শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রামেক হাসপাতাল ক্রমশ দখলে নিচ্ছে করোনা ইউনিট!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা ইউনিট প্রতিদিন তিল তিল করে দখলে নিচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল! ফলে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়লেও অন্যান্য জটিল রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ কমছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, ‘রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চললেও কমছে না করোনা রোগী ভর্তি এমনকি মৃত্যুর ঘটনা। বর্তমানে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ বিশেষ করে, ধনি-দরিদ্র-দিনমজুর গণহারে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া বেশিরভাগ করোনা ও উপসর্গের রোগী শ^াসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। একটি আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষায় থাকছেন অসংখ্য রোগী। নতুন সুস্থ অথবা মৃত্যু না হলে আইসিইউ শয্যা ফাঁকা হচ্ছে না। চলমান পরিস্থিতি আতঙ্কের বলেও জানান তিনি।

পরিচালক জানান, এই হাসপাতালের ১ হাজার ২০০ শয্যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০৯টি করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাটের করোনা এবং অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসছেন। তিনি জানান, রবিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের ২০ দিনে (১ থেকে ২০ জুন) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২০৩ জন। এর মধ্যে ৯৭ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। এসব তথ্য দিয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, রবিবার সকাল পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন। সুস্থ্য হয়েছে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৮ জন। একই সময়ে করোনা ইউনিটের ৩০৯ বেডের বিপরীতে করোনা ও উপসর্গে ভর্তি ছিলেন ৩৭৭ জন। এদের মধ্যে রাজশাহীর ২২৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭৫, নাটোরের ২৯, নওগাঁর ৩২, পাবনার ৬, কুষ্টিয়ার ৪ ও চুয়াডাঙ্গার ২ জন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ‘শুরুতে এই হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা ছিল। ওই কয়টি যথেষ্ট না হওয়ায় কয়েক ধাপে শর্যা বাড়িয়ে বর্তমানে ২০টি হয়েছে। গত ১৪ জুন সর্বশেষ দু’টি আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এই মূহুর্তে আমাদের আইসিইউ বাড়ানোর মত আর স্ট্র্যাকচারাল ক্যাপাসিটি নেই। যা ছিলো সবই করলাম।’

পরিচালক জানান, ‘করোনা রোগীর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকায় একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ডগুলোকে করোনা ইউনিটে রূপান্তর করা হচ্ছে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালের ২৯-৩০, ৩৯-৪০, ২৫, ২২, ২৭, ১৭, ১৬, ১৫, ১ ও ৩ নং ওয়ার্ড কোভিড-১৯ ইউনিট করা হয়েছে। সবমিলিয়ে করোনা শয্যার সংখ্যা ৩৭২টি হয়েছে। এরপরও করোনা ইউনিট সম্প্রসারিত করতে হলে এখানে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা সংকুচিত হবে।’
পরিচালক আরও জানান, ‘প্রথম ঢেউয়ে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গড়ে ৬০/৬৫ রোগী ভর্তি থাকতেন এবং গড়ে ২/৩ জন মারা যেতেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে রবিবার (১৯ জুন) ভর্তি ছিলেন সর্বোচ্চ ৩৭৭ রোগী। এ সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিনশ’ থাকছে। মৃত্যুও হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ১০ জনের।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার মনে করেন, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যারা আসছেন, বেশিরভাগই খারাপ অবস্থায় আসছেন। তাদের অক্সিজেন দিয়েও রিকভার করা যাচ্ছে না।

admin

Read Previous

মুজিব শতবর্ষে রাজশাহীতে ঘর পাচ্ছেন ৮৫৪টি পরিবারের

Read Next

রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১০ জনের মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *