১৬ লাখ টাকা ‘চাঁদা’ নিয়েও রাজশাহীতে বহুভবন নির্মাণে বাধা!
১৬ লাখ টাকা ‘চাঁদা’ নিয়েও রাজশাহীতে বহুভবন নির্মাণে বাধা!
রাজশাহীতেে ১৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর আরও ‘চাঁদা’ না দেওয়ায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর শিরোইল স্টেশন রোডের‘রাজশাহী টাওয়ার’ নামের ২১ তলা ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। এটিই হতে যাচ্ছে রাজশাহীর সর্বোচ্চ বহুতল ভবন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, জয়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ লিমিটেড এই আবাসিক ভবনটি নির্মাণ করছে। ভবনটির মালিক ১০০ জন। নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই ‘হকস ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেল। ভবন নির্মাণের কারণে হোটেল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অযুহাত তুলে ২৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ার কারণে বুধবার জয়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন হোটেল মালিক এনাজুল হক অমি। এ নিয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে অমিসহ চারজন এসে তুহিনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার সময় শ্রমিকেরা বাধা দেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। একজন ঘটনার ভিডিও করে রাখেন। এতে দেখা যায়, তুহিনকে শারীরীকভাবে লাঞ্ছিত করে অমি বলেন, ‘আইজকে তোকে পেয়েছি, অফিসে চল’। আবার ‘আপনি চলেন না রে বাবা’ বলে তুহিনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন অমি। তুহিন যেতে না চাইলে অমি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘কান-মুখ ফাটিয়ে ফেলব’। তুহিনকে মারধরের হুকুম দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোর এত বড় কলিজা, মার আমি দেখছি ওকে।’
তুহিনকে লাঞ্ছিত করা শুরু হলে পরবর্তীতে নির্মাণ কাজের শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন তাকে রক্ষা করেন। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তুহিন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে বোয়ালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, কাজ শুরুর পর থেকে অমি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার কারণে কয়েকদফায় তাকে ১৬ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়াও হয়। কিন্তু অমি আরও কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। বুধবার তাদের ভবনের রিটার্নিং ওয়ালের ঢালাই চলছিল। তখন দলবল নিয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন অমি। আগে টাকা দিয়ে পরে কাজ হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। এরই একপর্যায়ে টাকার জন্য তুহিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী তুহিন বলেন, ভবনটি নির্মাণ শুরু করার পর থেকেই অমি হয়রানি করে আসছেন। অমি প্রথমে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অফিসে অভিযোগ দেন এই দাবি করে যে, নির্মাণ কাজের জন্য তার হোটেল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু আসলে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। সরেজমিনে পরিদর্শনের পর গত বছরের ২ জুলাই তাকে আরডিএর অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক একটি চিঠি দেন। এতে শুধু পার্শ্ববর্তী ভবনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় এমনটি নিশ্চিত করে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। ভবনের ক্ষতি হলে আরডিএ সেটিও বলত। এরপরও অমি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মিথ্যা অযুহাত সামনে এনে টাকার জন্য হয়রানি করে আসছেন।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে পরিচালক পদে নির্বাচন করেন অমি। ওই সময় চাঁদার টাকার জন্য প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছিলেন তিনি। নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছেন। এ কারণে তিনি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন। আর এ জন্য বুধবার তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, থানায় অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছিল। এরপর তারা আবার নির্মাণ কাজ শুরু করতে পেরেছেন। তবে এখনও তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ হলে বুধবার বিকেলে নিজের হোটেলে সাংবাদিকদের ডেকে কথা বলেন অভিযুক্ত এনাজুল হক অমি। তিনি দাবি করেন, নির্মাণ কাজের কারণে তার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্যই তিনি টাকা চান। তিনি স্বীকার করেন, আগে তিনি সাড়ে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। চেম্বারের নির্বাচনের কারণে তিনি বাকি টাকা চাচ্ছিলেন। তবে এটি চাঁদা নয় বলে তিনি দাবি করেন। আবাসন ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে নগরের বোয়ালিয়া মাডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আবাসন ব্যবসায়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়েই আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তারপর কাজও শুরু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’