নেতৃত্ব কেবল নীতিতে নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:৪৩ এএম আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০২:১১ পিএম ১৮ বার পঠিত
নেতৃত্ব কেবল নীতিতে নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নেতৃত্ব কেবল নীতিতে নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক রাজশাহী
২৪ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ সেই ভবনের ছাদে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি, নেতৃত্ব কেবল নীতিতেই নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে।’

আজ রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে একটা বার্তা আমরা স্পষ্টভাবে দিতে পারব। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপের উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে। শিল্পায়ন বাড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।’

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন এসব আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এ কারণেই টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য একটি অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টার সৌরশক্তি পাওয়া যায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সৌরশক্তি এখন কেবল পরিবেশবান্ধব নয়, অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান। আজকের এই প্রকল্প সেই বৃহত্তর যাত্রারই অংশ। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সকল সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয় তবে বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ খুব দ্রুতই টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’

এ সময়ে মঞ্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপগণ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যগণ এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।