রাজশাহীতে খ্রীস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন
রাজশাহীতে খ্রীস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন
রাজশাহী শহর খ্রীস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সমিতির সদস্যরা। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টায় নগরীর আইডি বাগান পাড়ায় সমিতির অফিসের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জুলিয়ান বিশ্বাস (সদস্য নং-৪২৯), আন্দ্রীয়া বিশ্বাস (সদস্য নং-১০৫৯) ও শিরিল মুর্মু (সদস্য নং-১০০৯) প্রমুখ। পরে তারা সমিতির চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসক বরাবরে অীভযোগ সম্বলিত পৃথক স্মারকলিপি দেন।
মানববন্ধন ও স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে খ্রীস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন শূন্য তহবিল নিয়ে গঠিত। বর্তমানে সমিতির আমানত প্রায় ১৬ কোটি টাকা। সদস্যদের এই টাকার প্রতি পরিচালক মন্ডলীর নজর পড়েছে। সমিতির সদস্যদের জমানতের অর্থ নয়ছয়, লেনদেনে অনিয়ম, তহবিল অপব্যবহার, অফিসের অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও জাল সনদধারী ম্যানেজার নিয়োগ, অডিট প্রতিবেদন টেম্পারিং উপস্থাপন করে প্রতারণা করেছেন। এসব কর্মকান্ড সমিতির সুনাম ক্ষুন্ন এবং সদস্যদের স্বার্থের হুমকি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এনিয়ে সমিতির ১৮১৭ জন শেয়ার এবং ৩৫১৩ জন সঞ্চয়ী সদস্যের মাঝে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সদস্যরা বলছেন, সমিতির অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে পরিচালক মন্ডলীর সকল সদস্য জড়িত। এর মধ্যে চেয়ারম্যান মি. বৈদ্যনাথ হাঁসদা, ভাইস চেয়ারম্যান মি. জন সুবোধ টুডু, সেক্রেটারী মি. সুবাস মারান্ডী, ট্রেজারার মি. বাপ্পী বাস্কে, বোর্ড সদস্য মি. পলাশ বিশ্বাস ও মিসেস সবিতা টুড়; ঋণ মঞ্জুর কমিটির সভাপতি মি. বাবুলাল মারান্ডী, সম্পাদক মিসেস রেজিনা বিশ্বাস, সদস্য মি. স্বপন হেম্ব্রম; পর্যবেক্ষণ কমিটির সভাপতি মিসেস কেরিনা মার্ডী, সম্পাদক মি. জন রাজু মারান্ডী ও সদস্য মিসেস রজনী হাঁসদা।
তাদের অপকর্মে সহায়তা দিচ্ছেন সমিতির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মি: নরেন্দ্র নাথ টুডু, মি. মার্সেল ডি কস্তা ও মিসেস মঞ্জু বিশ্বাস এবং সাবেক ট্রেজারার মি. ফুলজেন সিউস মারান্ডী। ভুক্তভোগীরা উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দূর্নীতিগ্রস্ত সকল পরিচালক মন্ডলীর পদত্যাগ, এডহক কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচন ও নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জামানতকারিদের লভ্যাংশসহ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া ও হিসেবে গরমিলের টাকা সমিতির কোষাগারে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
সমিতির পরিচালক মন্ডলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি মিঃ বৈদ্যনাথ হাঁসদা বলেন, বর্তমান সভাপতি মন্ডলীর সকল সদস্য সদস্য প্রতিষ্ঠানটির ও সকল সদস্যদের প্রতি তারা আন্তরিক। তাদের প্রতি আনিত অভিযোগ গুলো অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তবে তিনি বলেন, সম্প্রতি মিঃ রাফায়েল টুডু নামের একজন ফিল্ড অফিসার (ঋণ) কাম কম্পিউটার অপারেটর কিছু সদস্যের জামানত মেমো ঘষামাজা (টেম্পারিং) করেন। বিষয়টি জানার পর বোর্ড সদস্যারা তদন্ত করে সত্যতা পান এবং জড়িত ব্যক্তির নিকট থেকে সমিতির নিয়ম অনুযায়ি আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ের চেস্টা করা হচ্ছে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জামানতকারির অর্থ জমার পাশবই পরীক্ষা নিরীক্ষা সাপেক্ষে সমুদয় অর্থ সমিতি পরিশোধ করবে।