শিরোনাম:
এবার রাবির নতুন উপ-উপাচার্যকে ঘিরে বিতর্ক রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপু রাবি প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার ও দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের চর্চা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিতর্কিত ভূমিকার কাউকে ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগ কেউই মেনে নেবে না’ ইতিহাসবিদ এ বি এম হোসেন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবস্তম্ভ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে ‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা, আপনি আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা’
৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা সম্প্রতি চারজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দফতর থেকে অন্যত্র বদলি করেছেন। একই সাথে অপর তিনজন কর্মকর্তাকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এ তিন কর্মকর্তার (স্থলাভিষিক্ত) দু’জনই কট্টর জামাত-বিএনপির এবং একজন আওয়ামী লীগের অনুসারী। স্থলাভিষিক্ত দু’জন আবার বহুল আলোচিত ৫৪৪ সিরিজে চারদলীয় জোট সরকার আমলের এবং একজন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের প্রথম মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এই বদলির চিত্র দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসারদের রাজনৈতিক মতাদর্শের অবস্থান সকলের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক-কর্মকর্তারা মনে করেন।

এদিকে রাবি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ২০২১ সালের পকেট ডায়েরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সংখ্যা ১,১২০, অফিসার ৭৫৭ এবং সহায়ক কর্মচারী ৫৪৪ উল্লেখ রয়েছে। ওয়াকিবহাল নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ তথ্য দিয়ে বলছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী কর্মকর্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত সদস্য অনুমান প্রায় তিনশ’ হতে পারে। এর বাইরেেআওয়ামী লীগের অনুসারী আরও অর্ধশত অফিসার থাকলে আওয়ামী লীগের অনুসারী অফিসার সংখ্যা হতে পারে প্রায় সাড়ে তিনশ’ এর মত। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক অফিসার-ই সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের দুই মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছেন। এ কারণে এখন রাবির প্রশাসন ও একাডেমিক ভবনগুলোতে ঢুকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অফিসারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

সূত্র মতে, অধ্যাপক আব্দুস সোবহান প্রথম মেয়াদে বিভিন্ন পদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রায় ৭৫ জকে এবং দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ২৫ জনকে অফিসার সরাসরি নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া তার আগের মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত দেড় শতাধিক সহায়ক কর্মচারী আপগ্রেডেশন/পদোন্নতি পেয়ে অফিসার হয়েছেন। সর্বশেষ গত ৫ মে উপাচার্যের পদ থেকে বিদায়ের প্রাক্কালে কতিপয় আওয়ামী লীগ নামধারী শিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রবল বাধা উপেক্ষা করে আরও ২৩ জন অফিসার, ২৪ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ৮৫ জন উচ্চমান ও নিম্নমান সহকারি এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। যাদের মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা, কর্মী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, প্রগতিশীল সাংবাদিক ও শিক্ষক পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী কর্মকর্তা পরিষদের একাধিক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তথা আওয়ামী লীগের অনুসারী অফিসারেরা সংখ্যাগত কারণে অনেকটা কোণঠাসা ছিলেন। কিন্তু অধ্যাপক আব্দুস সোবহান এর দুই মেয়াদে সরাসরি অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাড়াও আপগ্রেডেশন/পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারিরা অফিসার হওয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সংখ্যার আগের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের অনুসারী অফিসারেরা এখন ক্যাম্পাসে মাথা উচু করে চলতে পারেন।  এমনকি গলার স্বর উচু করে কথাও বলতে পারেন। প্রশাসন ও একাডিমক সহ অন্যান্য ভবনেও আওয়ামী লীগের অনুসারী অফিসারদের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ে। তাদের দেখে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়।

এ ব্যাপারে জামাত শিবিরের নির্যাতনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে আসা স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক এবং অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খানে এর পর একমাত্র অধ্যাপক আব্দুস সোবহান-ই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। মাঝের চার বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও রাবিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষেরা নায্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। এর কারণও রাজশাহী জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই জানেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের অনুসারী একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা বলেন, অধ্যাপক আব্দুস সোবহান রাবিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরের বছর থেইে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকগ্রুপে ঘাপটি মেরে কতিপয় শিক্ষকের প্রবল বাধার সম্মুখিনও হয়েছেন। তাদের বাঁধা ও প্রশাসনের কয়েক শীর্ষ কর্মকর্তার অসহযোগিতায় মেয়াদের শেষ অর্থকমিটি ও সিন্ডিকেটের সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

ওই শিক্ষক কর্মকর্তারা বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুসসোবহান বিরোধী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের হাত-পা বেধে রেখেছিল। কিন্তু ১৯৭৩ এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্টের বলে সেই বাধা অতিক্রম করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের পদ থেকে বিদায়ের সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসী উল্লেখিত সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিতও হন অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। এদের মধ্যে ৪৫ জন সরাসরি রাজশাহী জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছাড়াও, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, প্রগতিশীল সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মী এবং আওয়ামী লীগের অনুসারী শিক্ষক পরিবারের সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ওই শিক্ষক-কর্মকর্তারা আরও বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাত-বিএনপির অনুসারী শিক্ষক-অফিসাররা নাখোশ হলেও রহস্যজনক কারণে তারা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে এনিয়ে প্রকাশ্যে জামাত-বিএনপির ভূমিকায় রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দাবিদার কতিপয় শিক্ষক। ওই শিক্ষকদের নেপথ্যে থেকে ২০১৮ থেকে যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বার্থ বিরোধী হিসেবে কাজ করেছেন, প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ পদে থাকা সেই কর্মকর্তা তার সাম্প্রতিক কিছু কর্মকান্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। এখন আবার উপাচার্য হওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ব্যাপক তদবিরও করছেন। এরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের অনুসারী হলেও ভেতরে ভেতরে মাননীয় সাবেক প্রধান বিচারপতি ‘এসকে সিনহা’র ভূমিকায় রয়েছেন বলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক-কর্মকর্তারা মনে করেন। তারা রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বিরোধী ওই শীর্ষ কর্মকর্তা ও তার অনুসারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকগ্রুপে থাকা আওয়ামী লীগ বিরোধী শিক্ষকদের বিচারও দাবি করেন।

admin

Read Previous

‘হ্যাটস অফ টু ইউ স্যার’

Read Next

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নির্বাহী আদেশ অমান্যসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *