‘আমি বাড়ি আসছি মা, তোমাদের সঙ্গে ঈদ করবো'
‘আমি বাড়ি আসছি মা, তোমাদের সঙ্গে ঈদ করবো'
সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে জীবিকার তাগিদে নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে নোয়াখালীর একটি দোকানে কাজ করতে গিয়েছিলেন আলমগীর হোসেন সুজন। গত কয়েকদিন আগে মাকে মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন, সোমবারে বাড়ি তিনি আসবেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবেন। তবে সেটা আর হলো না।
আজ সোমবার (২৫ মে) ভোরে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে যায়। ট্রাকটি রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। তাদের একজন আলমগীর হোসেন সুজন (২৬)। বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রামগাঁ গ্রামে। বাবার নাম মৃত মো. রহমাতুল্লাহ
আলমগীর হোসেনের খালাতো ভাই মো. মহির উদ্দিন জানান, আলমগীর হোসেন এলাকায় কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। বছর পাঁচেক আগে তাঁর বাবা মারা যান। বছর দুয়েক আগে সংসারে স্বচ্ছলতার আশায় নোয়াখালী চলে যান। সেখানে একটি দোকানে কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন। বাড়িতে মা, স্ত্রী ও তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
বিকেলে রামগাঁ আলমগীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি ভর্তি লোকজন। পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রামবাসী, আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে এসে ভীড় করছেন। স্ত্রী মোছা. মিম স্বামীর শোকে কাঁদতে কাঁদতে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। মা বাড়ির এককোণে বসে কাঁদছেন। তিন বছরের মেয়ে সিদ্দিকাও কাঁদছে।
আলমগীর হোসেনের মা মোসাম্মৎ রহিমা বিবি বলেন, 'গত কয়েকদিন আগেই ব্যাটা হামার সাথে কথা বুললো। আম্মা হামি ঈদের মধ্যে বাড়িতে আসিছো। তোমাক আর বউ-বাচ্চা লিয়া ঈদ করমু। সেডা আর হলো না। হামার বেটা আর ফিরা আসপে না।'
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান, পিপিএম বলেন, টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিয়ামতপুর উপজেলার একজন নিহত হওয়ার খবর স্থানীয়ভাবে জেনেছি। আরো অধিকতর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।