শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাবির সেই ১৩৮ জনের নিয়োগ বাতিলে তৎপর রুটিন উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা!

এক্তিয়ার বহির্ভূত বিজ্ঞপ্তির পর এবার নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে বদলি

 

রাবি সংবাদদাতা :

এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান এর মেয়াদের শেষ মহূর্তে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ ১৩৮ জনের নিয়োগ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করেছেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা।

শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের এডহক নিয়োগ বাতিলের জন্য রুটিন উপাচার্য বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ভার্চুয়াল  সিন্ডিকেট সভা আহবানে তৎপর রয়েছেন। এ জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামাতের অনুসারী শিক্ষকদের টেলিফোন করে সহায়তা চাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিয়োগপ্রাপ্তরা অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাপন শাখার উপ- রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী, রেজিস্ট্রার শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার তরিকুল ইসলাম ও পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন অর রশীদ মামুনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।  তদস্থলে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহার ঘনিষ্ট ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বিগত বিএনপি-জামাত জোট আমলে নিয়োগকৃত সেই ৫৪৪ সিরিজ কর্মচারীদের মধ্যে থেকে তিনজনকে পদায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহার বিএনপি-জামাত প্রীতি পরিস্কার হয়েছে বলে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের আদেশে এডহকে নিয়োগকৃত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, রুটিন উপাচার্যের বদলিকৃতদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি কোন নির্দিষ্ট করে কোন নির্দেশনা বা অভিযোগ দিতে পারেন নি।

জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানকে নানাভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করলেও ভেতরে ভেতরে প্রশাসন বিরোধী শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে সমর্থন দিতেন ড. আনন্দ কুমার সাহা। দায়িত্বে থাকাকালে প্রফেসর আব্দুস সোবহানের পক্ষে থাকলেও বিদায়েল পর রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা ১৩৮ জনের নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রথম থেকেই। তিনি রুটিন দায়িত্বে এসেই সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ সবাইকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরিয়ে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকেও মেয়াদ পুরণের আগেই সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপক লিয়াকত আলী কে।

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার উপ- রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি চাকুরি জীবনের ৩০ বছরের ২৫ বছরই সংস্থাপন শাখায় থেকেছি। আমার বিরুদ্ধে কেউ অনিয়মের অভিযোগ আনতে পারেন নি। এখনো পারেনি। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও আমার বিরুদ্ধে কোন আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারেনি। তিনি তাঁর বদলির বিষয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের রোষানলেই এই বদলি করা হয়েছে। আমাকে জিয়াউর রহমান হলে বদলি করা হয়েছে বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার শাখায় সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তাঁকে পরিসংখ্যান বিভাগে বদলি করা হয়েছে। রবিবার তিনি সেখানে যোগদান করবেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তারা সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ ও নিয়োগপত্রে তাদের স্বাক্ষর থাকায় তাদেরকে অন্য শাখায় বদলি করেন বর্তমান রটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য।

১৩৮ জনের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সিনিয়র নেতা জানান, ১৩৮ জনের নিয়োগপ্রাপ্তরা ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে একাধিকবার দেখা করে বারবার তিনি নিয়োগের পক্ষে বলে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তার কথার উল্টো চিত্র। তিনি নিয়োগ বাতিলের জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের কোন অফিসিয়াল আদেশ ছাড়াই নিজেই উৎসাহিত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের দপ্তরে যোগদান বন্ধে গত ৮ জুন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন তিনি। পরে আমরা তার কাছে মন্ত্রণালয়ের আদেশে’র ডকুমেন্টস দেখতে চাইলে দেখাতেও পারেন নি। দাবি করেছেন, মৌখিক নির্দেশে ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য জরুরি এফসি মিটিং ও সিন্ডিকেট মিটিংয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। আগামী ২২ তারিখ সিন্ডিকেট মিটিং করার জন্য গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশংকা তাদের নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করতে ড. আনন্দ কুমার সাহা এক্তিয়ারে না পড়লেও সিন্ডিকেটের সভা আহবানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগপত্র দেন বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। ৬ মে তারা যোগদান করে। পরে এঘটনা জানাজানি হলে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়।

ঐ দিনই মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগের বিষয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ভিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় সেই দিনই নতুন রুটিন দায়িত্ব পান উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি নিয়োগের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে মতামতের জন্য রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহার মোবাইলে বার বার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালামের মোবাইলেও অসংখ্যবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাদের মতামত জানা সম্ভব হয়নি।

admin

Read Previous

রাসিকের হটলাইন নম্বরে কল করলেই মিলবে অক্সিজেন

Read Next

‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিল করা দরকার’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *