও মহাপরিকল্পনা ছাড়াই চলছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০১২ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেল্‌টেক্‌ প্রাইভেট লিমিটেডকে দিয়ে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এটি অনুমোদনের জন্য ২০১৪ সালের আগস্টে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। যদিও এখনো অনুমোদন হয়নি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘মহাপরিকল্পনা যখন করা হয়, তখন নগরের বহু এলাকা খালি ছিল। এখন খালি জায়গায় নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠেছে।’

অপ্রশস্ত সড়কে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। কান্দিরপাড়-পুলিশ লাইন সড়ক
অপ্রশস্ত সড়কে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। কান্দিরপাড়-পুলিশ লাইন সড়ক

জনবল আরও কমেছে

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার সময় জনবল ছিল ১২৭ জন। এখন তা কমে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। জনবল কম থাকায় একেকজন কর্মকর্তাকে তিন থেকে চারটি পদে ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, স্থায়ী জনবলের বাইরে সিটি করপোরেশন গত ১০ বছরে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ৬৯৭ জনকে নিয়োগ দিয়েছে। এঁদের বেশির ভাগেরই কাজ নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় ওই কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের ভাতা দিতে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করতে হয় সিটি করপোরেশনকে।

কুমিল্লা নগর শিশু উদ্যান
কুমিল্লা নগর শিশু উদ্যান

শুধু দালান আর দালান

কুমিল্লা শহরে যেদিকেই চোখ যায় শুধু উঁচু ভবন। নগরের কান্দিরপাড়, সরকারি মহিলা কলেজ সড়কের দুই পাশ, মনোহরপুর, ঝাউতলা—কোথাও একটুও পরিকল্পনার ছাপ নেই। যে যার মতো ভবন তৈরি করে এলাকাগুলো ঘিঞ্জি করে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত এক দশকে কুমিল্লায় কয়েক হাজার বহুতল ভবন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণের শর্ত মানা হয়নি।

নগরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়। এখানে পুবালি চত্বর, লিবার্টি মোড়, টাউন হল ও কুমিল্লা ক্লাব রয়েছে। এই এলাকার দক্ষিণ পাশজুড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট। এখানেই রাজনৈতিক সব কর্মসূচি পালিত হয়। কান্দিরপাড়ের পুবালি চত্বর ঘিরে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচলিত রিকশা, ইজিবাইক ও রিকশা যাত্রী ওঠানো–নামানো করায়। ফলে সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। শহরে কোনো ধরনের বাস সেবা নেই। নগরবাসীর ভরসা তাই তিন চাকার যান। ব্যস্ত এলাকায় সড়কের একাংশ দখল করে রাখেন হকাররা। ফুটপাতও তাঁদের দখলে।

কুমিল্লায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন
কুমিল্লায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন

কান্দিরপাড়ে টাউন হল মাঠের পূর্ব পাশে খাসজমিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ২০১৩ সালে ছয়তলা সিটি মার্কেট তৈরি করে। স্থানীয় লোকজন এই বিপণিবিতানকে যানজট বাড়ার জন্য দায়ী করেন। কারণ, অনেকটা রাস্তার ওপর বিপণিবিতানটি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ইতিহাসবিদ গোলাম ফারুক বলেন, এভাবে অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে।

এখন কুমিল্লা নোংরা শহর

দিন দিন নোংরা শহরে পরিণত হচ্ছে কুমিল্লা। রাস্তার ওপরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। সম্প্রতি ঘুরে দেখা যায়, শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, উজিরদিঘির পাড় ও বাগিচাগাঁও এলাকায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সড়কের ওপরেই। নালাগুলোর বেশির ভাগই আবর্জনায় ভরা।

নালা যেমন আবর্জনায় ভরা, তেমনি নগরের পুকুরও ময়লা ফেলে ভরাটের চেষ্টা চলছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিসিক শিল্পনগরী, নজরুল অ্যাভিনিউ ও স্টেডিয়াম এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানি নামতে কয়েক দিন লেগে যায়।

বিনোদনের সুযোগ সীমিত

কুমিল্লায় শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার যে গুটিকয়েক মাঠ আছে, যার একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। প্রতিদিন সকালে শিশু-কিশোর-তরুণেরা কেউ ব্যাট-বল নিয়ে হাজির হয় ঈদগাহ মাঠে, কারও পছন্দ ফুটবল। তবে জায়গা সীমিত। তাই কে

আগে খেলা শুরু করবে তা নিয়েই প্রতিযোগিতা করতে হয়।

শহরের বিদ্যালয়গুলোর ফটকে তালা লাগানো থাকে। ফলে মাঠ থাকলেও সেখানে খেলতে পারে না শিক্ষার্থীরা। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার নেই শিশু-কিশোরদের। কুমিল্লা টাউন হল মাঠ গাড়ি পার্কিং ও হকারদের দখলে। নগর শিশু উদ্যানে ‘অপরিকল্পিতভাবে’ গাদাগাদি করে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সারাক্ষণ ধুলা উড়ে।

বছর পাঁচেক আগে কুমিল্লায় ছয়টি সিনেমা হল ছিল। এখন আছে মাত্র একটি। চিড়িয়াখানায় আকর্ষণ করার মতো কোনো পশু-পাখি নেই। বেশির ভাগ খাঁচা খালি। উদ্ভিদ উদ্যানের বৃক্ষরাজি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও কুমিল্লা টাউন হলের দৈন্যদশা।

বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। কয়েক বছরে কিশোর গ্যাংয়ের কোন্দলে কয়েকটি খুন হয়েছে। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও লেখক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক বলেন, সংস্কৃতিচর্চা, খেলাধুলা ও বই পড়া কমে গেছে। এর পাশাপাশি অভিভাবকেরা সচেতন না হওয়ার কারণে কিশোরেরা পাড়ায় পাড়ায় গ্যাং তৈরির সুযোগ পায়। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

উপেক্ষিত ১৪ প্রস্তাব

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখা ২০১৫ সালে নগরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র মো. মনিরুল হককে ১৪ দফা প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ছিল রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও মার্কেট নির্মাণ, রাস্তার দুই পাশে কার্যকর নালার ব্যবস্থা করা, অবৈধ যান চলাচল নিষিদ্ধ করা, ফুটপাত ও রোড ডিভাইডার স্থাপন, শব্দদূষণ বন্ধ, যানজট ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, এক খুঁটিবিশিষ্ট বড় আকারের বিলবোর্ড স্থাপন বন্ধ, নালা থেকে সড়কের পাশে ময়লা না রাখা, আগামী ১০ বছরের জন্য পাঁচতলার ওপরে বিপণিবিতান ও ভবন নির্মাণের অনুমোদন না দেওয়া, জলাধারে আবর্জনা ফেলার নামে ভূমি দখলের চেষ্টা রোধ করা এবং গোমতী নদীকে রক্ষা করা।

বাপার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব কিছুই হয়নি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নোংরা পরিবেশ কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ম্লান করে দিয়েছে।’

একপাশে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়াম, আরেক পাশে নৈসর্গিক ধর্মসাগর দিঘি। শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে
একপাশে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়াম, আরেক পাশে নৈসর্গিক ধর্মসাগর দিঘি। শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে

উন্নয়নে পিছিয়ে, কারণ কী

কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে চেয়ারম্যান বা মেয়র পদে গত ৩৬ বছরে সরকারি দলের জনপ্রতিনিধি ছিলেন মাত্র ছয় বছর। বর্তমান মেয়র মো. মনিরুল হক বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত। ২০০৫ সাল থেকে তিনি দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সরকারি বরাদ্দে পিছিয়ে থাকে। সিটি করপোরেশন ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩২৪ কোটি টাকার বাজেটে ঘোষণা করে। একই অর্থবছরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, নারায়ণগঞ্জ ৭৫৬ কোটি, খুলনা ৫০৪ কোটি ও সিলেট ৭৮৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে।

মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি অনুমোদিত হলে নানা অবকাঠামো হবে। এ ছাড়া করপোরেশনের আয়তন বাড়িয়ে ১৫০ বর্গ কিলোমিটার করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে মেয়র বলেন, ‘আমরা আর কোনো ধরনের অপরিকল্পিত ভবনের অনুমোদন দেব না।’

কুমিল্লা বহু জাতীয় রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক ও সাহিত্যিকের স্মৃতিবিজড়িত শহর। তবে রাজনীতির মারপ্যাঁচ আর সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা—এ দুইয়ে মিলে শহরটি দিন দিন বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। পুরোনো মানুষদের অনেকেই শহরটি নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ‘কুমিল্লার শ্যামল মায়ায় মেঘনা উদাস, কণ্ঠে তার মনিহার গোমতী তিতাস’—কবিতার এই চরণ দুটির লেখক কে, তা জানা যায়নি। কুমিল্লায় শ্যামল মায়াও আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

admin

Read Previous

বড়রা পেয়েছে বেশি, ছোটরা অনেক কম

Read Next

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে টাকার প্রবাহ বাড়াতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *