যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: গ্রেপ্তার এক আসামি থানা থেকেই জামিনে! আরেকজন কারাগারে

দৈনিক রাজশাহী প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১১:৫১ এএম আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ১২:৪১ পিএম ৩ বার পঠিত
যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: গ্রেপ্তার এক আসামি থানা থেকেই জামিনে! আরেকজন কারাগারে

যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: গ্রেপ্তার এক আসামি থানা থেকেই জামিনে! আরেকজন কারাগারে

দৈনিক রাজশাহী
১২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীতে কথিত চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বর্বর ও অমানবিক ওই ঘটনার ভিকটিম মোঃ তুষারের বাবা নাজির আলী সোমবার (১১ মে) নগরীর মতিহার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। 
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট মতিহার থানা পুলিশ অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে একজনকে থানা থেকেই ‘জামিনে’ মুক্তি দিয়েছেন নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। অপর এক আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (১০ মে) নগরীর মতিহার থানা এলাকায় ভুক্তভোগী মো. তুষার (১৮) কে নির্মম নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিকটিম তুষার নগরীর কাজলা বিলপাড়ার বাসিন্দা। 
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত অপর আসামিরা হলেন, নগরীর বাজে কাজলার বাসিন্দা মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আলী হাসান মো. মুজাহিদ। মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামিরা হলেন শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। এছাড়া অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মামলার এজাহারে আসামি আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকার বিষয়টি বিবেচনায় তাকে থানা থেকে ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। গ্রেপ্তার আসামি মুজাহিদকে জামিনে মুক্তির প্রসঙ্গে আরএমপির মুখপাত্র আরও বলেন, ‘মামলার কোনো আসামিকে জামিন দিতে পারেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। আইনে ওসিকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি পুলিশের এখতিয়ার।’
আরএমপির মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তার অপর আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার (১২ মে) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানো আদেশ দিয়েছেন। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগে করা হয়েছে, ‘গত শনিবার (৯ মে) রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন বাড়িতে গিয়ে তুষারের খোঁজ করেন। এ সময় তুষার বাড়ি নেই বলে জানান তার বাবা নাজির আলী। তখন ‘তুষারকে পেলে সবকিছু বোঝানো হবে’ বলে হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এমনকি কোনো ধরনের তদবির না করার কথাও বলে যান তারা। পরদিন রবিবার সকালে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে আগের দিন খোঁজার কারণ জানতে চান তুষার। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে নগরীজুড়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে।
এদিকে নির্যাতনের পর তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসা শেষে সোমবার রামেক হাসপাতাল থেকে তিনি বাড়ি ফেরেছেন তুষার।  

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।