পবার বড়গাছী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দৈনিক রাজশাহী প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১২:৪৫ এএম আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ১০:২১ এএম ৭ বার পঠিত
পবার বড়গাছী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পবার বড়গাছী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দৈনিক রাজশাহী
১২ মে ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলায় বড়গাছী ইউপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে ভূয়া প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্যানেল চেয়ারম্যানকে উপেক্ষা করে গত ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তাকে দায়িত্ব নেওয়ার হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে এলাকায় মৌখিক অভিযোগের শেষ নাই। জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে তার বিরুদ্ধে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কপি পাঠানো হয়েছে দুদকেও। গগ ২৪ এপ্রিল তজিবুর রহমান, শামসুল ইসলাম ও সোহেল রানা এই অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল। এতে বলা হয়, দাদপুর গফুরের বাড়ি থেকে বড়পুকুর পর্যন্ত রাস্তার কাজ দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর জোনাবের বাড়ি থেকে মুকুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, বাগিচাপাড়া ময়নার বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর চকপাড়া মিলনের বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় সিসি ঢালাইয়ের নামে ২ লাখ টাকা, বাগিচাপাড়া আসাদুলের বাড়ি থেকে ইদ্রিসের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় সিসি ঢালাই দেখিয়ে ২ লাখ টাকা এবং দাদপুর দাখিল মাদ্রাসায় বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহের নামে ৫২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

নথিপত্র বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, বীর গোয়ালিয়া গ্রামের বাবুলের বাড়ি থেকে দিপু মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ উল্লেখ রয়েছে। এতে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়। রোববার সকালে গ্রামটিতে গিয়ে দিপু মাস্টার নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আজিজ জানান, এ গ্রামে দিপু মাস্টার নামে কেউ নেই। বীরগোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বড়গাছি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজিয়ার রহমান জানান, এ গ্রামে রাস্তায় মাটি ভরাটের কোনো কাজ হয়নি। ৭ লাখ টাকার মাটি ফেললে রাস্তা এ অবস্থায় থাকতো না।

অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ইউনিয়নে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ ১৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২ জুন ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ১৮ নভেম্বর ১০ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে। কোথাও নামসর্বস্ব মাটি ফেলে আবার কোথাও কোনো কাজ না করে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা লুটপাট হয়েছে।

জানা গেছে, হেলাল উদ্দীন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ভূয়া প্রকল্পে টাকা লুটপাটের কারণে মাঝখানে একবার তিনি বরখাস্ত হন। উচ্চ আদালতে রিট করলে আবারো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পান। ফিরে পাওয়া সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক বলেন, ‘আপনাদের মত আমার দৃষ্টিতেও তিনি চেয়ারম্যানের অযোগ্য একজন মানুষ। অযোগ্য মানুষ দিয়ে অন্ততঃপক্ষে দেশের বা জনগণের উপকার হতে পারে না। তার পক্ষে লুটপাট করাটাই স্বাভাবিক’।

এদিকে দুর্নীতি জেনেও ইউনিয়ন পরিষদের ঝামেলা এড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নেননি ধারণা করছেন সচেতনমহল। যে কারণে তিনি নামসর্বস্ব প্রকল্প দেখিয়ে টাকা লুটপাট করে পার পেয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমার প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয় না। আমি সব কাজ সুন্দরভাবে করি। ভুয়া প্রকল্প যদি থাকে সেটা আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে হতে পারে।’

নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন বলেন, পবা উপজেলায় আসা বেশী দিন হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।