রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রামেক হাসপাতালে অতিরিক্ত কর্মচারীর পদোন্নতি : ফের বিধিলঙ্ঘনের অভিযোগ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের পদোন্নতিতে আবারও অনিয়ম, সরকারী বিধি লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। পদোন্নতিতে সবশেষ ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য বিভাগীয় নন-মেডিকেল কর্মচারি নিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত কর্মচারি পদোন্নতির । এছাড়াও সিনিয়রদের পদোন্নতি না দিয়ে যোগসাজস করে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন বঞ্চিত এক কর্মচারি।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে অফিস সহকারীর মোট ১৮টি পদ রয়েছে। তারমধ্যে দু’টি শূন্য পদের বিপরীতে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের পদোন্নতির নোটিশ প্রকাশ করে। নোটিশ অনুযায়ী গত ২৩ ফেব্রুয়ারী অফিস সহায়ক হতে অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পেতে মোট ১২জন কর্মচারি আবেদন করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে ওই সময় পদোন্নতি পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে গত ১৩ জুলাই পদোন্নতির লক্ষ্যে নির্বাচনী বোর্ড গঠনসহ লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের চিঠি দেয়া হয়। এরপর গত ১৫ জুলাই কম্পিউটারের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। ২৪ জুলাই ৪ জনকে পদোন্নতি দিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু আলোচিত এ পদোন্নতিতে ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য বিভাগীয় নন-মেডিকেল কর্মচারি নিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতি বোর্ড গঠনের সময় অফিস সহকারীর পদ শূন্য ছিল ৪টি। পদোন্নতি বোর্ডের দিনই দু’জন অফিস সহকারীকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। সে পদ দু’টির শূন্য পদের সাথে যোগ করে মোট ৬টি শূন্য পদ দেখানো হয়েছে। যা নিয়ামনুযায়ী হওয়ার কথা নয়। তবে ৬টি শূন্য পদের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য বিভাগের সবশেষ নিয়োগ বিধি মানা হয়নি। ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য বিভাগীয় নন-মেডিকেল কর্মচারি নিয়োগ বিধিমালায় বলা আছে শূন্য পদের শতকরা ৩০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৭০ ভাগ সরাসরি নিয়োগ দিতে হবে। সে হিসেবে ৬টি পদ শূন্য থাকলেও ২ জনের বেশি পদোন্নতি দেয়া যায় না। কিন্তু রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই বিধি লঙ্ঘন করে ৪ জনকে পদোন্নতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, এর আগে ২০০৪ সালের পদোন্নতিতেও বিধি লঙ্ঘন করে সবগুলো শুন্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল। ওই সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পাওয়া আব্দুল কবির এবার উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতিও পেয়েছেন।

এদিকে, সিনিয়রদের পদোন্নতি না দিয়ে যোগসাজস করে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেয়ায় বঞ্চিত অফিস সহায়ক শেখ গোলাম মোস্তফা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও রামেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। গত ২৯জুলাই তিনি অভিযোগ দেন।

অভিযোগে শেখ গোলাম মোস্তফা উল্লেখ করেন, ‘যে চার জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তারমধ্যে শুধু মাত্র একজন সিনিয়র রয়েছেন। আর বাকি তিনজন জুনিয়র।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘পরীক্ষার দিন বোর্ড়ের দায়িত্বরতরা কম্পিউটারে লেখা-লেখির জন্য আমাদের নিদের্শ দেন। বোর্ডের সময় ছিল ১০ মিনিট। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ৫ মিনিট না যেতেই দায়িত্বরতরা আমাকে লেখা বন্ধ করতে বলেন। তাদের কথা মত আমি লেখা বন্ধ করে দেই। তারপর হাসপাতালের পরিচালক আমাকে তার অফিসে ডাকেন। তিনি ডেকে পদোন্নতির বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না করে পদোন্নতির বাইরে প্রশ্ন করেন। এসময় রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস আমাকে পদোন্নতি না দেয়ার জন্য পরিচালকের সামনে বেশ কিছু উল্টা-পাল্টা কথা বলেন। কারণ ডা. সাইফুল ফেরদৌস কাকে কাকে পদোন্নতি দেয়া হবে সে বিষয়টি আগে নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। যার কারণে পরিচালকের সামনে আমাকে হেয়পতিপন্ন করা হয়।’

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের চাকরির বয়স ৭ বছরের মধ্যে। কিন্তু ১৫ থেকে ১৬বছর চাকরি করা কর্মচারিদেরও পদোন্নতি হয়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মচারিদেরও পদোন্নতির বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়াও পদোন্নতি পাওয়া জুনিয়র এমএলএসএস রফিকুল ইসলামসহ অন্যদের নামে হাসপাতালে ভর্তি রোগিদের কাছ থেকে কাউন্টারে টিকিটের অতিরিক্ত টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অথচ সিনিয়রদের বাদ দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত জুনিয়রদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারী চাকরি বিধিলঙ্ঘন করে ওই চারজনকে পদোন্নতি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সায়ফুল ফেরদৌস মো. কামাল আতার্তুক অনিয়ম ও বিধিলঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মোট ১৮টি শূন্যপদের মধ্যে ১৪টিতে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বাকি চারটিতে বিভাগীয় প্রার্থীদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। সিনিয়রদের বাদ দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্থদের পদোন্নতির অভিযোগও সঠিক নয়। কারণ সকলের পদোন্নতি হয়েছে পরীক্ষার মাধ্যমে।

এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মূলত পদোন্নতি দেয়া হয়েছে কম্পিটারে যারা পারদর্শী ছিলেন তাদের। পদোন্নতি পরীক্ষায় যারা কম্পিটারে ভাল করেছে তাদের নেয়া হয়েছে। সিনিয়র হলেও যারা কম্পিউটারে পারদর্শী ছিলেন না তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমি এখনো অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগকারী কম্পিউটারে পারদর্শী হওয়ার পরও যদি পদোন্নতি থেকে বাদ পড়ে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

রামেক হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষার টাকা জমার কাউন্টারে রোগি ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষার টাকা জমা দেয়ার কাউন্টারে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগি ও স্বজনদের। রক্ত পরীক্ষার জন্য একটিমাত্র

রাজশাহীতে মাদক অপরাধ দমনে করণীয় নির্ধারণ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ‘মাদক অপরাধ দমনে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত

মুশফিকের পর সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পরীমনি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। শুধু বাংলাদেশেরই নয়, গোটা বিশ্বের ক্রিকেট আইকন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশি আলোচিত চিত্রনায়িকা

নওশাবা শুধুই সিনেমায়

মডেলিং ও টিভি নাটকে অভিনয় করে নজর কাড়লেও এখন সিনেমাতেও নিয়মিত অভিনয় করছেন কাজী নওশাবা আহমেদ। করোনাকালেও তিনি অভিনয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নাটক সিনেমায় সমান্তরাল