পরাগায়নের রাজনীতি কেন শুধু মৌমাছি? আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে পুরো মৌপতঙ্গ জগৎ
পরাগায়নের রাজনীতি কেন শুধু মৌমাছি? আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে পুরো মৌপতঙ্গ জগৎ
মো. শহিদুল ইসলাম
মৌমাছির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে কি পুরো মৌপতঙ্গ জগৎ? আজ ২০ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় “World Bee Day”। বাংলাদেশেও দিবসটি “বিশ্ব মৌমাছি দিবস” নামে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। সরকারি দপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাণিজ্যিক মৌচাষ প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং করপোরেট কৃষি উদ্যোগগুলো দিবসটিকে ঘিরে মৌমাছির গুরুত্ব তুলে ধরে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়,এই দিবসটি কি সত্যিই কেবল “মৌমাছি”কে কেন্দ্র করে,নাকি এটি বৃহত্তর
পরাগায়নকারী প্রাণবৈচিত্র্যের প্রতীক? আরও গভীর প্রশ্ন হলো-কেন “পরাগায়ন” নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা কেবল মৌমাছিকেই সামনে আনি? কেন প্রজাপতি, ভোমরা, বোলতা, Hoverfly ( ফুলমাছি) , বিটল,মথ কিংবা অন্যান্য পরাগায়নকারী পতঙ্গ প্রায় অনুপস্থিত থেকে যায়? এটি কি নিছক ভাষাগত সরলীকরণ, নাকি এর ভেতরে রয়েছে পরিবেশ-রাজনীতি, বাজার ও জ্ঞান-উৎপাদনের এক গভীর কাঠামো?
এই প্রশ্নগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বিশ্বজুড়ে pollinator decline বা পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আর বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে এই সংকট খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণবৈচিত্র্য ও কৃষি সংস্কৃতির ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
World Bee Day আসলে কী বোঝায়?
জাতিসংঘ ২০১৭ সালে ২০ মে-কে “World Bee Day” হিসেবে ঘোষণা করে। দিবসটি সম্পর্কে প্রথম ২০১৬ সালে স্লোভেনিয়া সরকার ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসাবে উদযাপনের ধারণাটি প্রস্তাব করেছিল।এরপর দিবসটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহায়তায় চুড়ান্ত প্রস্তাবে ২০১৭ সালে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলি দ্বারা অনুমোদিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পতঙ্গের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করা।জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষ্যেই বলা হয়েছে,এই দিবসের উদ্দেশ্য হলো-“পরাগায়নকারীদের গুরুত্ব,তারা যেসব হুমকির মুখোমুখি এবং টেকসই উন্নয়নে তাদের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য জাতিসংঘ ২০ মে-কে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।”
অর্থাৎ,এখানে পরাগায়নকারী প্রাণী শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিবসটি কেবল honey bee বা মধু উৎপাদনকারী মৌমাছির জন্য নয়;বরং পুরো পরাগায়নকারী প্রতিবেশ-এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। জাতিসংঘ আরও বলছে, পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্য কোনো না কোনোভাবে প্রাণী-নির্ভর পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল। ফল,সবজি,বাদাম,তৈলবীজ,মসলা ও বহু অর্থকরী ফসল পরাগায়নকারী পতঙ্গ ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই “Bee” এখানে একটি প্রতীকী শব্দ, যা পুরো পরাগায়নকারী প্রাণীদের জগৎ এর প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু বাংলাদেশে দিবসটি ধীরে ধীরে কেবল “মধু উৎপাদনকারী মৌমাছি”র অর্থে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।তবে ২০ মে যখন World Bee Day দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনও এক ধরনের ভোগবাদী ও কর্পোরেট উপনিবেশিক মননের এক কৌশলী অনুপ্রবেশ এই দিবসটির ভেতরেও লক্ষ্য করা যায়। বলা যেতে পারে, শুরু থেকেই এই দিবসটির সঙ্গে এক ধরনের পরিবেশ-রাজনীতি কাজ করছে। কারণ জাতিসংঘ যখন দিবসটি ঘোষণা করে,তখন কেবল “পরাগায়নকারী প্রাণী” বা “মৌপতঙ্গের জগৎ”নয়;বরং বিশেষভাবে “মৌমাছি”কে কেন্দ্র করেই দিবসটির নামকরণ করা হয় World Bee Day ।এটাতো হতে পারতো World Pollinators Day ।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দিবসটি পালনের জন্য ২০ মে তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও উপনিবেশিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট। এই দিনটি হলো অ্যান্টন জানশা এর জন্মদিন। অ্যান্টন জানশা ছিলেন স্লোভেনিয়ার একজন বিখ্যাত মৌচাষি এবং আধুনিক মৌপালন ব্যবস্থার অন্যতম পথিকৃৎ। তাকে অনেক সময় আধুনিক মৌচাষের জনক হিসেবেও অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ, দিবসটির ঐতিহাসিক ভিত্তিও মূলত মৌচাষ ও মধু অর্থনীতি কেন্দ্রিক। ফলে এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে,পরাগায়নের বিশাল পৃথিবীকে কেন একটি মাত্র অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রাণীর প্রতিনিধিত্বে সীমাবদ্ধ করা হলো? কেন প্রজাপতি, ভোমরা, ফুলমাছি কিংবা অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণী এই বৈশ্বিক প্রতীকের বাইরে থেকে গেল?এই প্রশ্নগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরিবেশ বিষয়ক বৈশ্বিক ভাষ্যও সবসময় নিরপেক্ষ নয়;বরং এর ভেতরে বাজার,জ্ঞান-রাজনীতি এবং কর্পোরেট পরিবেশবাদের সূক্ষ্ম প্রভাব কাজ করতে পারে।
মৌমাছি আর মৌপতঙ্গ কি একই বিষয়?
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো-না। মৌমাছি এবং মৌপতঙ্গ একই বিষয় নয়।বরং মৌমাছি হলো মৌপতঙ্গ বা পরাগায়নকারী পতঙ্গের বিশাল জগতের একটি অংশমাত্র।যেমন মধু মৌমাছি (Honey Bee),ভোমরা মৌমাছি (Bumble Bee), একাকী মৌমাছি (Solitary Bee) হুলবিহীন মৌমাছি (Stingless Bee),কাঠমিস্ত্রি মৌমাছি (Carpenter Bee)অর্থ্যাৎ আমারা সাধারণভাবে যাকে মৌমাছি বলি সেটি আসলে বহুপ্রজাতির একটি বৃহৎ গোষ্ঠী।বর্তমানে বিজ্ঞানীরা কিছু গবেষণায় ২৫,০০০ হাজারের বেশি মৌমাছির প্রজাতি শনাক্ত করেছেন।আবার মৌপতঙ্গ বলতে এমন সব পতঙ্গকে বোঝায় যারা ফুল থেকে ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তরের মাধ্যমে উদ্ভিদের প্রজননে সাহায্য করে। অর্থাৎ, তারা পরাগায়নকারী ।এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-সব মৌমাছি মৌপতঙ্গ,কিন্তু সব মৌপতঙ্গ মৌমাছি নয়।মৌপতঙ্গের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে-মৌমাছি,প্রজাপতি,মথ বা রাতের প্রজাপতি, বোলতা , ফুলমাছি, গুবরে পোকা, পিঁপড়া, থ্রিপস, কিছু মাছি ,এমনকি পতঙ্গ ছাড়াও কিছু পাখি ও বাদুড় গুরুত্বপূর্ণ পরাগায়নকারী হিসেবে কাজ করে।এমন সব দেখা অদেখা প্রাণী মৌপতঙ্গ আছে।বিজ্ঞানীরা এই পরাগায়ন হিসেবে কাজ করে এমন সব দেখা অদেখা প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা ২ লক্ষেরও বেশি মনে করেন।অর্থাৎ,মৌপতঙ্গ একটি প্রতিবেশগত শ্রেণি বা ইকোলজিক্যাল ক্যাটাগড়ি আর মৌমাছি হলো একটি নিদিষ্ট জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণী বা টেক্সোনোমিক গ্রুপ,এখানেই মৌলিক পার্থক্য। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণভাবে এই দুইটি বিষয়কে এক করে দেখানো হয়।এর ফলে পরাগায়ন-প্রতিবেশ বা পরাগায়নভিত্তিক বাস্তুসংস্থানের প্রকৃত বৈচিত্র্য আড়ালে পড়ে যায়।এই বিভ্রান্তি কেবল ভাষাগত নয়;এটি বৈজ্ঞানিক,পরিবেশগত এবং রাজনৈতিকভাবেও।
কেন শুধু মৌমাছি সামনে আসে বা মৌমাছিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
এখানেই পরাগায়নের রাজনীতি বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পলিটিক্যাল ইকোলজির ভাষায়,পরিবেশ ও প্রকৃতিকে আমরা যেভাবে দেখি, তা কখনোই নিরপেক্ষ নয়। রাষ্ট্র, বাজার, করপোরেট কৃষি ও জ্ঞান-ব্যবস্থা নির্ধারণ করে কোন প্রাণী দৃশ্যমান হবে, আর কোনটি অদৃশ্য থাকবে।মৌমাছি দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে,যেমন মৌমাছি বাজার যোগ্য,মধু একটি পণ্য। মৌচাষ একটি ব্যবসা। ফলে মৌমাছি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অন্যদিকে বুনো মৌমাছি বাজারে বিক্রি হয় না। তাই তাদের গুরুত্বও কম আলোচিত।অনেকেই বলে মৌমাছি বন্ধুসুলভ প্রতীক। মৌমাছিকে সহজেই পরিশ্রমী,উপকারী প্রাণী হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এটি করপোরেট পরিবেশবাদের জন্যও সুবিধাজনক। আবার এটি বাণিজ্যিক কৃষির স্বার্থও বটে,যেমন-শিল্প কৃষি কখনো পরাগায়নকারী পতঙ্গ বৈচিত্র্য নয়;বরং নিয়ন্ত্রিত পরাগায়ন চায়। তাই বাণিজ্যিক মধু মৌমাছির কলোনি বেশি গুরুত্ব পায়। পশ্চিমা কৃষি ও উন্নয়ন কাঠামোতে মৌমাছি একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।যা একটি জ্ঞান-উপনিবেশবাদ।বাংলাদেশ সেই ভাষ্য অনুবাদ করেছে, কিন্তু স্থানীয় প্রতিবেশগত জটিলতা কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।ফলে পুরো পরাগায়নকারী বাস্তুতত্ত্ব সংকুচিত হয়ে মৌমাছি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।
আমাদের জন্য বুনো মৌপতঙ্গ কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে?
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বুনো পরাগায়নকারীরা অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক হানি বি এর চেয়ে বেশি কার্যকর।কারণ-তারা স্থানীয় জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজিত, বিভিন্ন ফুলে পরাগায়নে দক্ষ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে,ইকোসিস্টেম রেজিলেন্স বাড়ায়, অনেক ফসলে একাকী (সলিটারি বি) বা ভোমরা মধুসংগ্রকারী হানি বি এর চেয়েও বেশি কার্যকর পরাগায়কারী হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নীতিনির্ধারণে তারা প্রায় অদৃশ্য। এটি পরিবেশগত অদৃশ্যকরণ বা বাস্তুসংস্থানিক অদৃশ্যকরণের একটি উদাহরণ-যেখানে গুরুত্বপূর্ণ জীবগুলোকে জ্ঞান ও নীতির বাইরে রাখা হয়।
কীটনাশক ও কৃষি-রাসায়নিকের নীরব গণহত্যা
কীটনাশক ও কৃষি-রাসায়নিকের নীরব গণহত্যা করেছে। বর্তমানে পরাগায়ন পতঙ্গের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো কৃষির অতিরিক্ত রাসায়নিকীকরণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে- Neonicotinoid pesticide মৌমাছির স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে,Glyphosate ফুল ও আগাছা কমিয়ে pollinator habitat নষ্ট করে। Fungicide ও insecticide মিলিতভাবে মৃত্যু ঝকি বাড়ায়। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে, পরাগায়নকারী মৌপতঙ্গ হ্রাস এখন বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার জন্য হুমকি। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলেও আগের মতো প্রজাপতি, ভোমরা বা বুনো মৌমাছি চোখে পড়ে না। বরেন্দ্র অঞ্চলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নকারী পতঙ্গ দ্রুত কমছে-যা স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন।এটি কেবল পতঙ্গের সংকট নয়;এটি খাদ্য সার্বভৌমত্বের সংকটও।
এখন প্রশ্ন আসে মৌমাছি দিবস নাকি মৌপতঙ্গ দিবস ?
ভাষাগতভাবে World Bee Day এর বাংলা বিশ্ব মৌমাছি দিবস হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পরিবেশগত ভারসাম্য বা ইকোলোজিক্যাল অর্থে এটি অসম্পূর্ণ। কারণ দিবসটির প্রকৃত উদ্দেশ্য-মৌমাছি,প্রজাপতি,ফুলমাছি (হোভারফ্লাই),রাতের প্রজাপতি (মথ),বুনো পরাগায়নকারী প্রাণী-সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা। তাই বাংলায় বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবস বা বিশ্ব পরাগায়নকারী দিবস শব্দগুলো ইকোলোজিক্যাল এবং রাজনৈতিকভাবে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক। এটি শুধু অনুবাদের প্রশ্ন নয়; এটি আমরা প্রকৃতিকে কীভাবে দেখি সেই প্রশ্ন। সার্বিকভাবে বহুবৈচিত্র্যের,বহুপ্রাণের কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে দিবস পালনের ভাষা বদলাতে হবে। শুধু মৌমাছি নয়; পুরো মৌপতঙ্গ জগতকে সামনে আনতে হবে। তাই ‘বিশ্ব মৌমাছি দিবস’ নামে নয়; ‘বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবস’ নামেই পালন করা হোক। কারন এর মধ্যে দিয়ে আমাদের বহ্রপ্রজাতির দিকগুরো সামনে আসবে। মৌমাছি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পৃথিবীর পরাগায়নব্যবস্থা কেবল মৌমাছির কাঁধে দাঁড়িয়ে নেই। হাজারো অদৃশ্য পতঙ্গ, প্রজাপতি, ভোমরা, মাছি ও বুনো মৌমাছির সম্মিলিত ইকোলোজিক্যাল লেবার এর ফলেই পৃথিবীর খাদ্যব্যবস্থা টিকে আছে।
তাই পরাগায়নের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। কারণ আমরা যদি কেবল মৌমাছিকে দেখি, তাহলে হয়তো পুরো ইকোলোজিক্যাল কমিউনিটিকে অদৃশ্য করে ফেলছি। এখন সময় এসেছে মৌমাছির পাশাপাশি মৌপতঙ্গ কেও দৃশ্যমান করার। কারণ পরাগায়নের পৃথিবী একক কোনো প্রাণীর নয়; এটি বহুপ্রজাতির সহাবস্থানের এক বিস্ময়কর জগত । #
লেখক : নৃবিজ্ঞানী ও পরিবেশ আইন গবেষক
shahidul546mh@gmail.com