গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীরকে খুঁজছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ এএম আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ এএম ৪ বার পঠিত
গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীরকে খুঁজছে পুলিশ

গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীরকে খুঁজছে পুলিশ

দৈনিক রাজশাহী
০৬ জুল ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পুলিশ যাওয়ার আগেই তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। তাকে যে কোনো মূল্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান।

‘মাদকমুক্ত থানা গড়ার লক্ষ্যে’ গত মঙ্গলবার গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন হেরোইন মাফিয়া জাহাঙ্গীর আলম। এতে অস্বস্তিতে পড়েন অনেকেই। সভায় মাদক ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির বিষয়টিও একজন বক্তার বক্তব্যে উঠে আসে।

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। শুক্রবার রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদারপুর মহল্লায় জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ। গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম নিজেই এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। তার বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশিও চালানো হয়েছে। তবে বাড়িতে কিছু পাওয়া যায়নি। আলোচনায় আসার পর তার মানি লন্ডারিং অপরাধের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জাহাঙ্গীর গোদাগাড়ী থানা-পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া তার বাবা নওশাদ আলী ওরফে নওশাদ জামাতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। নওশাদ আলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

জাহাঙ্গীর আলম আগে লোকচক্ষুর আড়ালে আত্মগোপনেই থাকতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর প্রকাশ্যে আসেন। এখন তিনি নিজে অথবা তার বাবা নওশাদ আলী গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হতে চান বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে এসেই মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন জাহাঙ্গীর। মাদক ব্যবসায়ীরা এখন জাহাঙ্গীরকেই টাকা দেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের তুষ্ট রাখার জন্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোদাগাড়ী থানায় ২০০৮ সালের ১২ মার্চ, ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল এবং ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর দায়ের করা তিনটি মাদক মামলা, একটি অস্ত্র মামলা, ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা একটি মাদক মামলা এবং ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর যশোরের কোতয়ালী থানায় করা একটি মাদক মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম। হেরোইন, ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় মামলাগুলো হয়।

জাহাঙ্গীর আলম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকার সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ছত্রছায়ায় থেকে হেরোইনের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বার বার গ্রেপ্তার হলেও জাহাঙ্গীর অল্প কিছু দিন পরই জামিনে বেরিয়ে এসেছেন।

তিনি প্রায় ৩ কোটি টাকায় মাদারপুরে প্রায় দুই বিঘা জমির উপর বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। মাদক ব্যবসাকে আড়াল করার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকায় গরু ও মহিষের খামার করেছেন। তার প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের ছয়টি ট্রাক আছে। রাজশাহী শহরে কিনেছেন ফ্ল্যাট। এছাড়া রাজশাহী নগরের শিরোইল কলোনিতে সাড়ে সাত কাঠা জমিসহ একটি টিনশেড বাড়ি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রান্তিক আবাসিক এলাকায় ৬ কাঠা প্লট কিনেছেন। রয়েছে তিনটি গাড়িও। এর বাইরেও নানা এলাকায় তার অঢেল সম্পদ রয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ডিআইজি স্যার নির্দেশ দিয়েছেন। সার্কেল স্যারের নেতৃত্বে আমরা তার বাড়িতে অভিযানও চালিয়েছি, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।’ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।