শিরোনাম:
রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৮ জনের মৃত্যু এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’
১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাবিতে এডহক নিয়োগপ্রাপ্তদের মানববন্ধন থেকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, রুটিন উপাচার্যের থানায় জিডি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক- ফাইল ছবি

রাবি সংবাদদাতা :
যোগদানের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত পদায়নের দাবিতে গতকাল সোমবার (২৮ জুন) ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সদ্য এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩৮ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী। দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি থেকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন করা না হলে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের পদত্যাগসহ আমরণ অনশনের কর্মসূচির আল্টিমেটাম দিয়েছে নিয়োগপ্রাপ্তরা।

অন্যদিকে এডহক নিয়োগপ্রাপ্তদের একাংশের বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাবির রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। জিডি নং-১২৫৯, তারিখ ২৮-০৬-২০২১। গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর মতিহার থানায় উক্ত জিডি রেকর্ড করা হয় বলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাবির রুটিন উপাচার্যের পক্ষ থেকে একটা অভিযোগ এসেছিল। সেটা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতবছর ১০ই ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়ােগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে এবং সে নির্দেশ আমলে নিয়ে তৎকালীন উপাচার্য সকল নিয়ােগ স্থগিত রাখেন। কিন্তু তার মেয়াদের শেষ দিন চলতি বছরের ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে নিজ ক্ষমতাবলে ১৩৮ জনকে এ্যাডহক নিয়োগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে ৯ জন শিক্ষক আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়ােগে ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট সেকশন ২৯, ধারা সি-৪(৩) ভঙ্গ করে এ শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত তদন্ত কমিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা তখন থেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা আমার ওপর বারবার চাপ বৃদ্ধি করতে থাকে। গত ১৯ জুন তারিখ সকাল ৯.৩০ মিনিটে আমার বাসার গেটের সামনে ৫০-৬০ জন চাকুরিপ্রত্যাশী হট্টগোল করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমার স্ত্রী-কন্যারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাসার কম্পাউন্ডের মধ্যে তারা প্রায় দুই ঘণ্টা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে রাখে। সেদিনের বিশৃঙ্খলকারীদের অন্যতম হল ফিরোজ মাহমুদ, মতিউর রহমান মূর্তজা প্রমুখ। শুধু তাই নয়, গত ২২ জুন সন্ধ্যা ৬টায় আমার বাসভবনের সামনে কয়েকজন এসে মহড়া প্রদর্শন করে, তাদের অন্যতম ছিলেন ইন্দ্রনীল মিশ্র এবং শাহরিয়ার মাহবুব।

থানায় দেয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুন ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও ২২ জুন সিন্ডিকেট সভাও তাদের বাধার কারণে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। গুরত্বপূর্ণ এই দু’টি সভা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়রি হিসেবে অন্তর্ভূক্তকরণের জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও রাবি শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারদিন, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ, শিবিরের হামলায় পা হারানো ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ডিলস, বর্তমান সহ-সভাপতি মো. রাসেল, মহানগর যুবলীগের গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক আরকান উদ্দিন বাপ্পি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাবি সাবেক আহ্বায়ক মতিউর রহমান মুর্তজা প্রমুখ। এছাড়া রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ১/১১ এর সময় গ্রেফতারকৃত ছাত্রলীগ নেতা আজিম বিন কামাল উজ্জ্বল, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সহ-সম্পাদক মামুন-অর-রশিদ মাহবুব, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তৌহিদ মোর্শদ , মহানগর যুবলীগের সদস্য মো. নাসির উদ্দিন, রাবি শাখা বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম রেজা, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সদস্য বোরহান উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তারিফুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এস.এম. জলি প্রমুখ মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা অনৈতিকভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩৮ জন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন স্থগিত করে রেখেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় এ্যাক্ট লংঘন করেছেন এবং নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ছাত্রলীগ, যুবলীগ আওয়ামী লীগ, এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের প্রদান করা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে রেখেছেন। আমরা অনতিবিলম্বে নিয়োগের স্থগিতাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পদায়নের দ্রুত দাবি জানাচ্ছি।

নিয়োগপ্রাপ্তরা আরো বলেন, শিক্ষকদের দুই গ্রুপের দলাদলির কারণে আমাদের এই নিয়োগ স্থগিত করে রাখা হয়েছে। শিক্ষকদের দলাদলিতে বলির পাঠা হতে চাই না। বৈধভাবে ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশের আলোকে উপাচার্যের ওপর অর্পিত ক্ষমতা বলে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম. আবদুস সোবহান আমাদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন। অনতিবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পদায়ন করা না হলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবো না।
তারা বলেন, শিবিরের বর্বর হামলায় মতিহারের সবুজ ক্যাম্পাস বারবার ছাত্রলীগের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। আমাদের রক্তের উপর পা দিয়ে আপনারা চেয়ারে বসে আছেন। আমাদের রক্তের ওপর বসে থেকে আপনি আমাদের পদায়ন স্থগিত করেছেন। আপনাকে ৭২ ঘন্টা সময় দিলাম। ৭২ ঘন্টার মধ্যে আমাদের পদায়নের ব্যবস্থা করা না হলে আপনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। তারা বলেন, আপনি বলছেন শিক্ষামন্ত্রণালয় আমাদের পদায়নের ব্যাপারে নাকি আপনার হাত-পা বেঁধে রেখেছেন। কিন্তু তা নয়, বরং আপনি আমাদের পদায়ন না করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন। এই মিথ্যাচার ছেড়ে দিন, দ্রুত আমাদের প্রদানের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায়ে আপনাকে বাধ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ ও ৬ মে সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহান ১৩৮ জন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীকে নিয়োগ ও যোগদানের ব্যবস্থা করেন। ওইদিনই শিক্ষামন্ত্রণালয় উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহাকে। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এর ১২ (৫) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে একজন উপাচার্যের প্রদান করা নিয়োগের ওপর গত ৮ মে রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার পর অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা স্থগিতাদেশ দেন।

 

admin

Read Previous

রুটিন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৭৩ এর এ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ ফের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন এডহক নিয়োগপ্রাপ্তরা

Read Next

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *