পবা উপজেলার বিলনেপাল পাড়াকে মৌপতঙ্গের পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০২:৫০ পিএম আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম ৩৮ বার পঠিত
পবা উপজেলার বিলনেপাল পাড়াকে মৌপতঙ্গের পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা

পবা উপজেলার বিলনেপাল পাড়াকে মৌপতঙ্গের পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা

দৈনিক রাজশাহী
২০ মে ২০২৬

রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপালপাড়া গ্রামকে পরাগায়ন, প্রাণবৈচিত্র্য ও কৃষিপ্রতিবেশ সুরক্ষায় মৌপতঙ্গের পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক), বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বিলনেপালপড়া নারী সংগঠনের আয়োজনে ‘বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবসে’র কর্মসূচিতে এই ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচিতে বিলনেপালপাড়ার কৃষক-কৃষাণী, প্রবীণ, তরুণ, শিক্ষার্থী, যুবকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

কর্মসূচিতে জানানো হয়, মৌপতঙ্গ কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্ভিদের প্রজনন নিশ্চিত, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও খাদ্যব্যস্থা স্থিতিশীলসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু দিনে দিনে কৃষি রাসায়নিকীকরণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কমে যাওয়ায় মৌপতঙ্গ প্রজাতি কমে যাচ্ছে। এমতাবস্তায় মৌপতঙ্গের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। 

কর্মসূচিতে কৃষক-কৃষাণীরা জানান, বিলনেপাল এলাকায় আর কোন ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হবে না। তারা বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা এবং কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করে কৃষিপ্রতিবেশ ও স্থানীয়কৃষি চর্চা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানান। 

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন বারসিক রাজশাহীর সহযোগী প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুল ইসলাম। মৌপতঙ্গের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ওপর ডকুমেন্টারী উপস্থাপন করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রকৃতিতে ২০ হাজার প্রজাতির মৌপতঙ্গ নথিভুক্ত হয়েছে। কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার পরাগবাহী পতঙ্গের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষত ফুল ফোটার সময় এবং দিনের বেলা নির্বিচারে কীটনাশক স্প্রে করার ফলে মৌপতঙ্গ সরাসরি বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এ সংকটকে শুধুমাত্র কৃষি উৎপাদনের প্রশ্ন নয়, এটি একটি বৃহত্তর পরিবেশগত, বহুজীবিক এবং রাজনৈতিক বাস্তুতাত্ত্বিক সংকট হিসেবে দেখতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষাণী গোলাপজান বেগম বলেন, ‘আগে বল্লা, মৌমাছি, ডারাস, ভিমরুল, ছোট বড় বিভিন্ন মাছি ও পোকামাকড় অনেক দেখেছি। এখন আর সেগুলোর দেখা মিলে না। আগে তো কীটনাশক ছিল না। তখন কীটনাশক ছাড়াই ফসল হতো।’ কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌপতঙ্গ আর টিকতে পারছে না। মৌপতঙ্গ অনেক কমে যাওয়ায় কৃত্তিম পরাগায়ন হচ্ছে না। ফলে ফসল কম উৎপাদন হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্তায় জৈব বালাইনাশক উৎপাদন ও প্রাকৃতিক কৃষিতে রুপান্তরের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষকদের এগুলো ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কৃষকদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। 

কৃষাণী সুলতানা খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগ্রোইকোলজি চর্চা করছি। এখানে এগ্রোইকোলজি শিখন কেন্দ্র ও কমিউনিটি বীজ ব্যাংক আছে। এখানে জৈব বালাইনাশক তৈরী ও ব্যবহার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও শেখানো হয়। বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানীর বিষ আমাদের মৌপতঙ্গ ও উপকারী উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ ধ্বংস করছে। ফলে নীরব পরাগসংকটে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।