রামেক হাসপাতালে হামের পর ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পিএম ১ বার পঠিত
রামেক হাসপাতালে হামের পর ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

রামেক হাসপাতালে হামের পর ডেঙ্গু আক্রান্ত দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

দৈনিক রাজশাহী
০৬ জুন ২০২৬

হামের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেড় বছরের এক তাইবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক। বাবা-মা তাদের একমাত্র সন্তানের সুচিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে ছুটে আসেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুকে বরণকরে শিশুটি। হাম নিয়ে লড়াইয়ের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাইবা মারা যায়। 

জানা গেছে, মে মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশি নিয়ে তাইবাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি উঠলে চিকিৎসকেরা তার হাম শনাক্ত করেন। প্রায় ১২ দিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে। কিন্তু ২৭ মে শিশুটির আবার জ্বর ও কাশি হলে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২৯ মে রাতে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালে ভর্তির পরদিন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ৩১ মে রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া তৃতীয় ডেঙ্গু রোগী ছিল শিশুটি। অবস্থার উন্নতি হলে বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তবে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর শিশুটির আবার জ্বরসহ শারীরীক জটিলতা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার তাকে পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে যা কিছু করার দরকার ছিল, সব করেছি। উন্নত চিকিৎসার আশায় কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহীতে এনেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো গেল না। তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। তার দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আইসিইউতে ভর্তির পর শিশুটির শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা অনেক বেশি এবং প্লাটিলেট কম পাওয়া যায়। পরে ডেঙ্গু পজিটিভ আসলে চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। অবস্থার উন্নতি ও অক্সিজেনের প্রয়োজন না থাকায় তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে কেন আবার অবনতি হলো, তা স্পষ্ট নয়। পরে তাকে আবার আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে এ নিয়ে রামেক হাসপাতালে তিনজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন ২/১ জন ডেঙ্গু রোগী আসছে। সংখ্যা বাড়লে পৃথক ডেঙ্গু কর্নার চালুর প্রস্তুতি চলছে।

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।