অবশেষে চার বছরের ফুটফুটে সুন্দর শিশু হুমায়রা ফিরেছে, তবে নিথর লাশ হয়ে

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ১২:২৮ এএম ২৪ বার পঠিত
অবশেষে চার বছরের ফুটফুটে সুন্দর শিশু হুমায়রা ফিরেছে, তবে নিথর লাশ হয়ে

অবশেষে চার বছরের ফুটফুটে সুন্দর শিশু হুমায়রা ফিরেছে, তবে নিথর লাশ হয়ে

দৈনিক রাজশাহী
১৬ মে ২০২৬

বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর অবশেষে চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাড়ির পাশের একটি খেজুরগাছতলা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশ, পুকুর ও জঙ্গল তল্লাশি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরিবারের টানা ২১ ঘণ্টার অপেক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরেছে চার বছরের ছোট্ট শিশু হুমায়রা, তবে জীবিত নয়, নিথর দেহে! মাত্র চার বছরের একটি ফুটফুটে শিশু কার, কী এমন ক্ষতি করতে পারে? কী অপরাধ ছিল তার? কেন এভাবে থেমে গেল একটি নিষ্পাপ শিশুর হাসি? পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পাশের এক প্রতিবেশী এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

নিহত হুমায়রা জান্নাত উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার ফার্মেসী ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্ত’র মেয়ে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হুমায়রা। ওই সময় তার সমবয়সী আরও কয়েকজন শিশু সেখানে খেলছিল।

এর আগে আজ শনিবার সকালে শিশুটির বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে মেয়ের সন্ধান দিতে পারলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়ির পাশ থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হুমায়রার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘শিশুটিকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। তার ভাষ্য, মেয়ের মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি বলেন, ‘খেজুরগাছের নিচ থেকে যখন মেয়েকে কোলে তুলে নিই, তখন মনে হচ্ছিল তার পুরো শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরী বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুটির শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা ছিল, বাম হাতে কয়েকটি ছোট জখমের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে লাশ ফেলে রেখে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশী তদন্ত চলছে।

 

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।