শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ কোটি টাকা অবশেষে ইউজিসিতে ফেরত যাচ্ছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক : ফাইল ছবি

দুই উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সাবেক উপাচার্যকে অসহযোগিতার অভিযোগ

রাবি সংবাদদাতা :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বরাদ্দকৃত ১০ কোটি টাকা অবশেষে ফেরত যাচ্ছে। প্রশাসনের কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তার অসযোগিতা, অনভিজ্ঞতাসহ শিক্ষক এবং ছাত্রলীগ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বাধায় অর্থকমিটি এবং সিণ্ডিকেটের সভা দু’দফা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় ওই টাকা ফেরত যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান মেয়াদ শেষের দুই মাস আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের উদ্বৃত্ত এবং আবাসিক হল সংস্কারের জন্য ইউজিসির অনুদানসহ প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজের সিদ্ধান্ত নিতে গত ২ মে অর্থকমিটির এবং সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য ৪ মে সিণ্ডিকেটের সভা আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু দুই উপ-উপাচার্যের অসহযোগিতা এবং কতিপয় শিক্ষকের বাধায় এফসি এবং সিন্ডিকেট দুই সভাই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ৫ মে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীসহ ১৩৮ জনকে ‘এডহক’ নিয়োগ দিয়ে ৬ মে বিদায় দেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

এদিকে, অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বিদায় নেয়ার পরও রুটিন উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা উদ্বৃত্ত বাজেট ও ইউজিসির অনুদানের আলোচিত ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রশ্নে ‘নিরব’ ছিলেন। তবে দীর্ঘ দেড় মাস পর উক্ত টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্তের কথা বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন এনে অভিন্ন এজেন্ডায় পূর্বের অর্থকমিটির সভা ১৯ জুন এবং সিণ্ডিকেটের সভা ২২ জুন আহবান করেন রুটিন উপাচার্য। কিন্তু বহুল আলোচিত অর্থকমিটির ১৯ জুনের সভাটি এবার এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের বাধায় পণ্ড হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মো. লিয়াকত আলী সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধান এজেন্ডাভুক্ত এফসির সভাটি স্থগিত হওয়ায় আগামী ২২ জুনের সিণ্ডিকেটের সভাটি অনুষ্ঠানের আর প্রয়োজনীয়তা নেই।

অনুসারী শিক্ষকদের অভিযোগ, অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের বিরোধী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের একাংশের বাঁধা এবং এখনো স্বপদে বহাল প্রশাসনের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার (দুই উপ-উপাচার্য ও চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার) চরম অসহযোগিতায় ২ মে’র এফসি ও ৪ মে’র সিন্ডিকেট সভা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে আগামী ২২ জুনের সিণ্ডিকেট সভায় অনুমোদনের পর মাত্র ৮ দিনে ১০ কোটি টাকা খরচের ব্যাপারটি ‘দূরভিসন্ধিমূলক’ বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেছেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো সংস্কারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৫ কোটিরও কিছু বেশি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আগামী ৩০ জুন চলতি অর্থবছর শেষ হবে। টাকাগুলো ব্যবহার করার জন্য এই সময়ের মধ্যে ফাইন্যান্স কমিটির সিদ্ধান্ত সিণ্ডিকেটে অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। ফাইন্যান্স কমিটির সভা না হলে সেই টাকাগুলো ফেরত চলে যাবে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্কার কাজের জন্য আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার মতো ফাইন্যান্স কমিটির সিদ্ধান্ত সিণ্ডিকেটে অনুমোদন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার অনিয়মতান্ত্রিক এক বাধার কারণে সেই সভা করা সম্ভব হলো না বলেও জানান তিনি।

এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাবি’র অর্থকমিটির একাধিক সাবেক সদস্য জানান, বিদায়ী উপাচার্যের আহুত অর্থকমিটি ও সিণ্ডিকেটের প্রথম সভায় অনুষ্ঠিত হলে ওই টাকার উন্নয়ন কাজ এতোদিন শেষ অথবা চলমান থাকতো। ফলে এসব কাজ তদারকির সুযোগ পেতেন এখনো স্বপদে থাকা দুই উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারই। কিন্তু তাদের অনভিজ্ঞতা ও অসহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চিত উন্নয়ন অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, রাবির একাধিক সিনিয়র শিক্ষক জানান, ১৯ জুনে এফফিতে পাস করিয়ে ২২ জুনের সিণ্ডিকেটে অনুমোদন করে ৩০ জুনের মধ্যে ১০ কোটি টাকার কাজ কীভাবে করবেন? এখানে স্বচ্ছতার বিষয়টিও তো পরিস্কার করতে হবে। অথচ বিদায়ী উপাচার্যের এফসি ও সিন্ডিকেটে সহযোগিতা করে দুই উপ-উপাচার্য তার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে পারতেন। এটি ‘আল্টিমেটলি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি বলেও তারা মতামত দেন।

admin

Read Previous

রাজশাহীতে আকস্মিক ভেঙে পড়ল চারতলা ভবন

Read Next

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সভা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *