তানোরে আউশ ধানের মন ৬০০ টাকা: কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ এএম আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম ৮ বার পঠিত
তানোরে আউশ ধানের মন ৬০০ টাকা: কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ

তানোরে আউশ ধানের মন ৬০০ টাকা: কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ

দৈনিক রাজশাহী
০৩ অক্টো ২০২৬

কৃষি প্রধান রাজশাহীর তানোরে আঊশ ধানের দাম কমতে কমতে এবার ৬০০ টাকা মন (২৮ কেজি) বিক্রি হচ্ছে। চলতি আউশ মৌসুমে ধানের চাষাবাদ করে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কোনভাবেই উঠছেনা উৎপাদন খরচ। আবার চাষাবাদের জন্য সব কিছুর বাড়তি দাম। ফলে নিরব দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিন যাপন করছেন কৃষকরা।

এলাকাবাসী জানা য়, তানোর পৌর এলাকার রহিমা ডাংগার ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে আউশ ধান আবাদ করেছেন এলাকার কৃষকরা। প্রতি বছরই আউশ ধানের আবাদ করেন তারা। আউশ ধান কাটার পর আগাম আলু রোপন করেন চাষিরা। কিন্তু বিগত সময়ের চেয়ে এবার আঊশ ধানের দাম অনেক কম।

বরুজ গ্রামের তরুন কৃষক জুয়েল আক্ষেপ করে বলেন, চাষাবাদ আমাদের জীবনে অভিশপ্ত হয়ে পড়েছে। রহিমা ডাংগায় ৭ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষাবাদ করেছিলাম। সেভেন ও ছিয়াত্তর জাতের ধান রোপন করি। ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু দাম নেই। একটু কাঁচা ধান এজন্য কেউ নিতেই চাচ্ছে না। বস্তা ঠিকা বা ৬০০ টাকা মন ধান বিক্রি করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিঘায় ১৮ থেকে ১৯ মন ধান হয়েছে। মেশিনে কাটা মাড়ায় করা হয়েছে। রহিমা ডাংগায় বেশির ভাগ কৃষকরা লীজ নিয়ে আবাদ করে থাকেন। কারন তারাই আবার আলু চাষাবাদ করেন। এক বিঘা জমি ১২ হাজার টাকায় লীজ নিতে হয়। এক বিঘা জমি রোপন থেকে কাটার আগ পর্যন্ত ৯ হাজার থেকে  ১০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাটা মাড়াই ৪ হাজার টাকা। জমি থেকে রাস্তা, রাস্তা থেকে বাড়িতে আনতে বাড়তি গাড়ি ভাড়া। তেলের দাম বাড়তির কারনে ভাড়া হয়েছে দ্বিগুণ। বিঘায় খরচ ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। বিঘায় ১৮ মন ধানের দাম ৬ শত টাকা মন হলে ১০ হাজার ৮০০ টাকা আসে। লোকসান ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। লীজের টাকা ধরা হলে বিঘায় ২ হাজার টাকা করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এক মৌসুমের লোকসান তুলতে কয়েক মৌসুম চাষ করা লাগে। জয়নাল নামের কৃষক ৫ বিঘা ও সবুজ নামের কৃষকের ৯ বিঘা, ভবেশ ৫ বিঘা, মইনুল সাড়ে ৫ বিঘা রহিমা ডাংগার জমিতে আউশ  ধানের চাষ করে লোকসান গুণছেন। 

ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, ধান চাষের সার কীটনাশকের বাড়তি দাম। অথচ ধানের দাম ৬০০ টাকা মন। যা আগে কখনো হয়নি। প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়লেও ধানের দাম কমছে। এছাড়া ধান কাটার সময় দাম সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেয়া হয়।

কৃষকেরা জানান, এ উপজেলা কৃষি প্রধান হিসেবে ধরা হয়। কৃষি আবাদে চলে সংসার ও জীবন জীবিকা। সেই কৃষিতে ধস নেমেছে। বর্তমানে রোপা আমন ধান মাঠে রয়েছে। কিন্তু এখনই বাজারে ধানের দাম না থাকায় চাষীদের ঘরে ঘরে হতাশা বিরাজ করছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন যাপন করছে নিম্ম ও নিম্ম মধ্যবৃত্ত কৃষকরা।

তারা না পারছে চাইতে না পারছে সইতে। কারণ ধান তাদের সারা বছরের খোরাক জোগায়। সেই ধানের এ দুরাবস্থা। আশি নব্বই দশকে শোনা যেতে কার্তিক মাস মানে চরম অভাব অনাটন আর ঘরেঘরে দূর্ভীক্ষ। কয়েক বছর ধরে সেই কার্তিক মাসের দূর্ভীক্ষ ও অভাব অনাটনে পড়েছে কৃষকরা।

এদিকে কৃষকরা চরমকষ্টে দিন পার করলেও চাকুরীজীবিদের বেতন বাড়ছেই। একদিকে কৃষক মরছে। অন্যদিকে চাকুরীজীবিরা আরামে দিন যাপন করছেন। অথচ এই পা ফাটা কৃষকরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছেন। কৃষকরা চাষাবাদ করে বলেই তো খাবার পাওয়া যাচ্ছে। সেই খাদ্য যোদ্ধারা খাদ্যভাবে দিন কাটাচ্ছে। অথচ কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করার দায়িত্ব কৃষি বিপণন বিভাগের। কিন্তু তারা উদাসীন।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে কৃষি বিপণন বিভাগ। আর কৃষি দপ্তর চাষাবাদ কিভাবে হবে, কিভাবে রোগবালা দূর হবে এসব নিয়ে কাজ করা হয়। কৃষি পন্যের দাম নিয়ে তাদের কিছুই করার নেই। এবছর তানোর উপজেলায় ৮ হাজার ৫শ' ৭৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।