বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের দরপতনের নেপথ্যের কারণ?

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:৪১ এএম আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম ৪৯ বার পঠিত
বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের দরপতনের নেপথ্যের কারণ?

বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের দরপতনের নেপথ্যের কারণ?

দৈনিক রাজশাহী
২৪ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে আরও কমেছে স্বর্ণের দাম। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের মুখে পড়লো মূল্যবান এই ধাতু। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জনেই স্বর্ণের বাজারে এ মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স (১ ভরি = ০.৮৫৭ আউন্স) ৪,৫১৫.৮৩ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতেই এর দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ০.৪ শতাংশ। অন্যদিকে, আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫২৩.২০ ডলারে থিতু হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্স-এর বিশ্লেষক রোনা ও'কানেল হরমুজ প্রণালির সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ বিভ্রান্ত। হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার শঙ্কায় সবাই উদ্বিগ্ন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতে, যা শেষ পর্যন্ত সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো ফলপ্রসূ রূপ নেবে না—বিনিয়োগকারীদের এমন ধারণার পর থেকেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।

জ্বালানি বা শক্তির চড়া দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। আর এই লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখতে বাধ্য হয়। স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার নিরাপদ মাধ্যম (সেফ হ্যাভেন) মনে করা হলেও, সুদের হার বাড়লে এই ধাতুর চাহিদা কমে যায়।

সিএমই গ্রুপের ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে—ব্যবসায়ীদের মধ্যে এমন ধারণার হার এখন ৫৮ শতাংশ। এমনকি ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার, যিনি এতদিন সুদের হার কমানোর পক্ষে ছিলেন, তিনিও এখন বলছেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সুদের হার বাড়ানোর পথ খোলা রাখা।

এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, মে মাসে মার্কিন গ্রাহকদের আস্থা রেকর্ডের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ায় এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভার বা রূপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৫.৮৫ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২.৫ শতাংশ কমে ১,৯১৬.৬২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.১ শতাংশ কমে ১,৩৪৯.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি ধাতুর জন্যই সপ্তাহটি লোকসানি হিসেবে শেষ হয়েছে।

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।