দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে রাজশাহীতে দুদকের জনসচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে রাজশাহীতে দুদকের জনসচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১১ মে) সকালে নগরীর সিএন্ডবি মোড়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা-১) মো. মোজাহার আলী সরদার বলেন, সমাজের সর্বস্তরে সততা, ন্যায়নীতি ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা তথ্য অফিস রাজশাহীর উপপরিচালক নাফেয়ালা নাসরিন বলেন, তথ্য অধিকার আইন জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। সরকারি দপ্তরের তথ্য উন্মুক্ত থাকলে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলা তথ্য অফিস নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপপরিচালক মো. ফজলুল বারী। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এসব কমিটি নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, দুদক শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুদক বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (অ. দা.) একেএম ফজলে হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সততা স্টোর ও সততা সংঘ গঠনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সততা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই কার্যক্রম সফল করা সম্ভব।
দুদকের বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন দুদক জেলা কার্যালয় রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন। তিনি বলেন, দুদক শুধু অভিযোগ তদন্ত নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিতেও সমানভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহীর পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যালয় পর্যায়ে সততা চর্চা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।