সওজের তানোর ও মোহনপুর উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়কটি যেনো মরণ ফাঁদ: খান্দাখন্দে দুর্ভোগ চরমে
সওজের তানোর ও মোহনপুর উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়কটি যেনো মরণ ফাঁদ: খান্দাখন্দে দুর্ভোগ চরমে
রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তানোর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত মাত্র ১২ কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ও অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে সড়কটি বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কাশেম বাজার থেকে মোহনপুর থানার গেট পর্যন্ত। এর মধ্যে মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মসজিদ থেকে পূর্ব দিকের রাস্তার অংশটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।
সরজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ১ বছর ধরে তানোর-বায়া সড়কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই সংযোগ সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন ও ভারী গাড়ির চাপ বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু সড়কটির আশপাশের বাড়িঘর রাস্তা থেকে উঁচুতে থাকায় এবং দুইপাশে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা। ট্রাক চালক মোতালেব হোসেন বলেন, পানির নিচে সড়কের বড় বড় গর্ত ডুবে থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
অটোচালক সুলতান আহম্মেদ বলেন, অটোরিকশা ও অটোভ্যান, রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য এই পথ দিয়ে চলাচল করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা উচিৎ বলে জানান তিনি।
স্থানীয় আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন আগে ১২ ফুটের নির্মিত সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়কটি দীর্ঘদিনেও প্রশস্থ করেনি। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে খান্দাখন্দ ও জলাশয়ের মত সড়ককে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়োবৃদ্ধদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটির কার্পেটিং ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে খানাখন্দের আকার দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। এই সড়কটি প্রশস্থ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সংযোগ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। জনস্বার্থে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে রাস্তাটির পুনর্নির্মাণ ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবেন এমন দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজশাহী নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক বলেন, বিষয়টি কেউ আমাকে অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।