পবা উপজেলা শ্রমিক দলের কর্মীসভায় এমপি মিলন

বিএনপি কোনভাবেই জুলাই সনদের অবমাননা করবে না

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম ৩৩ বার পঠিত
বিএনপি কোনভাবেই জুলাই সনদের অবমাননা করবে না

বিএনপি কোনভাবেই জুলাই সনদের অবমাননা করবে না

দৈনিক রাজশাহী
২৫ মে ২০২৬

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল পবা উপজেলা শাখার কর্মীসভা আজ সোমবার বিকেলে খিরশিন মডেল হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

সভায় তিনি বলেন, বিএনপি সর্বদা জনগণের দল। সেজন্য জনগণের পাশেই থাকে। দেশে একটি স্বৈরাচার সরকারের উদয় হয়েছিলো। পতিত ঐ সরকার দেশের জনগণের  উপর জগদ্দল পাথরের ন্যায় বসে গিয়েছিলো। ঐ দলের নেত্রী যা বলতেন তাই হতো। গণগন্ত্র বিনষ্ট করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো। বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ এই সরকারকে বিতারিত করতে দীর্ঘ সতের বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে বহু নেতা নিহত, আহত ও গুম হয়েছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর জুলাই সনদ হয়েছে। এই জুলাই সনদে চুরাশিটি দফা উল্লেখ করা হলেও বিএনপি মাত্র তেত্রিশটিতে স্বাক্ষর করেছে। এই স্বাক্ষরিত দফা নিয়ে বিএনপি সর্বদা কাজ করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন। তাঁর দেয়া ঘোষনার মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশ নামে একটি ভূখন্ড হয়।

এমপি বলেন, পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে তিনি এই ঘোষণা দেন। সে সময়ে তিনি তাঁর পরিবারের কথা ভাবেননি। এরপর বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে ষ্টিমার করে দেশে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় আসলে পাকিস্তানী আর্মিরা তাঁকে আটক করেন। এরপর থেকে শুরু হয় বন্দি জীবন। দেশের জন্য তিনি আটক হওয়া এবং কোন প্রকার আপস না করার কারনে বেগম জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হন। এরপর তিনি এক সময়ে দেশেল হাল ধরেন।

তিনি আরো বলেন, তিনবারের সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিরনা কারণে জেলে পাঠিয়ে স্লো পয়জনিং এর মাধ্যমে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিলো। শুধু তাই নয় তাঁর দুই সন্তানকে আটক করে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছিলো সে সময়ে। এরপরেও তিনি দমে যাননি এবং দেশ ছেড়ে পালাননি। তিনি সর্বদা বলতেন তাঁর সন্তান শুধু দুইট নয়। পুরো দেশবাসী তাঁর সন্তান। এজন্য তাঁকে দেশনেত্রী বলা হয। আর বিদেশীরা বলে মাদার অব ডেমোক্রেসি।

তিনি বলেন, তাঁদেরই সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান এখন দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি সকাল ৯টা থেকে রাত অবধি দেশের কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর এই কাজ নিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র । একটি গুপ্ত দল সর্বদা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তারা ভন্ডামী করে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। এই মিথ্যাচারে বিভ্রান্তি না হওয়ার জন্য নারী ও পুরুষ ভোটারদের অনুরোধ করেন তিনি। সেইসাথে আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়েই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শ্রমিক দলে প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি ত্যাগী ও একনিষ্ট নেতাদের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করার পরামর্শ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।    

পবা উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আতউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব গাজিউর রহমান গাজল’র সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রমিকদলের জেলার সভাপতি রুকুনুজ্জামান আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তোতা।

এ ছাড়া পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতার আহমেদ ও আব্দুল হালিম, হুজরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সিহাব উদ্দিন, সদস্য সচিব মোতাহার আলী, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক কনক, কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হক, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য  মাজদার আলী ও মহানগর শ্রমিক দলনেতা তাকাদ্দুস কাজলসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শ্রমিকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।  

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।