শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রামেবির সাত পদ দখলে রাখা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যবহারেও দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) কলেজ পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জামাতপন্থি চিকিৎসক অধ্যাপক জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের একটি হায়েস গাড়ি অবৈধভাবে সার্বক্ষণিক নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এতে বিশ^বিদ্যালয়ের বিপুল অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিবের ঘনিষ্ট এই চিকিৎসক, রামেবির বর্তমান ভিসির ক্লাসমেট পরিচয় দেওয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেউ নিষেধ করার সাহস পাচ্ছেন না ভয়ে।

রামেবি সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ সার্বক্ষণিক বিশ^বিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ডিন, রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রমুখ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। ওইসব কর্মকর্তারা বিশ^বিদ্যালয়ের গাড়িতে শুধুমাত্র বাসস্থান থেকে অফিসে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। অথচ অতিরিক্ত দায়িত্বের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জাওয়াদুল হক অবৈধভাবে রামেবির হায়েস গাড়ি (রাজ-মেট্রো-চ-৫১০০৬৫) সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। রামেবির গাড়ি নিয়ে তিনি তার আরও দুই কর্মস্থল বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) যাতায়াতসহ ব্যক্তিগত সবকাজে ব্যবহার করছেন। এখানেই শেষ নয়, গাড়িটি তিনি রামেবির আর কাউকে ব্যবহার করতেও দেন না। গত নভেম্বর থেকে অবৈধভাবে গাড়িটি একক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তিনি।

সূত্রে আরও জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের (চুক্তিভিত্তিক) অধ্যাপক জাওয়াদুল হক সর্বত্র জামাতপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিরের সাথে ঘনিষ্টতার সুবাদে রামেবির সবকাজই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।

সূত্র মতে, তিনি রামেবি’র প্রিভেনটিভ এন্ড সোস্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, নিয়োগ কমিটির সদস্য, সংবিধি কমিটির আহবায়ক, ক্রয় কমিটির আহবায়ক। এছাড়া রামেবি আইন লংঘন করে কলেজ পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ পদও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। এছাড়াও বিধি লংঘন করে একই শিক্ষাবর্ষে অর্ধ শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কমিটির আহবায়কও হয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি একাই রামেবির সকল জনবল নিয়োগের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটি এমনকি উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিরও আহবায়ক হয়েছেন। এছাড়া তিনি রামেবি’র অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার কেন্দ্র ভিজিলেন্স টিমের সদস্য, নিয়োগ ও পদন্নোতি বোর্ডের আহবায়ক/সদস্য, প্রশ্নপত্র সেটার-মডারেটরসহ আর্থিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট অসংখ্য কমিটির সদস্য হিসেবে বিপুল আর্থিক সুবিধা নিয়ে চলেছেন।

সূত্র জানায়, নিয়োগ কমিটির সদস্য হওয়ায় প্রথম নিয়োগেই অফিস সহায়ক পদে তিনি একজন জামাত সমর্থকের ছেলেকে রামেবিতে চাকরি দিয়েছেন। এছাড়া তার ব্যবহৃত হায়েস গাড়ির ড্রাইভার শরিফুল ইসলামকেও কানামনা (কাজ নাই মজুরী নাই) ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন তিনি।

সূত্র মতে, পরীক্ষার কাজে নিজের অনভিজ্ঞতা ও অযোগ্যতায় নার্সিং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে পারছেন না তিনি। তাই নিজের অযোগ্যতা আড়াল করতে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে রামেবিতে প্রবর্তন করা আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটালাইজড ফলাফল পদ্ধতি (খাতা কোডিং-ডিকোডিং, কম্পিউটারাইজড ফলাফল) পরিবর্তনে সংশ্লিষ্টদের উস্কানি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ট ভিসি বিদায় হলেও এখনো তিনি খোলস পাল্টিয়ে বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ডা. এজেডএম মোস্তাক হোসেনকে নিজের ক্লাসমেট পরিচয় দিয়ে রামেবিতে আগের মতই বহাল তবিয়তে থাকার পায়তারা চালাচ্ছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে রামেবির কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পায় না।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বিধি মোতাবেক রামেবির গাড়ি ব্যবহার করছি। রামেবির বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ডা. এজেডএম মোস্তাক হোসেন উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, বিষয়গুলো তিনি অবহিত নন। গাড়ির লগবুক দেখে ব্যবস্থা নেবেন। অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে মিটিং করছেন। একজন যাতে অনেক দায়িত্ব পালন করতে না পারে, সে জন্য দায়িত্ব গুলো রিফর্ম করবেন। একবি ব্যক্তি একাধিক দায়িত্বে থাকলে কাজের কোয়ালিটি কমে যায় বলেও জানান ভিসি।

admin

Read Previous

রামেক হাসপাতালের জন্য রাসিক মেয়রের দপ্তরে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা হস্তান্তর

Read Next

রাজশাহী শহরের টিকাপাড়া সড়কে বছরজুড়ে খানাখন্দ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *