বিএনপি মহাসচিবকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক গ্রুপে ভিডিও আপলোড
কান ধরে ক্ষমা প্রার্থনা ও ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েও পুলিশ হেফাজতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর!
কান ধরে ক্ষমা প্রার্থনা ও ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েও পুলিশ হেফাজতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর!
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও বানানোর পর ‘চাপে পড়ে’ কান ধরে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর বাগমারার যুবক আব্দুল কাদের। এরপরও তার নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মী।
ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, চাঁদা আদায়ের পর পর ওই যুবককে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে। তবে চাঁদা আদায়কারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি সূত্র।
সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল কাদের (৩১) ফেসবুকে ‘সজীব’ নামে পরিচিত। বাগমারা উপজেলায় তার বাড়ি। বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ ফেসবুক পেজ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে কাদেরের একটি ভিডিওটি আপলোড হয়। ওই ভিডিও পোস্টে কাদেরকে কয়েকবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ভুল উচ্চারণ করেন। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরের রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই অনুষ্ঠান ঘিরে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন।
ওই ভিডিও দেখে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে তিনি বলেন, তিনি ফানি ভিডিও তৈরির অংশ হিসেবে তিনি ভিডিওটি করেছিলেন। তবে ক্ষমা চাইলেও বুধবার রাতে যুবদল, তাঁতীদল ও বিএনপি নেতারা তাকে ভবানীগঞ্জে আটক ও পুলিশে সোপর্দ করে। বৃহস্পতিবার বাগমারা থানা পুলিশ তাকে মুচলেকায় জামিন দেয়।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, সম্মানিত ব্যক্তিকে ব্যাঙ্গ করে ভিডিও বানানো ঠিক হয়নি। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন। কিন্তু ওই যুবক যেটা করেছেন সেটা আইনের ধর্তব্য অপরাধের আওতায় পড়ে না। তাই আগামী ৬মাস সপ্তাহে একদিন থানায় হাজিরার শর্তে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এই ছয়মাস তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।