শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাবিতে প্রশাসন ও উপাচার্য ভবনে তালা দিয়ে এডহক নিয়োগপ্রাপ্তদের বিক্ষোভ : অর্থ কমিটির সভা ফের স্থগিত

রাবি সংবাদদাতা :
এডহক নিয়োগপ্রাপ্তদের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাদের বাধার মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) অর্থ কমিটির সভা আবারো স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।  আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য ভবনন্থ লাউঞ্জে অর্থ কমিটির উক্ত সভা আহবান করেছিলেন অর্থ কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ।

এদিকে শনিবারের অর্থ কমিটির সভা নিশ্চিত করতে কয়েকদিন থেকেই রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাঁপ করছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে অর্থ কমিটির সভা করতে শনিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও অর্থ শতাধিক এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন এবং উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুঁলিয়ে গেটে অবস্থান নেয়। এসময় নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের যোগদান স্থগিত সংক্রান্ত রুটিন উপাচার্যের ‘এক্তিয়ার বহির্ভূত’ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।

উল্লেখ্য, গত ২ মে রাবি অর্থ কমিটির একই সভা ওই সময়ের চাকরী প্রত্যাশি ছাত্রলীগ নেতাদের বাধায় স্থগিত ঘোষণা করেছিল অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এরপর একই কায়দায় গত ৪ মে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের শেষ সিন্ডিকেট সভাও প্রশাসন বিরোধী শিক্ষকদের বাধায় স্থগিত করে প্রশাসন। পরদিন ৫ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গতবছরের ১০ ডিসেম্বর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবাহান ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ১২(৫) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে চাকরী প্রত্যাশি ১৩৮ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ‘এডহক’ ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেন। যারা পরদিন ৬ মে রেজিস্ট্রার দপ্তরে যোগদান করেন। ওইদিনই শিক্ষা মন্ত্রণালয় উক্ত নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ২৩ মে তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমাও দিয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি নীতিমালা শিথিলের পর অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের আমলে নিয়োগকৃত ৩৪ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ নিয়ে বিপত্তি বেধেছে বলে ওয়াকিবহাল নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ওই ৩৪ শিক্ষকের নিয়োগ ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘সম্ভব নয়’ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক সিনিয়র শিক্ষক।

অন্যদিকে সকাল পৌঁনে ১০টায় রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের বাসভবনে অর্থ কমিটির সভা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির খবর পেয়ে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দ্রুত তার বাসভবনের সামনে যান। এসময় রুটিন উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা বাসা থেকে বেরিয়ে এসে নিয়োগপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলেন। তিনি নিয়োগপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন, আমার বাসভবনকে আমি কখনো অফিস বানাবো না। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি অনুমতি দেয়, তাহলে আমি আপনাদের সকলের যোগদান নিশ্চিত করবো।’ এরপর নিয়োগপ্রাপ্তরা সেখান থেকে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে সাথে নিয়ে রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম রুটিন উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করেন। এ খবর পেয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা আবারো রুটিন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় রুটিন উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ কমিটির সভা না করার (স্থগিত ঘোষণা) বিষয়টি জানান। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তরা রেজিস্ট্রারকে ‘বিএনপি-জামাতের দালাল’ আখ্যায়িত করে তার বিরিুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রার তড়িঘড়ি নিজের গাড়িতে করে রুটিন উপাচার্যের বাসভবন ত্যাগ করেন। পরে নিয়োগপ্রাপ্তরাও সেখান থেকে চলে যায়।

এ বিষয়ে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান সুমন জানান, ‘শনিবার ফাইন্যান্স কমিটি ও আগামী ২২ জুন সিন্ডিকেট সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ফাইন্যান্স কমিটির যদি সভা হয়, তাহলে আগামী ২২ জুন সিন্ডিকেটের সভা করবে প্রশাসন। আমরা শুনেছি, ওই সিন্ডিকেট সভায় আমাদের নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করা হবে। এ কারণে আমরা ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেটের সভা যাতে না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাতে এবং আমাদের পদায়নের পর এসব সভা করার অনুরোধ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু রুটিন উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আমাদের দাবি উপেক্ষা করে সভা করার চেষ্টা করেছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাধা দিয়েছি।’

এর আগে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের তালা লাগানোর ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা কয়েক দিন থেকেই শুনছিলাম। এ কারণে প্রক্টরের মাধ্যমে নগরীর মতিহার থানায় মৌখিক ও লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এছাড়াও রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি অবগত রয়েছেন। প্রশাসনের সবার সঙ্গে কথা বলে আজকের অর্থ কমিটির সভা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

admin

Read Previous

যা থাকছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি

Read Next

রাজশাহীতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা প্রদান শুরু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *