অনলাইনে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে রাজশাহীতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
অনলাইনে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে রাজশাহীতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
অনলাইনে জেন্ডার সহিংসতা, সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে রাজশাহীতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বোয়ালিয়া ক্লাবে ‘লাইট হাউজ’ এই ক্যাম্পেইন আয়োজন করে।
সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের পরিচালনায় বাস্তবায়িত সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর আওতায় লাইট হাউজের ‘নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে জেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট, নাগরিক সমাজের সংগঠন (সিএসও) এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সংগঠনগুলোর (সিবিও) সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
লাইট হাউজ নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা প্রকল্পের টিম লিডার মো. সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে, অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর সিদ্দিকুল আলম মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) আখতার জাহান সাথী প্রধান অতিথি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তানজিমা জোহুরা হাবিব বিশেষ অতিথি ছিলেন।
এছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবা সুলতানা; সদর সার্কেল পুলিশ পরিদর্শক রওশনারা বেগম; পুলিশ সুপার অফিসের উপপরিদর্শক তামান্না বিনতে কালাম; আসুস নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও; বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. মোস্তফা সরকার; রি-থিংক সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরুল ইসলাম সবুজ; মৌগাছি ইউনিয়নের ধর্মীয় নেতা মুফতি মঈনুল ইসলাম বেলালী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, যুব প্রতিনিধি, ভুক্তভোগী, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার জাহান সাথী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে যে কেউ যেকোনো সময় অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার হয়রানির শিকার হতে পারেন। অনলাইনভিত্তিক জেন্ডার সহিংসতা, সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানির ঘটনা বাড়তে থাকায় নারী, কিশোর-কিশোরীসহ অনেকেই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে লাইট হাউজের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
ক্যাম্পেইনে একজন ভুক্তভোগী অনলাইন সহিংসতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, অনলাইন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষা করে ঘটনাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাঁরা এ ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রচারাভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।