তিস্তা প্রকল্পে ভারত ও চীনের আগ্রহে টানাপোড়েনে বাংলাদেশ!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৩:১১ পিএম আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৮:১২ পিএম ৫০ বার পঠিত
তিস্তা প্রকল্পে ভারত ও চীনের আগ্রহে টানাপোড়েনে বাংলাদেশ!

তিস্তা প্রকল্পে ভারত ও চীনের আগ্রহে টানাপোড়েনে বাংলাদেশ!

দৈনিক রাজশাহী
১৫ মে ২০২৬

‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ ঘিরে যখন বেইজিং-নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত আলোচনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। তখন বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণের পরই বিদেশি অংশীদারিত্ব বা অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রশ্নে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আগ্রহকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সমন্বয় করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ নির্মাণ তিস্তাকে শুধু মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়নি, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতি, সামাজিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যার প্রভাব দুই কোটিরও বেশি মানুষ বহন করছেন। বহু প্রতিশ্রুতি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

এ প্রেক্ষাপটে ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ হাতে নেয় বাংলাদেশ। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; এটি জলনিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কৌশলগত উদ্যোগ। ফলে প্রকল্পটিকে ঘিরে চীন ও ভারতের পৃথক আগ্রহ রয়েছে।

সবশেষ ৬ মে বেইজিং সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পে দেশটির কারিগরি এবং আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এরপর নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল বিষয়টিকে নতুন করে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।

তবে পানি সম্পদমন্ত্রী বলছেন, তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও জাতীয় প্রয়োজন মূল্যায়নের পরই প্রকল্প অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের বিষয় বিবেচনা করা হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে উন্নয়ন অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং কৌশলগত স্বার্থ-এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করে অগ্রসর হতে হবে।

তাদের মতে, ভারত ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ওবায়দুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় ভারতের সেনসিটিভিটি আমরা বুঝেছি, এখনও বুঝি। এ রকম একটি অবকাঠামোগত প্রকল্পে চীনাদের অংশগ্রহণ ভারতের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এতো কাছে শিলিগুড়ি করিডোর।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের প্রয়োজনেই এই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। এটি মাথায় রেখে কিভাবে আমরা পদ্ধতিগত ভাবে এগুবো সেটিই আমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।