পুঠিয়ায় ‘প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট’ উধাও : গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৫:১১ এএম ১৬ বার পঠিত
পুঠিয়ায় ‘প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট’ উধাও : গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পুঠিয়ায় ‘প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট’ উধাও : গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দৈনিক রাজশাহী
১০ মে ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়ায় গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ‘প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট’ সুমন আলী মণ্ডল উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় গ্রাহকরা এজেন্ট সুমন আলীকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এরপর থেকে টাকা জমানো গ্রাহকেরা এজেন্ট সুমন আলীকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা জানান, ‘২ থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের ওই এজেন্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ধোপাপাড়া শাখাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। গ্রাম এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের শেষ সম্বল জমা রেখেছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ধোপাপাড়া এজেন্ট শাখায়। 

ভুক্তভোগীরা জানান, এজেন্ট সুমন আলী মণ্ডল ওই শাখায় যেসব টাকা পয়সার লেনদেন করেছেন, সেগুলো কাউকে ব্যাংকের রশিদ এবং কাউকে তার নিজ খাতায় লিখে হিসাব চালিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ গ্রাহকদের নিকট থেকে টাকা জমা নিয়ে নিজের কাছে রেখে  তাদের শুধু ব্যাংকের রশিদ দিয়েছেন, ব্যাংকের শাখায় জমা করেননি। 

জানা গেছে, ধোপাপাড়া এজেন্ট শাখাটি পরিচালিত হচ্ছিল পুঠিয়ার বানেশ্বর প্রাইম ব্যাংকের শাখার অধীনে। ওই এজেন্ট শাখার নাম ছালেহা ট্রেডার্স। ধোপাপাড়া এলাকার মুনসুর আলী মন্ডলের ছেলে সুমন আলী মন্ডল প্রাইম ব্যাংকের ওই এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা করতেন। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল হলে ধোপাপাড়া এজেন্ট এবং প্রাইম ব্যাংকের বানেশ্বর শাখায় ভিড় করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা। এদের মধ্য থেকে শামীম আহমেদ নামের এক টিভি মেকানিক তার কাছে পাওয়া যায় ছয় লাখ টাকা জমা দেওয়ার প্রাইম ব্যাংকের রিসিভ। এখন তার একাউন্টে আর কোন টাকা নেই। শামীম মেয়ের বিয়ে এবং ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য টাকাগুলো জমিয়েছিলেন। শামীম ওই এজেন্টের কাছে টাকা জমা দিলেও এজেন্ট ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা করেননি।

ধোপাপাড়া হাট পাহারাদার অসহায় আজাহার আলী জানান, তিনি ও তার স্ত্রী দু’জনে মিলে ওই শাখায় জমা দিয়েছেন ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এখন এমন ঘটনার পর আত্মহত্যা ছাড়া তাদের আর কোন পথ নেই বলে জানান। এজেন্ট ব্যাংকের বিপরীতে থাকা ভ্যারাইটির দোকানদার আক্কাস আলী দাবি করেন, তিনি ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন সুমনের এজেন্ট ব্যাংকে। ছাগল পালন করে জীবন যাপন করা বিধবা মমতা বেগমের সারা জীবনের সঞ্চয় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন সেখানে। সুমনের এজেন্ট ব্যাংক এর বিপরীতে আরেক পান দোকানি বৃদ্ধ নারী জমা দিয়েছেন সারা জীবনের সঞ্চয় ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে টাকা তুলে নিয়েছেন সুমন আলী এমন অভিযোগ করেন তার ছেলে। শুধু তাই নয়, এমন বহু গ্রাহক প্রতিদিনই ভিড় করছেন এজেন্ট, ব্যাংকের শাখা ও সুমন আলী মণ্ডলের বাসায়। সারা জীবন বিদেশ খেটে যা কামিয়ে ছিলেন, তা জমা রেখেছিলেন ওই ব্যাংকে ভোলা। ওই টাকা হারিয়ে এখন পথে বসেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সুমনের বাবা মনসুর আলী মন্ডল বলেন, আমার ছেলে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ থেকে নিখোঁজ রয়েছে। তারপর থানায় একটি জিডি করেছি। প্রতিনিয়ত মানুষ টাকার জন্য বাসায় আসছেন। গ্রাহকদের কাছে দেওয়া সুমনের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।

বিষয়টি প্রাইম ব্যাংকের বানেশ্বর শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন মানুষ এমন অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা স্বীকার করে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ ধরণের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।