গোদাগাড়ীতে জেলা পরিষদের ৫ ফেরিঘাট বেদখল : সাড়ে ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

দৈনিক রাজশাহী প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২০ এএম ৩৯ বার পঠিত
গোদাগাড়ীতে জেলা পরিষদের ৫ ফেরিঘাট বেদখল : সাড়ে ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

গোদাগাড়ীতে জেলা পরিষদের ৫ ফেরিঘাট বেদখল : সাড়ে ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

দৈনিক রাজশাহী
১৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা নদীর গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ফেরিঘাট বেদখল হয়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় ঘাটগুলো কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী, বিদিরপুর, ফুলতলা, রেলবাজার, হাটপাড়া, ভগবন্তপুর ও সুলতানগঞ্জ খেয়াঘাট ব্রিটিশ আমল থেকেই স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব ঘাটের মাধ্যমে পদ্মা নদীর দুই তীরের হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন। তবে চলতি বছরে শুধু সুলতানগঞ্জ ফেরিঘাট ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি ঘাটগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইজারা প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ছয়টি ঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই বছর ধরে আর কোনো ঘাট ইজারা দিতে পারেনি জেলা পরিষদ। ফলে রাজস্ব আয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়ে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঘাটগুলোকে ঘিরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়। ইজারাদারদের সরিয়ে দিয়ে কিছু পক্ষ নিজেরাই টোল আদায় শুরু করে। এরপর ঘাট ইজারা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা ইজারা কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। চলতি বছর ইজারা প্রক্রিয়া শুরু হলেও উচ্চ আদালতে রিট হওয়ায় তা আবারও স্থগিত হয়ে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এসব ঘাট দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগে ইজারা ব্যবস্থা থাকায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বর্তমানে তদারকি না থাকায় নদীপথে অবাধ চলাচল বেড়ে গেছে। রাতদিন নির্বিঘ্নে নৌপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চর আষাড়িয়াদহ ও আলাতুলি ইউনিয়ন পদ্মা নদীর কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এসব চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম এসব ঘাট। ইজারা না থাকায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত নৌকা ব্যবহার করে যাত্রী পারাপার করছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে, যা জেলা পরিষদের কোষাগারে জমা হচ্ছে না।

এছাড়া বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে উর্বর কৃষিজমি থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে মাদক চোরাচালানও সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পর্যাপ্ত নৌযান ও নজরদারি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেও এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘাটগুলো জনগণের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস। দীর্ঘদিন ধরে ইজারা না হওয়ায় কোনো রাজস্ব পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জটিলতার কারণে অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, ঘাট বিলুপ্তির দাবি গ্রহণযোগ্য নয়, এটি সরকারি সম্পদ এবং আইনের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।